ভারতের সঙ্গে করা সব চুক্তি উন্মোচন এবং অসম ও পরিবেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করাসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে নাগরিক কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। লিখিত বক্তব্যের বাকি অংশ পাঠ করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তাদের অন্য দাবিগুলো হলো: ১. ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বহমান নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। ২. দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। ৩. গত ১৫ বছরে হিন্দু, বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও ভূমি দখলের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ৪. পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য স্পষ্ট ভূমিকা নিতে হবে। ৫. অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
আখতার হোসেন বলেন, ‘এসব দাবি নিয়ে বিজয়ের মাসজুড়ে কর্মসূচি পালন করবে জাতীয় নাগরিক কমিটি।’
এ সময় ভারতের উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘ভারত থেকে যদি কোনো উসকানি দেওয়া হয় বা মেসেজ দেওয়া হয়, তাহলে আমরা যেন ধৈর্য ধারণ করি। এ জন্য শিক্ষার্থীসহ দেশের প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সতর্ক থাকতে হবে।’
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে ভারতকে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানেুষকে যদি আপনারা অনধিকার চর্চায় ঠেলে দেন, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায় মধ্যে বর্তমান যে শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে, সে ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।’
এ সময় তিনি ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের হাইকমিশন ভবনে হামলার নিন্দা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে সংবিধান সংস্কার কমিটিকে ৫৯ দফা প্রস্তাবনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা ৫৯ দফার প্রস্তাবনা তৈরি করেছি। সেটি মঙ্গলবার সংসদে সংবিধান সংস্কার কমিটির কাছে জমা দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট গণরায়ের মাধ্যমে বর্তমান সংবিধান বাতিল হয়ে গেছে। এই সংবিধান আমরা এখন মানি না। ভবিষ্যতও মানব না। কারণ এই সংবিধান ফ্যাসিবাদের সংবিধান।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মুখপাত্র সামান্তা শারমিনসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা।