এবারের বিজয় দিবস উদযাপনকে আরও উৎসবমুখর করার জন্য সারা দেশে কুচকাওয়াজের পরিবর্তে বিজয় মেলার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সংবাদ সংস্থা ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারুক ই আজম বলেন, ‘এবার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ হবে না। কারণ সেনাবাহিনী বর্তমানে সারাদেশে ব্যস্ত এবং এ ধরনের আয়োজনের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘আগে যে কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হতো, তাতে জনগণের তেমন সম্পৃক্ততা ছিল না। কুচকাওয়াজে সাধারণত স্কাউট, স্বেচ্ছাসেবক এবং বাহিনীর সদস্যরা থাকতেন, কিন্তু জনগণ সরাসরি অংশগ্রহণ করত না। এবার বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শিশু, নারী, পুরুষসহ সব শ্রেণির জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘বিজয় দিবস আমাদের জাতির জন্য এক অনন্য দিন। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধের পর আমরা এই বিজয় অর্জন করেছি। সারা দেশেই মানুষ যুদ্ধে সম্পৃক্ত ছিল এবং এক সময় গ্রামে গ্রামে বিজয় উৎসব হতো। তবে ধীরে ধীরে এটি কমে গেছে। এবার থেকে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিজয় মেলায় চারু ও কারুশিল্প, কৃষিপণ্য এবং দেশীয় পণ্য প্রদর্শিত হবে। মেলায় শিশু, নারী, পুরুষ সবার অংশগ্রহণ থাকবে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হবে। স্কুলগুলোতেও অনুষ্ঠান হবে, যাতে সবাই আনন্দ উপভোগ করতে পারে।’
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আগে যেখানে প্রোগ্রামে যোগ দিতেন, এবার সে ধরনের কোনো অনুষ্ঠান হবে না বলে জানান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে এবং ঢাকায় জেলা প্রশাসন তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।’
ফারুক ই আজম বলেন, ‘এবার প্রশাসন কুচকাওয়াজের আয়োজন না করে বিজয় মেলার আয়োজন করবে, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাসহ সব স্থানীয় মানুষ অংশগ্রহণ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ ছাড়া, ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে যাবেন এবং পরে রায়ের বাজারে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।’
তাওফিক/অমিয়/