একাত্তরের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান আর ইসলামাবাদ বা রাওয়ালপিন্ডির নির্দেশে চলছিল না। ১২ মার্চ দেশজুড়ে গণজোয়ার প্রমাণ করে দেয়, এদেশের মানুষ কেবল স্বায়ত্তশাসন নয়, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটি তখন কার্যত শাসনকেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। বাংলার প্রতিটি ঘর তখন এক দুর্নিবার সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। ঢাকাসহ সারা বাংলায় আজ মুক্তিপাগল মানুষের স্লোগানে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত।
একাত্তরের ১২ মার্চের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সিদ্ধান্ত। সরকারি কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ঘোষণা করে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। ফলে পাকিস্তানি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ভেঙে পড়ে।
সেদিন ঢাকার রাজপথে নেমে আসেন কবি, সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র শিল্পীরা। তারা ঘোষণা করেন, যতদিন স্বাধীনতা না আসবে, ততদিন তারা কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না এবং পাকিস্তানি বেতার-টেলিভিশন বর্জন করবেন।
একাত্তরের ১২ মার্চ ময়মনসিংহে এক বিশাল জনসভায় ন্যাপ নেতা মওলানা ভাসানী ঘোষণা করেন, ‘সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির দাবি মানা না হলে অচিরেই স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা লাল ফৌজের হাতে উড়ে যাবে।’
তখন বেশ কিছু শহরে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা সান্ধ্য আইন (কারফিউ) বলবৎ রাখলেও ছাত্র-জনতা তা ভেঙে রাজপথে অবস্থান নেয়। পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে আহত ও নিহতদের স্মরণে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয় বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়।