ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গণহত্যায় জড়িত সকলের ফাঁসির দাবিতে আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশে রাসেল আহমেদ বলেন, ‘খুনিদের বিচারের জন্য সরকারের কাছে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। আমাদের ভাইদের রক্ত এখনও রাজপথে লেগে আছে। আমি এখানে বসলাম। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেবে, আমরা এখান থেকে উঠব না। আমাদের লড়াই চলছে, চলবে। আমরা আমাদের আমরণ অনশন চালিয়ে যাব। আমরা বিচার চাই। বিচার ছাড়া কোনো কথা নেই। এ সরকার আমাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় বসেছে। ইউনূস সরকার কী করে। খুনি বাইরের দেশে বসে আছে। তাদের ধরে এনে ফাঁসির দড়িতে ঝুলাতে হবে। এটাই আমাদের শেষ কথা।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আমাদের দুই হাজারের অধিক ভাই জীবন দিয়েছে। তারা রাজপথে সাহসিকতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের পেটোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। বিগত বছরগুলোতে যেভাবে ফ্যাসিবাদী কাঠামো গড়ে ওঠেছিল, সেটাকে ভেঙ্গে দিয়ে খুনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে নেমে এসেছিলাম। এখন পর্যন্ত অন্তর্বতী সরকারের কাছ থেকে আমরা ন্যূনতম সংস্কার ও বিচার পাইনি।’
রাসেল বলেন, ‘স্বাধীনতার পর আমাদেরকে এখনো খুনি হাসিনা, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের বিচারের দাবিতে রাজপথে নামতে হয়। আমাদের এ মুক্ত বাতাসে এখনো লাশের গন্ধ ভেসে বেড়ায়। বারবার তাদের বিচারের দাবিতে আমাদের আওয়াজ তুলতে হচ্ছে। এ অন্তর্বতী সরকারকে সেসব খুনিদের বিচার করার জন্যই ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। খুনি হাসিনাসহ আমাদের ভাইদের যারা খুন করেছে তাদের বিচার ও ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে এখন থেকেই আমরণ অনশন পালন করব।’
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পরে আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়ে সেখানেই অবস্থান করেন রাসেলসহ অন্যান্যরা।
মাহফুজ