দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য ও সর্বজনীন করা, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমকে স্বাধীন শক্তিশালী ও বস্তুনিষ্ঠ করা এবং শ্রম অধিকার ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৫টি সংস্কার কমিশন গঠন করছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) এই পাঁচ সংস্কার কমিশন গঠন করার সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন গঠন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে ‘স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর তোফায়েল আহমেদ হবেন এই কমিশনের প্রধান।
কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন প্রফেসর ড. ফেরদৌস আরফিনা ওসমান, সাবেক চেয়ারম্যান লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; এ এম এম নাসির উদ্দিন, সাবেক সচিব; আবদুর রহমান, আইনজীবী সুপ্রিমকোর্ট; ড. মাহফুজ কবির, পরিচালক বিআইএসএস; মাসুদা খাতুন শেফালী, নির্বাহী পরিচালক নারী উদ্যোগ কেন্দ্র; প্রফেসর ড. মো. তারিকুল ইসলাম, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন গঠন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য শিরীন পারভিন হককে প্রধান করে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন গঠন করেছে সরকার।
সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে এ কমিশন। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ফেলো মাহীন সুলতান; বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন; বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফৌজিয়া করিম ফিরোজ; বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্পশ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কল্পনা আক্তার; নারী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হালিদা হানুম আক্তার; বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম; জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান; এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র সামাজিক উন্নয়ন উপদেষ্টা ফেরদৌসী সুলতানা এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিশিতা জামান নিহা।
১১ সদস্যবিশিষ্ট গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইং জানায়, সাংবাদিক কামাল আহমেদকে এই কমিশনের প্রধান করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে স্বাধীন শক্তিশালী ও বস্তুনিষ্ঠ করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব করবে এই কমিশন।
কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিয়ারা নাসরিন; দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি শামসুল হক জাহিদ; নিউজপেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সচিব আখতার হোসেন খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ; যমুনা টেলিভিশনের নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের ট্রাস্টি ফাহিম আহমেদ; মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ও আহ্বায়ক জিমি আমির; দ্য ডেইলি স্টারের বগুড়া জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা সবুজ; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর টিটু দত্ত গুপ্ত এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
শ্রম অধিকার ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে ‘শ্রম সংস্কার কমিশন’ গঠনের কথা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বলা হয়েছে, বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদকে কমিশনের প্রধান করে ১০ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের (শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ) সাবেক সচিব ড. মাহফুজুল হক; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ) অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন; বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি তপন দত্ত; বাংলাদেশ লেবার কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম নাসিম; বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ম. কামরান টি রহমান; বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি চৌধুরী আশিকুল আলম; বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাকিল আখতার চৌধুরী; আলোকচিত্রী ও শ্রমিক আন্দোলন সংগঠক তাসলিমা আখতার এবং একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।
এই কমিশন গঠন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য এবং সর্বজনীন করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে।
কমিশনের প্রধান করা হয়েছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) সভাপতি প্রফেসর এ কে আজাদ খানকে।
এই সংস্কার কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য ইনফরমেটিভ অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পথিকৃৎ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর লিয়াকত আলী, গাইনোকোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার, শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. নায়লা জামান খান; সাবেক সচিব এম এল রেজা; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক; আইসিডিডিআরবির ড. আজহারুল ইসলাম; স্কয়ার হাসপাতালের স্কয়ার ক্যানসার সেন্টারের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ আকরাম হোসেন; গ্রিন লাইফ সেন্টার ফর রিউম্যাটিক কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক; আইসিডিডিআরবির শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য বিভাগের বিজ্ঞানী ডাক্তার আহম্মেদ এহসানুর রহমান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী উমায়ের আফিফ।
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নতুন এসব কমিশনের কার্যপরিধির বিষয়ে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্কার কমিশনগুলো নিজ নিজ কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা এবং তাদের মতামত বিবেচনা করে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রস্তাব সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করবে।