পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসী সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে অলআউট অ্যাকশনে যাবো।’
এ ছাড়া ছোট-বড় যেকোনো অপরাধ ও অপরাধীর ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করেছে ডিবি।
শনিবার (১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ‘পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশে ডিবি কর্তৃক পরিকল্পিত কার্যক্রম’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ের শুরুতে তিনি বলেন, অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এদেশের সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। যাদের সীমাহীন ত্যাগ ও দেশপ্রেমের বদৌলতে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম মাতৃভূমি। একইসঙ্গে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের বীর শহিদ ও আহতদের। যারা বুকের রক্ত দিয়ে আমাদেরকে একটি সম্ভাবনাময় নতুন বাংলাদেশ গড়ার বীজ বুনে দিয়েছেন। সে লক্ষ্যে তেজোদ্দীপ্ত হয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি।
তিনি বলেন, 'সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান সমাগত। এ পবিত্র মাসে নগরবাসীর নিরাপত্তা বিধানের জন্য ক্লান্তিহীন কাজ করে যাচ্ছে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ। ডিবি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আজ থেকে আমরা ডিবির চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি রমজানকে সামনে রেখে বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছি। এটা হচ্ছে এক ধরনের বিশেষ গোয়েন্দা অভিযান। যেটাতে ছদ্মবেশে আমাদের সদস্যরা মানুষের মধ্যে থেকে অপরাধীদের সনাক্ত করবে।'
তিনি জানান, রমজান মাসজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছে ডিবি পুলিশ। ছদ্মবেশে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই অপরাধীদের চিহ্নিত করার কাজ চলমান রয়েছে।
এরই মধ্যে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সেগুলো বিশ্লেষণের তথ্য জানিয়ে রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অপরাধে জড়াচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক সরকারের অনুসারীরাও অপরাধীদের উসকে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেককেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, রমজানে মানুষের কর্মযজ্ঞ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে আর্থিক লেনদেন বেশি হয়। শপিংমল, ব্যাংক, বীমাগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ে। রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও সদরঘাটসহ অন্যান্য জায়গাতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ে। এসব জায়গায় কেউ যাতে নাশকতা করতে না পারে, সেজন্য আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি দূরের যাত্রা পথ বিশেষ করে বাসে কোন দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সে লক্ষে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে আমরা আগে থেকেই ডিবির তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছি।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, আমাদের গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে চুরি ছিনতাই ডাকাতির সঙ্গে যারা যুক্ত হচ্ছে তাদের বেশির ভাগের বয়স ১৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে। এদের অনেকেই কিশোর গ্যাং। তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আবার কিছু ফ্যাসিস্ট পতিত রাজনৈতিক শক্তি তাদের ইন্ধন দিয়ে অপরাধ কার্যক্রমে জড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মামলা তদন্ত থেকে আরম্ভ করে চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসতে ডিবি বদ্ধপরিকর। তারই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ডিবি কর্তৃক উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিনতাইকারী, ডাকাত ও অভ্যাসগত অপরাধীকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। গুণগত মান বজায় রেখে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ডিবি কাজ করে থাকে। আমাদের কাজে যেমন স্বকীয়তা রয়েছে, তেমনি নিশ্চিত করা হয়েছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। আমরা যেমন সাধারণ মানুষের ভরসার আশ্রয়স্থল হতে চাই, তেমনি অপরাধীদের জন্য হতে চাই আতঙ্ক। সে মূলনীতি নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র মাহে রমজানে নগরবাসী যেন নিরাপদে ইবাদত বন্দেগী করতে পারেন সেজন্য ডিবির কার্যক্রম আরো বেগবান করা হয়েছে। আমি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি নগরবাসী এসময় অধিকতর নিরাপদ ও স্বস্তির পরিবেশে থাকবেন। যেকোনো প্রয়োজনে ডিবি আপনাদের পাশে রয়েছে। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ মোতাবেক নগরবাসীর শান্তি শৃংখলা রক্ষায় আত্মনিয়োগ করবো। এ দেশ আপনার আমার সকলের। দেশে শান্তি থাকলে শান্তি থাকবে জনমনে। দেশকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনসাধারণকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
যারাই অপরাধে যুক্ত হবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে হুঁশিয়ারি দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রমজান মাস উপলক্ষে, ব্যাংক, শপিংমল, লঞ্চ টার্মিনাল, বাসস্টপ ও বিমানসহ যেসব জায়গা ঘিরে মানুষের ব্যস্ততা থাকে সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’
এ সময় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা; যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূঁইয়া; যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, (সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার-দক্ষিণ) সৈয়দ হারুন অর রশীদ বিপিএম ও উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস্ বিভাগ) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, পিপিএম-সেবাসহ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মেহেদী/