বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মানবাধিকার আইনজীবী ও প্রত্যর্পণ বিশেষজ্ঞ, লন্ডনভিত্তিক ল’ ফার্ম গার্নিকা ৩৭ গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও গার্নিকা ৩৭ চেম্বারসের যুগ্ম প্রধান টবি ক্যাডম্যানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ নভেম্বর) রাতে টবি ক্যাডম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এক্সে পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমি এ ঘোষণা দিতে পেরে আনন্দিত ও খুবই সম্মানিত বোধ করছি যে, আমাকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন স্পেশাল প্রসিকিউটর অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এখনো চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় বা সরকারের সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য জানা যায়নি।
তবে ১৮ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, এক বিচারপতি ও সচিবসহ ১৪ জন আসামির শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়ে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া ১৯ নভেম্বর আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলও আইন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে টবি ক্যাডম্যান অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশে আসতে চাইলেও তাকে আসতে দেওয়া হয়নি।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর টবি ক্যাডম্যান বাংলাদেশে এসে ২ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার কাছে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে ক্যাডম্যান বলেন, তিনি রাজনৈতিক দুর্নীতি, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং অর্থনৈতিক অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের প্রত্যর্পণের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করতে বাংলাদেশকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।
প্রধান উপদেষ্টা তার প্রস্তাব শুনে তাকে লিখিতভাবে দাখিল করতে বলেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিদেশে পাচার হওয়া শতকোটি ডলার দেশে ফিরিয়ে আনা।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ক্যাডম্যানকে বলেন, ‘বাংলাদেশকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য একটি কার্যকর অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সূত্র: বাসস
মেহেদী/অমিয়/