দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পৃথক একটি অধিদপ্তর গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আশাবাদের কথা জানান। সভায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শুধু ভোট প্রদানের মধ্যেই তাদের অবদান সীমাবদ্ধ ছিল না; নির্বাচনী প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেও তারা বিএনপির পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। এজন্য তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়। ইতোমধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সংসদের উচ্চ কক্ষেও তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা থাকবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ধারায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত না করলে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বল্প সুদে ঋণপ্রাপ্তির ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, “ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে। তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে পৃথক একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”
সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বিজন কান্তি সরকার বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতেও তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের নার্সিংসহ স্বাস্থ্যসেবা খাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিজন কান্তি সরকার বলেন, এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে সমাজেও তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন দাবি, প্রত্যাশা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা শিক্ষা বৃত্তি বৃদ্ধি, সরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অধিক সম্পৃক্ততার দাবি জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং মূলধারার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে।
এসএন/