রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রিমান্ড শেষে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) আট কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাগীব নূরের আদালত এই আদেশ দেন।
বিদ্যুৎ খাত অস্থিতিশীল করার অভিযোগে রাজধানীর খিলক্ষেত থানার মামলায় আদালত এই আদেশ দেন।
এই মামলায় রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
আসামিদের আইনজীবী তদন্ত কর্মকর্তার এই আবেদনের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর পক্ষে শুনানি করেন। সব পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিরা হলেন মুন্সীগঞ্জের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রাজন কুমার দাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া, কুমিল্লার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার দীপক কুমার সিংহ, মাগুরার শ্রীপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রাহাত, নেত্রকোনার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মনির হোসেন, সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর বেলাল হোসেন, লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আলী হাসান মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (৪৮) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (আইটি) এস কে শাকিল আহমেদ (৩১)।
এর আগে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক প্রশাসন (আইন শাখা) আরশাদ হোসেন গত ১৭ অক্টোবর এই মামলা করেন। বিদ্যুৎ খাত অস্থিতিশীল করার অভিযোগে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় এই মামলা করেন তিনি। এতে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী একত্রিত হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি পরিচয়ে পরস্পর যোগসাজশে জরুরি সেবা বিদ্যুৎ খাত অস্থিতিশীল করার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে এবং বিগত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালীদের মদতে নানা অযৌক্তিক দাবি-দাওয়ার ষড়যন্ত্র করে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছেন। বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে লিপ্ত আছেন। তাদের এ ধরনের কার্যকলাপ ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারকে চরমভাবে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার শামিল। তাদের এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, বোর্ডের কর্মকর্তাদের সম্মানহানি এবং বিদ্যুৎব্যবস্থা অচল করে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতা তথা জনমনে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে চরমভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা, যা দেশদ্রোহের শামিল।