সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রী নুরান ফাতেমার ৬৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্তত ৭২২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং অন্তত সাড়ে ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার (৬ এপ্রিল) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা দুটি করা হয়। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সংম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
হাছান মাহমুদের বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়, তিনি মন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে ১ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১৮ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তার নিজের ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৭ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। তিনি এসব অর্থ-সম্পদ গোপনে রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেছেন। যা দুদকের তফসিলভুক্ত ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মামলাটি করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক কমলেশ মণ্ডল।
নুরান ফাতেমার বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়েছে, তিনি স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ আয়ে ৫ কোটি ৫২ লাখ ৭৬ হাজার ৯০ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি নিজের ৫৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৬৮৩ কোটি ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৪ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এসব অর্থ-সম্পদ গোপনে রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেছেন। যা দুদকের তফসিলভুক্ত ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ মামলায় হাছান মাহমুদকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আল আমিন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে যান চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদ। সম্প্রতি তাকে লন্ডনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের জামাতে দেখা গেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
গত ১৬ জানুয়ারি হাছান মাহমুদ, তার স্ত্রী নুরান ফাতেমা, মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদসহ তাদের ছয়টি কোম্পানির নামে থাকা মোট ৮১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত।