ঈদের আগে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে জিম্মি থাকা ২৩ নাবিকের ঘরে ফেরার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। জাহাজের মালিকপক্ষের শত চেষ্টার মধ্যেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না নাবিকদের। জলদস্যুদের সঙ্গে রফা করার বিষয়টি অনেকটা চূড়ান্ত হলেও টেকনিক্যাল কিছু সমস্যার কারণে অর্থ পৌঁছানো যাচ্ছে না নাবিকদের কাছে। তবে রোজার ঈদের পর বিষয়টি সুরাহা হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, বর্তমানে দুবাই হয়ে নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার একটি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। মূলত সেই পথেই দুবাই হয়ে বিমানে দেশে আসবে নাবিকরা। এরমধ্যে কোন ধরণের তৃতীয় পক্ষ ছাড়াই জলদস্যুদের সঙ্গে দর কষাকষি শেষ হয়েছে মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের। তবে জলদস্যুদের কাছে ডলার পৌঁছানোর প্রক্রিয়াতে কিছুটা ঘাপলা থেকে যাওয়ায় মালিকপক্ষ সামনে এগুচ্ছেন না। অনেকটা ধীরগতিতে এগিয়ে ঈদের পরেই সমস্যা সমাধান করতে চান।
এদিকে গত সপ্তাহ থেকে জিম্মি জাহাজে খাবার ও পানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছিল। ছাগল ও দুম্বার তেহেরি রান্নার মাধ্যমে খাবার সংকট কিছুটা দূর করা গেলেও গোসলের পানির চরম সংকটে রয়েছেন নাবিকরা।
এ বিষয়ে গত ২০ মার্চ থেকে জলদস্যু এবং এমবি আবদুল্লাহর মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা হচ্ছে উল্লেখ করে কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, নাবিকদের রোজার আগে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে এখন সময় আরও বেশি লাগতে পারে। তবে আমরা আশা করছি ঈদের পর নাবিকরা সুস্থভাবে ফিরে আসবে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ থেকে সোমালিয়ার উপকূলে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও ২৩ নাবিককে জিম্মি করে রাখে জলদস্যুরা। মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাইয়ে যাওয়ার পথে জলদস্যুদের কবলে পড়ে এ জাহাজ।
আবদুস সাত্তার/এমএ/