ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক তামিম ইকবাল রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক গানে আর ফিরবেন না রিংকু ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ শাড়ির নিচে লুকিয়েও রক্ষা পেলেন না তৃণমূল নেতা কুষ্টিয়ায় ধর্ষককে গণধোলাই নোয়াখালীতে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি ধ্বংস, লাখ টাকা জরিমানা টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি
Nagad desktop

বাস ভাড়া আরও ৪০ শতাংশ বাড়াতে চায় মালিক সমিতি

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:০০ পিএম
আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:০০ পিএম
বাস ভাড়া আরও ৪০ শতাংশ বাড়াতে চায় মালিক সমিতি
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের সব মহানগর, আন্তজেলা, স্বল্প ও দূরপাল্লার বাসের ভাড়া ৪০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি তুলেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। ডলারের মূল্যবৃদ্ধির সাপেক্ষে বাসের নানা যন্ত্রাংশেরও দাম বেড়েছে, এমন দাবিতে বাস ভাড়া বাড়ানোর জন্য নানা সুপারিশ তৈরি করেছেন এই সমিতির নেতারা।

আগামী ২১ জানুয়ারি ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর নেতৃত্বে ঢাকায় আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (আরটিসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় তারা ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশমালা উত্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক কাজী জুবায়ের মাসুদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার সর্বশেষ যখন ভাড়া বাড়িয়েছিল ২০২২ সালে, তখন ডলারের রেট ছিল ১০৬ টাকা; এখন সেটি হয়েছে ১২২ টাকা। সেই হিসাবে গাড়ির স্পেয়ার পার্টস, চাকাসহ সব ধরনের যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে। আমাদের ব্যবস্থাপনা খরচও বেড়েছে। আগে একজন কাউন্টার ম্যানেজারকে যদি ১০ হাজার টাকা দিতে হতো, তবে এখন দিতে হবে অন্তত ১৫ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে আমাদের দাবি, নগর পরিবহন, আন্তজেলা, দূরপাল্লার সব রুটে বাস ভাড়া অন্তত ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হোক।’

আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনে যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ভাড়া ২ দশমিক ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারিত হয়। ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল তৎকালীন সরকার ডিজেলের মূল্য হ্রাস ও বর্তমান পরিচালনা ব্যয়জনিত কারণে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে। ঢাকাসহ সারা দেশে চলাচল করা বাসের ভাড়া তিন পয়সা কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস এবং মিনিবাসের ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ভাড়া ২ টাকা ১৫ পয়সা টাকার স্থলে ২ টাকা ১২ পয়সা নির্ধারণ করা হলো। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৪৫ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৪২ পায়সা নির্ধারণ করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস উভয় ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৩৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ৮ টাকা আগের মতো বহাল থাকবে। 

এখন বাসমালিকদের দাবি মোতাবেক প্রতি কিলোমিটারে ৪০ শতাংশ ভাড়া বাড়ালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া হবে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা। আর আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে বেড়ে দাঁড়াবে ২ টাকা ৯৬ পয়সা। 

২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর ডিজেলচালিত বাস-মিনিবাসের ভাড়া পাঁচ পয়সা কমানো হয়েছিল। কিন্তু তা মানেননি পরিবহন-মালিক ও শ্রমিকরা। অথচ এর ১ মাস আগে ৬ আগস্ট ভাড়া ৪০ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সেই হার ঘোষণার আগেই পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়িয়ে দেন। গত বছর যখন বাস ভাড়া কমানোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়, তখন এ নিয়ে যাত্রী সংগঠনগুলোর নেতারা উষ্মা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ‘দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোর হিস্যা অনুযায়ী বাস ভাড়া কমানোর পরিবর্তে প্রতি কিলোমিটারে মাত্র তিন পয়সা কমিয়ে সরকার দেশের যাত্রীসাধারণের সঙ্গে তামাশা করছে।’

২০২৪ সালে সরকারের বাস ভাড়া নির্ধারণের পর দেখা যায়, নতুন ভাড়া অনুযায়ী একজন যাত্রী ৩৩ কিলোমিটার ভ্রমণ করলে তার এক টাকা সাশ্রয় হবে। এবারও যখন ভাড়া বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে তারও বিরোধিতা করছেন পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্য কমিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন সে অনুপাতে বাস ভাড়া কমানোর কথা, কিন্তু বাসমালিকরা তা করবেন না। সরকার একটি ভাড়া নির্ধারণ করে দেবে, আর বাসমালিকরা তাদের খেয়াল-খুশিমতো ভাড়া আদায় করবেন। বাস ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টিও হাস্যকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে।’ 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মো. ইয়াসীনকে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পরিবহন-মালিকরা আবার নতুন করে বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। এতে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন সায় না এলেও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সভাতেই বাসমালিকরা এ নিয়ে তর্ক জুড়ে দিচ্ছেন। 

এদিকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ভাড়াও পুনর্নির্ধারণ করতে চান মালিকরা। শ্যামলী পরিবহনের কর্ণধার রমেশ ঘোষ খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর রুটে এসি বাসে একেক পরিবহন একেক রকম ভাড়া আদায় করছে। সমিতি নির্ধারিত ভাড়া থেকে কেউ কম, কেউবা বেশি টাকা আদায় করছে। হুন্দাই, ম্যানিয়া, স্ক্যানিয়া, বিজনেস ক্লাসে কোনো পরিবহন আদায় করছে ১ হাজার ২০০ টাকা, কেউবা ১ হাজার ৪০০ টাকা। আনকার, হাইগার, অশোক লিল্যান্ড বাসেও একেক রকমের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা এসি বাসমালিকরা সভা করেছি। তবে এখনো কিছু চূড়ান্ত করা হয়নি।’ 

জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
প্রতীকী ছবি

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল মনিটরিং চালুর সুপারিশ করেছে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি। কমিটি মোট ১২ দফা সুপারিশ সংসদে উপস্থাপন করেছে।

রবিবার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং কমিটির সভাপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ কমপক্ষে তিন মাসের চাহিদা মেটানোর সক্ষমতায় উন্নীত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন, এসপিএম প্রকল্প এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট দ্রুত বাস্তবায়ন, জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্য আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা পরিচালনা।

এ ছাড়া ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করা এবং এর কার্যকারিতা তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণে সিস্টেম লস কমানো, তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর ও বায়ু শক্তিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থা, বহুমুখী জ্বালানি উৎস এবং সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণকে সময়ের দাবি বলে মনে করছে কমিটি।

কমিটির অভিমত, সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ, সংসদীয় তদারকি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

জ্বালানি কমিটি/এলিস

ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি,  ৬ দফা দাবি
৬ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ। ছবি: খবরের কাগজ

এফসিপিএস প্রশিক্ষণ নীতিমালা সংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘বৈষম্যমূলক’ প্রস্তাব বাতিলসহ ৬ দফা দাবিতে এবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

রবিবার (৭ জুন) সকাল থেকে দুই শীর্ষ সরকারি হাসপাতালের ইন্টার্নরা একযোগে এই কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত এই দুই হাসপাতালে সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের ডাকে এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে স্থানীয় ইন্টার্ন ডক্টরস সংগঠনগুলো। 

ঢামেকে জরুরি বিজ্ঞপ্তির পর কর্মবিরতি

শনিবার রাতে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মবিরতির ডাক দেয় ঢামেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি। সংগঠনের সভাপতি ডা. মোস্তফা আমীর ফয়সাল ও সাধারণ সম্পাদক ডা. নাবিল বিন কাশেম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এফসিপিএস প্রশিক্ষণ নীতিমালার অযৌক্তিক প্রস্তাব, ভর্তি পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি, ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের অপ্রতুল ভাতা, কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতা এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি।

ঢামেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ডা. আশরাফ সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আজ (রবিবার) সকাল থেকে আমাদের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। চিকিৎসক সমাজের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলমান থাকবে। আমরা দ্রুত কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

আল্টিমেটাম শেষে চমেক হাসপাতালেও ধর্মঘট, ক্লাস বর্জন

একই দাবিতে রবিবার সকাল ৮টা থেকে চমেক হাসপাতালেও কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এর আগে গত ৪ জুন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে হাসপাতাল পরিচালকের মাধ্যমে সরকারকে শুক্রবার (৫ জুন) রাত পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের‌ নেতারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ বা কার্যকর উদ্যোগ না আসায় শনিবার রাতে সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে রবিবার সকাল ১১টার পর থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেন আন্দোলনকারীরা।

চমেক ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলমান থাকবে। প্রয়োজন হলে সারাদেশে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

কী আছে ৬ দফা দাবিতে

আন্দোলনরত চিকিৎসকদের প্রধান দাবিগুলো হল-
# এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা (স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত) বাতিল করা।

# বিএমইউ এবং বিসিপিএস-এর ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে আনা।

# নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী ইন্টার্নদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনিদের ৯ম গ্রেডে নির্ধারণ করা।

# কর্মস্থলে চিকিৎসকদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ বা ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা।

# বিসিএস স্বাস্থ্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা।

# বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য শ্রম আইন ২০০৬ মেনে সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং বিএমডিসি আইনের সংস্কার।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত না এলে এই কর্মবিরতি দেশের অন্যান্য সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছেন আন্দোলনরত চিকিৎসক নেতারা।

জয়ন্ত সাহা/এসএন

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা-অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ সময়ে দেশে ৬০৫টি খুন এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি এবং চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩ হাজার ৪৯৬টি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচিত সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশু ৪৯ থেকে ৭১ জন।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নাজুক ছিল। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, লুটপাট ও অরাজকতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসএন/

প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, সংসদে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করে নেওয়া প্রয়োজন, যাতে পরে তা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি না হয়।

রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবকে কেন্দ্র করে স্পিকার এ মন্তব্য করেন।

অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহামুদের দেওয়া পূর্বের একটি প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী সংসদে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, পহেলা মে’র মধ্যে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো সেখানে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়নি। এ অবস্থায় কবে নাগাদ কারখানাটি গ্যাস পাবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চান তিনি।

জবাবে মন্ত্রী দেশে বিদ্যমান গ্যাস সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সীমিত গ্যাস সরবরাহের কারণে বর্তমানে সার কারখানার চেয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। ফলে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্রে খনন কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। বর্তমান সরকার নতুন করে ড্রিলিং শুরু করেছে এবং নতুন গ্যাস পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানায় সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার তাকে সংসদে দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, সংসদে বলা হয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

স্পিকার আরও বলেন, সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি জনগণের কাছেও একটি অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ভবিষ্যতে ড্রিলিংসহ সব ধরনের আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে এবং বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেই মন্ত্রী-এমপিদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত।

এলিস/এসএন

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৮৭ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। 

রবিবার (৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে হামের উপসর্গে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৬২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়াও, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২২১ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত মোট ৭৯ হাজার ১২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৯ হাজার ৬৮৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৪ হাজার ২৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৬০ হাজার ৮৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

রিফাত/