ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ৪টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন এমপি আমির হামজা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় পরিবর্তন আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক নিশ্চিত আশ্রয় ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে দুর্নীতি বিরোধী চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা মিরপুরে মাদরাসার সাইনবোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৩ ইংল্যান্ড দলের চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার জাপানিজ সমর্থকরা কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন? জামালপুরে মানববন্ধনে শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কার্যালয়ে হামলা-দখলের নিন্দা, শাস্তির দাবি আইএসপিএবির টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাদকের আখড়া মুন্সীগঞ্জে স্কুলছাত্রী ও তার মাকে হত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১ এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ ফরিদপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার
Nagad desktop

পৌষের শীতে কাঁপছে দেশ

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:০০ এএম
পৌষের শীতে কাঁপছে দেশ
শৈত্যপ্রবাহে নাকাল রাজধানীসহ সারা দেশের জনজীবন। তাই রাস্তার পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে একটু উষ্ণতার পরশ। ছবি: মাসুদ মিলন

পৌষের শীতে কাঁপছে সারা দেশ। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দেশের অনেক জেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি। উত্তরবঙ্গের কোনো কোনো জেলায় শীত আর হিমেল বাতাসে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজধানীতেও ছিল কুয়াশা আর হিমেল বাতাস। চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে দেশে একটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম।

এদিকে আবহাওয়া অফিস বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি এবং দিনের তাপমাত্রা (১-৩) ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দেশের কোথাও কোথাও দিনেও তীব্র শীত অনুভূত হবে।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগামী ১০ জানুয়ারির কাছাকাছি সময়ে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে একটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। এ সময়ে রাজধানীতেও শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।’

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস।

জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যায়, অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাহিল হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা। খুব প্রয়োজন না হলে মানুষ সকালে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। 

চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক রকিবুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রার পারদ আরও কমবে।

গাইবান্ধা: দেশের উত্তরের জেলা গাইবান্ধায় বইছে হিমেল হাওয়া। শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কুয়াশায় ছেয়ে থাকছে চারপাশ। দুপুরে একটু কুয়াশা হালকা হলেও বিকেলের পর ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় জনপদ। তিন দিন থেকে দেখা নেই সূর্যের। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। গত এক সপ্তাহ থেকে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১-১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। এদিকে শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে রয়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। এদের মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বর ও অ্যাজমায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। 

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতিদিনই গাইবান্ধা জেলার তাপমাত্রা কমে আসছে। আজ চলতি শীত মৌসুমের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ জেলায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তীব্র ঠাণ্ডা আরও দুই থেকে তিন দিন থাকতে পারে।

সিরাজগঞ্জ: গত দুই দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডায় উত্তরের জনপদ সিরাজগঞ্জে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মানুষ। বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলিসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। অপরদিকে তাড়াশে আবহাওয়া অধিদপ্তর রেকর্ড করেছে ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঘন কুয়াশার কারণে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে দিনের বেলাতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। রাতের বেলায় ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। 

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল জেলার পশ্চিমের চরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি এলাকায় সবচেয়ে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা কমতে থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া অফিস। গত দুই দিন জেলায় সূর্যের দেখা মেলেনি। উত্তরের কনকনে হিমেল হাওয়ার কারণে জেলায় প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যার পরে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

সিলেট: ঘন কুয়াশার সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে সিলেটে। গত দুই-তিন দিন ধরে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারপাশ। সিলেট আবহাওয়া অফিস বলছে, আরও কয়েক দিন ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকবে। 

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, শীতকাল শুরু হয়ে গেছে, তাই কুয়াশা বা ঠাণ্ডা বাতাস স্বাভাবিক। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও কোথাও কোথাও তীব্র ঠাণ্ডা অনুভূত হতে পারে।

বরিশাল: সূর্যের দেখা নেই। কনকনে শীতে কাঁপছে দক্ষিণের ৬টি জেলার মানুষ। শীতের কারণে কষ্ট বেড়েছে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের। বেশি বিপাকে পড়েছে বয়স্ক ও শিশুরা।

বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকায় বৃহস্পতিবার দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে ঠাণ্ডা বেশি অনুভূত হয়। 

বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মাজাহারুল ইসলাম বলেন, উত্তরের বায়ুপ্রবাহের কারণে কুয়াশার সঙ্গে শীতল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দু-তিন দিন এ অবস্থা থাকবে। ফলে তাপমাত্রা আরও কমবে।

 

জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় পরিবর্তন আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় পরিবর্তন আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে নারায়ণগঞ্জে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জনাব সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: ছবি খবরের কাগজ

জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি জানান, বিশেষ করে নারীদের উন্নয়ন চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণসহ অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি রোগী পরিবহনে   হেলিকপ্টার ব্যবস্থাপনা সংযুক্ত করা হচ্ছে।

রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল থেকে ১০টি জেলার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি জানান, সরকার হাম মোকাবেলা দেশে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হয়েছে৷ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ইতোমধ্যে মোবাইল হাসপাতালে প্রস্তুতও রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, এ পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশে ২০টি হাসপাতাল হবে। এর মধ্যে নারীদের জন্য দুটি দেড় হাজার শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। বাকি ১৮টি হাসপাতাল হবে এক হাজার শয্যার। এসব হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস, স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার চিকিৎসা, পঙ্গুত্ব পুনর্বাসন, মাতৃসেবা ও সাধারণ চিকিৎসার সুবিধা থাকবে।

তিনি জানান, প্রতিটি হাসপাতালে অত্যাধুনিক পাঁচটি করে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য চারটি হেলিকপ্টার সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮০ হাজার হবেন নারী।

তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বিল্লাল হোসাইন/আজহার

প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার
ছবি: খবরের কাগজ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট রুখতে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে সরকার। এখন থেকে ঢাকায় বসে নয়, শিক্ষক বদলির সিদ্ধান্ত হবে স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত পৃথক কমিটির মাধ্যমে। আর এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে থাকবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে এক সেমিনারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই নতুন বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার কথা জানান।

শিক্ষা খাত বিশ্লেষণবিষয়ক এই কর্মশালার আয়োজন করে আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলো। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, অতীতে শিক্ষক বদলি একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এটি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শিক্ষকদের এই ভোগান্তি কমাতে এবং বদলি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এই বড় সংস্কার করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটিগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর বৈঠক করে বদলির আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করবে।

বদলি হবে যেভাবে

উপজেলা পর্যায়:

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নেতৃত্বে ৪ সদস্যের কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করবে। এরপর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বদলির আদেশ জারি করবেন।

জেলা, বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন:

এই পর্যায়গুলোতে ৫ থেকে ৬ সদস্যের কমিটি থাকবে। সিটি কর্পোরেশন, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের কমিটিতে যথাক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বদলির আদেশ জারি করবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই বদলি প্রক্রিয়াকে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি তার বক্তব্যে মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা নিয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন বিস্তারিত কার্যক্রম তুলে ধরেন।

কর্মশালায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

জয়ন্ত সাহা/আমান

২৫ মে থেকে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:২১ পিএম
২৫ মে থেকে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আগামী এক বছর দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। চলতি বছরের ২৫ মে থেকে শুরু হয়েছে এই উৎসব চলবে, তা চলমান থাকবে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেদিন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘নজরুল বর্ষ’পালনের ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিগত ১৭ বছরে বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান সেভাবে উপস্থাপিত হয়নি। বর্তমান সরকার কবির সাহিত্যকর্ম ও দর্শনকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির স্বীকৃতি প্রদান করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়েও নজরুলের সৃষ্টি সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে বক্তব্যে স্মরণ করা হয়।

নজরুল বর্ষের মূল কর্মপরিকল্পনা

১. জাতীয় পর্যায়ে নজরুল বর্ষ পালনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন।
২. নজরুল বর্ষের জন্য বিশেষ লোগো, পোস্টার এবং ক্যালেন্ডার প্রণয়ন।
৩. স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ।
৪. ১৮-২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৭৪টি প্রত্যন্ত ও বিশেষ উপজেলায় ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন। এই আয়োজনের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে ইতিমধ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
৫. কবির সাহিত্যকর্ম, সংগীত ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
৬. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরুলের সৃষ্টিকর্মকে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জয়ন্ত সাহা/অন্তরা/

সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা ‘সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই। '

‘আমরা প্রায়শই শুনতাম, বাংলাদেশকে আমরা সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলবো, বাংলাদেশকে আমরা কানাডা বানিয়ে ফেলবো, বাংলাদেশকে অমুক বানিয়ে ফেলব। আমি বাংলাদেশকে অন্য কিছু বানাতে চাই না। বাংলাদেশকে আমি একটু বেটার বানাতে চাই। সেই কাজটি সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, আমাদের সবাইকে মিলে করতে হবে।'

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারে স্থানীয় একটি অভিজাত হোটেলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

কক্সবাজার শহরকে ‘পরিচ্ছন্ন নগরী’ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার শহরে প্রবেশের সময় একটা বিরাট বড় সাইনবোর্ড দেখেছি, ওখানে লেখা আছে ‘বিশ্বের দীর্ঘতম সী বিচ, স্যান্ডি সী বিচ’। আপনারা সকলে মিলে কক্সবাজারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই কক্সবাজারকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে আপনাদের সবাইকে কিন্তু এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন একটি নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।'

তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, কক্সবাজারকে আপনারা সুশৃঙ্খল একটি শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, যেখানে সবগুলো যান শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে, সুন্দরভাবে পার্কিং করবে, সুন্দরভাবে চলাচল করবে, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলাচল করবে। যেখানে মানুষ হাঁটার সময় নিরাপদ বোধ করবে।'

বিগত ১৭ বছর কেন কক্সবাজারের কোনো উন্নয়ন হয়নি-প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ফেরার পর গত সাড়ে চার মাসে আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি এবং বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, যে কাজগুলোর কথা বলা হচ্ছে, এই কাজগুলো ১৭ বছর হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়নি।'

কক্সবাজার বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তর করা, কক্সবাজারে মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল, বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্যগণ ও বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে, প্রধানমন্ত্রী নিজে গাড়ি চালিয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখেন। রাত সোয়া ১২ টার দিকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস
ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর ফলে, রাজধানীতে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দেশের অন্যান্য স্থানে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে, ভ্যাপসা গরম কমার সম্ভাবনা সামান্যই।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা হতে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে এবং অস্থায়ীভাবে বজ্র/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তীত থাকতে পারে।

আরহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, এদিকে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেওয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া সামগ্রিকভাবে আগামী সপ্তাহজুড়ে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অন্তরা/