ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুশইন করছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি
Nagad desktop

প্রস্তাবিত বাজেট জনবান্ধব নয়: সিপিডি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৫, ১০:৩৩ এএম
প্রস্তাবিত বাজেট জনবান্ধব নয়: সিপিডি
ছবি: খবরের কাগজ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট জনবান্ধব নয় বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, এবারের বাজেটে অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সে ক্ষেত্রে পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল। শুধু বরাদ্দ বাড়িয়ে বা কমিয়ে সেটা সম্ভব নয়। বাজেটের যে মূল বিষয় অর্থাৎ বৈষম্যবিরোধী এবং জনবান্ধব করার কথা বলা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে যথাযথ উদ্যোগ দেখা যায়নি। আমরা আশা করি, অর্থ উপদেষ্টা সেই জায়গাগুলো পুনর্বিবেচনা করে বাজেটকে জনবান্ধব করে তুলবেন। বিশেষ করে কালোটাকা সাদা করার মতো নেতিবাচক পদক্ষেপগুলো পুনর্বিবেচনা করবেন।

মঙ্গলবার (৩ জুন) রাজধানীর এক হোটেলে জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬ সিপিডির পর্যালোচনায় এসব কথা বলেছে সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিপিডি অর্থ উপদেষ্টার উপস্থাপিত ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এ সময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেমসহ সংশ্লিষ্টরা। 

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাজেটে অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বৈষম্যবিহীন স্পিরিটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কালোটাকা সাদা করাসহ অনেক সুযোগও রাখা হয়েছে, যেগুলো স্পিরিটের বিপরীত। আমরা আশা করব, অর্থ উপদেষ্টা এগুলো পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’ ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘এই সরকার এসেছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর। সব খাতে বিশেষ করে আর্থিক খাতে বৈষম্য দূর করার কথা বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে। আমরা দেখতে পাই, বাস্তবায়ন কৌশলে তার সঙ্গে সাযুজ্য নেই।’ সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বৈষম্য দূর করতে হলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের সংস্কার লাগবে। তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আদায় কখনোই প্রক্ষেপণ অনুযায়ী হয় না। সব সময় রাজস্ব আদায় একই ধারায় রয়েছে। এবারও উচ্চ আকাঙ্ক্ষার রাজস্ব আহরণ বাজেটের বড় চিন্তার বিষয়। ১০ বছর ধরেই আমরা দেখছি, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে না পারলে ঘাটতি বেড়েই যাবে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত করতে পারে।’ 

বাজেটে প্রস্তাবিত শুল্ক কমানোর বিষয়েও মন্তব্য করেছে সিপিডি। এর মধ্যে ১১০টি পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, ৯টি পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাতিল এবং আরও ৫০৭টি পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাসের কথা রয়েছে। সিপিডির মতে, এসব পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আনা হয়েছে। যদিও কৌশলগতভাবে এগোনোর জন্য এসবের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে সিপিডি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো নির্দিষ্ট কোনো দেশকে অগ্রাধিকার দিলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ (এমএফএন) নীতির লঙ্ঘন হতে পারে এবং ভবিষ্যতের বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

ড. ফাহমিদা বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্কে ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে অন্য দেশকেও দিতে হবে। নইলে ডব্লিউটিওর নিয়ম লঙ্ঘন হবে। পাশাপাশি এনবিআরের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আগেভাগেই শুল্ক ছাড় দেওয়া হলে সম্ভাব্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) বাংলাদেশের দর-কষাকষির ক্ষমতাও হ্রাস পাবে।

এবারের বাজেটেও কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার সমালোচনা করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, এটা বৈষম্যবিরোধী কথার সঙ্গে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। সিপিডি সব সময়ই বলে এসেছে, অপ্রদর্শিত অর্থ অর্থাৎ কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত। এটি নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করার শামিল।

জুলাই আন্দোলনের মূল স্পিরিটের সঙ্গেও এটা সাংঘর্ষিক। এই প্রস্তাবটি বাজেট থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রস্তাব বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা তৈরি করে, ‘বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের’ বাজেট ঘোষণার মূল অঙ্গীকারের সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক। সিপিডি মনে করে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনার প্রতি সম্মান জানাতে হলে বাজেট থেকে এই বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাহার করা জরুরি।

এ ছাড়া বাজেটে প্রবৃদ্ধির বদলে সামগ্রিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোর বদলে মানুষের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার যে কথা বলা হয়েছে, কিছু কিছু উদ্যোগ তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করে সিপিডি। করকাঠামো বিন্যাস করতে গিয়ে ছয়টি শ্রেণি করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, নিম্নবিত্ত মানুষের করহার বেশি হবে, কিন্তু উচ্চবিত্তদের কম পড়বে। এটা বৈষম্যমূলক।

উন্নয়ন বাজেটের আকার নিয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, উন্নয়ন বাজেটের আকার এবার ছোট করা হয়েছে। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে উন্নয়ন ব্যয় কমানো উদ্বেগজনক।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে, সিপিডি নৈতিকভাবে তা সমর্থন করে না। অথচ বাজেটে পাচার করা অর্থ সম্পর্কে স্পষ্ট খতিয়ান উপস্থাপন করা হয়নি। একদিকে কালোটাকা বৈধ করার প্রস্তাব, অন্যদিকে অর্থ পাচার নিয়ে নীরবতা- সরকারের ঘোষিত নীতির সঙ্গে এর বৈপরীত্য আছে বলে তিনি মনে করেন।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, বাজেটের মূল দর্শন হওয়া উচিত ছিল রাজস্বনীতির মাধ্যমে আয় বৈষম্য হ্রাস। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও এটি প্রধান দাবি হিসেবে উঠে এসেছে। বাজেটে কর ও অন্যান্য নীতির মাধ্যমে বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নীতিগত দিক থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলে না।

তিনি বলেন, সংস্কার কমিটিগুলো যে পরামর্শ দিয়েছিল, সেটাকে বিচার-বিশ্লেষণ করে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারত, কিন্তু বাজেটে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। সামগ্রিকভাবে বাজেট অনুমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, প্রত্যাশার সঙ্গে কিছুটা হতাশাজনক। 

করমুক্ত আয়ের সীমা সামান্য বাড়ানো হয়েছে, যা প্রযোজ্য হবে আগামী ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে। সেখানে ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার যেটা করা হয়েছে, সেটা খুবই সামান্য বাড়ানো হয়েছে। অথচ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির পদক্ষেপের সাযুজ্য নেই। সেই সঙ্গে করের যে স্তরগুলো করা হয়েছে, সেখানে উচ্চবিত্তদের তুলনায় মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তদের করের হার বেশি। 

এলডিসি উত্তরণ এবং ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কহারকে সামনে রেখে আমদানি শুল্কে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে আমাদের দেশীয় শিল্পের প্রতিরক্ষা কিছুটা কমে গেছে। সামগ্রিকভাবে অভ্যন্তরীণ শিল্পে যে সংরক্ষণ ছিল, তা অনেকটা কমে গেছে। এলডিসি উত্তরণের স্বার্থে এটা মেনে নিতে হবে। কিন্তু প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে গেলে অন্যান্য জায়গায় যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া দরকার ছিল, সেটা দেখা যায়নি। এর মধ্যে টার্নওভার ট্যাক্স, ঋণের সুদহার, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে খুব বেশি মনোযোগ দেখা যায়নি। অর্থাৎ দেশীয় শিল্পের বিকাশে যে সংরক্ষণ আরোপ করা হয়েছে, সেটা কী দিয়ে পোষানো হবে সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেই। 

প্রবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের সঙ্গে বাজেটের তথ্যের মিল নেই। বিবিএস বলেছে, চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অথচ বাজেটে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধির হার হবে ৫ শতাংশ।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১২:১৯ এএম
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এর তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের মাত্রা মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬।

 রবিবার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। 

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ ভূটানের পুনাখা শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে।

মাটির ৩৫ কিলোমিটার তলদেশে হওয়া এই শক্তিশালী কম্পনের ফলে ভূটান ছাড়াও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল কেঁপে ওঠে।

প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, এই ভূমিকম্পের ফলে কম্পন অনুভূত হওয়া দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে- বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, ভূটান ও চীন।

মাঝরাতের এই আকস্মিক ঝাঁকুনিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তবে, এই ভূমিকম্পের কারণে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এসএন/

নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক
ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে ট্রাফিক আইন ও নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে চলাচল করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডাম্পট্রাক। এতে সড়কে ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা।

রবিবার (৭ জুন) রাত ১০টার দিকে বাংলামোটর এলাকায় দেখা যায়, ডিএসসিসির একটি ডাম্পট্রাক নির্ধারিত লেন ও সড়ক শৃঙ্খলা না মেনে এলোমেলোভাবে চলাচল করছে। ট্রাকটির এমন বেপরোয়া চলাচলের কারণে আশপাশের যানবাহনকে সতর্ক হয়ে চলতে হয়।

সড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, ভারী যানবাহনের এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে রাতে ডাম্পট্রাকের বেপরোয়া গতি ও নিয়ম না মানার প্রবণতা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

নগরবাসীর দাবি, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব যানবাহনকেও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 

জয়ন্ত/রিফাত/

চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

চীন সরকারের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

রবিবার (৭ জুন) রাত সোয়া ৮টার দিকে তিনি বেইজিং পৌঁছান। এর আগে দুপুরের দিকে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। বিএনপি মিডিয়া সেল এসব নিশ্চিত করেছে। 

মিডিয়া সেল জানায়, চীন যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুপুরে তথ্যমন্ত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাদের মধ্যে সফরসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।

মিডিয়া সেল আরও জানায়, সফরকালে তথ্যমন্ত্রী চায়না মিডিয়া গ্রুপের আয়োজনে আগামী ৮ থেকে ১১ জুন অনুষ্ঠেয় ‘৫ম সিএমজি ফোরাম’-এ অংশ নেবেন। এ ছাড়া চীনের তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই বৈঠকে দুই দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনা, গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তথ্য বিনিময়সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে নীতিগত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে তথ্য, প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে আশা করা হচ্ছে। 

ব্যাংক খাত সংস্কারের বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী 
ব্যাংক খাতের সংস্কার এখন সময়ের দাবি এবং এর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যম শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার একটি অপরিহার্য উপাদান।

রবিবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইআরএফ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

তিনি বলেন, গণমাধ্যম হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। কিন্তু আয়নাটি যদি বিকৃত হয়, তাহলে প্রকৃত চিত্রও বিকৃতভাবে প্রতিফলিত হবে। তাই গণমাধ্যমকে নিজস্ব কাঠামোগত দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সঠিক, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্য উপস্থাপনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। 
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শুধু তথ্য প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তথ্যের নির্ভুলতা, প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হয়। তবে তথ্য গোপন রাখাও কোনো সমাধান নয়। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সক্রিয় উপস্থিতি অপরিহার্য।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা থাকতে হবে, তবে সেই স্বাধীনতার ভিত্তি হতে হবে বস্তুনিষ্ঠতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। গণমাধ্যমকে এমন পেশাগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, যাতে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে। গণমাধ্যমের জবাবদিহির একমাত্র মানদণ্ড হলো বস্তুনিষ্ঠতা।

ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাশহিদুল ইসলাম জাহিদ এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ।

কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক
ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গা। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গাকে আটক করেছে রামু থানা পুলিশ।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গা টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে।

ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৫টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

ওসি মনিরুল বলেন, “আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। উন্নত জীবন যাপনের প্রলোভন দেখিয়ে লোকজন মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে জিম্মি করেন তিনি। জিম্মি করার পর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে থাকেন। 

পুলিশ জানায়, তাকে আটকের পর মানবপাচার সংক্রান্ত বিষয়ে অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


তারেকুর রহমান/এসএন

ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১০:১০ পিএম
ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
ছবি: খবরের কাগজ

চীন ও বাংলাদেশের গণমাধ্যমের মধ্যে সম্পর্ক, পেশাগত যোগাযোগ এবং তথ্য বিনিময় আরও জোরদার করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং বাংলাদেশ-চীন আপন মিডিয়া ক্লাব। 

রবিবার (৭ জুন) রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ডিক্যাব-এর সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস এবং বাংলাদেশ-চায়না আপন মিডিয়া ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অলিভিয়া ছু।

ডিক্যাব-এর অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) বাংলা বিভাগের পরিচালক ইউ কুয়াং ইউয়ে আনন্দী বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিটে কর্মরত সাংবাদিকরা খুব কাছ থেকে চীন সম্পর্কে জানতে পারছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিক্যাবের সদস্যরা চীন সরকারের আমন্ত্রণে চীন সফরও করেছেন। আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের গণমাধ্যম সহযোগিতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হলো। আশা করি, এর মাধ্যমে আগামীতে আরও বেশি সাংবাদিক চীন সফর করার সুযোগ পাবেন, যা দুই দেশের মানুষকে পরস্পরকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে এবং মৈত্রী দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।’

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ডিক্যাব-এর সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আদান-প্রদানে এই চুক্তি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দুই দেশের সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এটি একটি দারুণ সুযোগ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন, বাংলাদেশি সিনে-জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিজেএ) সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ, টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশের (টিএমজিবি) সভাপতি মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন, অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের সভাপতি হাসান শরীফ, এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদ আনন্দ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ-চীন আপন মিডিয়া ক্লাব। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ডিক্যাব দীর্ঘ ২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুনাম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে আসছে।

রবিউল/রিফাত/