ব্যাপক ধর্মীয় উদ্দীপনা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলার আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আলমি শূরার (মাওলানা জোবায়ের পন্থী) বিশ্ব ইজতেমার ৫৮তম জমায়েত।
ইজতেমার প্রথম দিন শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ২টায় অনুষ্ঠিত হয় জুমার জামাত। জুমার জামাতে ইমামতি করেন কাকরাইল জামে মসজিদের খতিব ও বাংলাদেশের তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমেদ।
ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী লাখ লাখ মুসল্লি ছাড়াও রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ এই বৃহত্তম জুমার জামাতে শরিক হয়েছেন। জুমার জামাত শেষে তারা মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রার্থনা করেন।
বিশ্বের প্রায় ৭২টি দেশের ২১৫০ জন বিদেশি মেহমানসহ কয়েক লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমা। অনুকূল আবহাওয়া ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকায় ইজতেমায় আগত মুসল্লিগণ স্বাচ্ছন্দ্যে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বিদের বয়ান শুনছেন এবং ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন।
আগামী রবিবার দুপুরের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। আখেরি মোনাজাত কাকরাইল জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমদ পরিচালনা করার কথা রয়েছে।
এদিকে সকাল থেকেই সর্বস্তরের মুসলমানরা জুমার জামাতে শামিল হওয়ার জন্য টুপি, পাঞ্জাবি পরে জায়নামাজ হাতে ইজতেমা মাঠের দিকে ছুটতে দেখা গেছে। দেশ-বিদেশের অগণিত মুসল্লির সঙ্গে একই জামাতে শরিক হয়ে নামাজ আদায় করার মাধ্যমে সাওয়াব হাসিলের উদ্দেশে সবার মধ্যে দেখা গেছে ব্যাকুলতা। যতই সময় গড়াতে থাকে ততই মুসল্লিদের ঢল আঁচড়ে পড়ে তুরাগ তীরে। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের সমাবেশ ঘটে জুমার জামাতে।
টঙ্গী, উত্তরা, কামারপাড়া, মিরপুর, আবদুল্লাহপুরসহ আশপাশের এলাকার মসজিদে শুক্রবারের জুমার জামাতে মুসল্লি সংখ্যা ছিল খুবই কম। ইজতেমা মাঠে জুমার জামাত সুবিশাল প্যান্ডেলের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃতি লাভ করে চারপাশের অলি-গলি ও রাস্তায়।
ইজতেমার মূল ময়দানে জায়গা না পেয়ে জুমার নামাজে অংশ নিতে ইজতেমা ময়দানের আশপাশের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও খালি জায়গায় অবস্থান নিয়ে নামাজ পড়েন হাজার হাজার মুসল্লি। অনেকেই বাড়ির ছাদ, নৌকা, গাড়ির ছাদে পাটি, পলিথিন, চট ও পত্রিকা বিছিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন।
এদিকে অনেকেই জুমার নামাজ আদায় করতে ইজতেমার ময়দান এলাকায় আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিলেন। ভোর থেকে নামাজের আগ পর্যন্ত ইজতেমামুখী মুসল্লিদের ঢল নামে। বিভিন্ন যানবাহন, নৌকা ও হেঁটেই মুসল্লিরা ছুটে আসেন তুরাগ তীরে ইজতেমা ময়দানে।
গাজীপুরের পূবাইল থেকে জুমার নামাজ পড়তে আসা মো. রমিজ উদ্দিন বলেন, বড় জামাতে নামাজ পড়লে অনেক সাওয়াব পাওয়া যায় তাই ৮০ জনের একটি দল আমরা একসঙ্গে ময়দানে নামাজ পড়তে এসেছি।
পলাশ প্রধান/এমএ/