‘যেভাবে ইসরায়েল নিজেকে ভিক্টিম হিসেবে উপস্থাপন করে, আওয়ামী লীগও নিজেকে ভিক্টিম হিসেবে দেখে। তারা পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের বিচার করে ফেলেছে, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের নামে ২০১৩ সালে বিচার করেছে। তার পরও তাদের প্রতিশোধের মনস্তত্ত্ব যায়নি।’
শনিবার (২৬ অক্টোবর) অভ্যুত্থান পর্যালোচনা প্ল্যাটফর্ম ‘জুলাই গণপরিসর’-এর আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে ‘ফ্যাসিবাদের বয়ান বনাম গণমানুষের গণমাধ্যম’ শীর্ষক সভায় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ একা চলতে পারে না। ফ্যাসিবাদ জোট গঠন করে। ফ্যাসিবাদ তার অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করতে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে।’
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলদেশে ফ্যাসিজম আসার অন্যতম কারণ সাংবাদিকতার ব্যর্থতা এবং নিম্নমানের সাংবাদিকতা। এত এত ঘটনা কিন্তু ভালো কোনো রিপোর্ট নেই। বিগত সময়ে প্রেস অফিসের কাজ ছিল একটা সার্ভেলেন্স অ্যাজেন্সির মতো। তাদের কাজ ছিল কীভাবে নিউজ কিল করা যায়৷ নিপীড়নমূলক আইন তো ছিলই। আমি চাই ওপেন প্ল্যাটফর্ম থাকবে, যেখানে সব সাংবাদিক এসে তাদের মনের কথাগুলো বলবে। আমরা চাই, দেশে গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হোক।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবির।
তিনি বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে ফ্যাসিবাদের শুরু হয়নি, ১৯৭২ সাল থেকে এটি শুরু হয়েছে। এই ইতিহাস জানতে হবে। গণমাধ্যমের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গণমাধ্যম শুধু যে সরকার ও রাষ্ট্রের দাসত্ব করেছে এটি সত্য নয়, এই সরকারের বিরুদ্ধে যতগুলো অভিযোগ এসেছে তার শতকরা ৯০ শতাংশ পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জনগণ জানতে পেরেছেন।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, ‘তিন-তিনটি প্রহসনমূলক নির্বাচনকে বৈধ করতে এবং জনগণের দৃষ্টিকে অন্যত্র সরাতে ফ্যাসিস্ট রেজিমকে বিস্তর ডিসকোর্স তৈরি করে তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসাধারণের মাঝে তা ছড়িয়ে দিতে হয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় সব গণমাধ্যমই হয়ে উঠেছে সরকারি মুখপত্র। পেশাদারিত্বের মানদণ্ডে এগিয়ে থাকা প্রথম আলোর মতো পত্রিকাকেও শেখ হাসনিার জন্মদিনে প্রথম পৃষ্ঠাজুড়ে কাভারেজ দিতে দেখা গেছে। টিকে থাকার স্বার্থে কিংবা লোভের বশবর্তী হয়ে সরকার যা চায়, যেভাবে চায়, গণমাধ্যম তাই তাই করে গেছে।’
এ ছাড়াও ফ্যাসিজম সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিজম নানাভাবে আসতে পারে। এটা যে আবার আসবে না, তার তো গ্যারান্টি নেই।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুবুল আলম, ডেইলি স্টার বাংলার সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা এবং প্রথম আলো ইংরেজি বিভাগের প্রধান আয়েশা কবির।
আরিফ/সুমন বিশ্বাস/অমিয়/