টানা ৪০ দিনের মাথায় নগর ভবনের প্রধান গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। নগর ভবনে সেবা কার্যক্রমেও গতি ফিরতে শুরু করেছে। সব আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতেও সেবা প্রত্যাশীর সংখ্যা বেড়েছে।
সোমবার (২৩ জুন) নগর ভবনের সব বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারী আসলেও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সোয়া ১২টা) আসেননি প্রশাসক ও প্রকৌশলীরা।
গতকাল রবিবার দুপুরে নগর ভবনে সংবাদ সম্মেল করেন ঢাকাবাসীর ব্যানারে করা আন্দোলনের সমন্বয়ক সাবেক সচিব মশিউর রহমান। তিনি নাগরিক সেবা চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কর্মরতদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান। কিন্তু আজও প্রশাসক এবং প্রকৌশলীদের কার্যালয়ে দেখা যায়নি।
ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে গত ১৪ মে থেকে ঢাকাবাসীর ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে সব রকম নাগরিক সেবা বন্ধ রাখেন কর্মকর্তা- কর্মচারীরা। তবে, কোরবানির ঈদের আগে আগে জরুরি সেবাসমূহ চালুর ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। এর ধারাবাহিকতায় নগর ভবনে টানা তিন দিন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। তখন থেকেই নাগরিক সেবা সচল রাখারও ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন তিনি। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা চলমান নাগরিক সেবা বাধাগ্রস্ত করে এর দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপতৎপরতা চালাচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ করে আসছিলেন ইশরাক হোসেন।
সোমবার বেলা ১২টার দিকে নগর ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি চলছে। নগর ভবনের সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। স্লোগানে স্লোগানে তারা স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়ার পদত্যাগ দাবি করছেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে সরকার একগুঁয়েমি আচরণ করছে। রায় না মেনে তারা আদালত অবমাননা করে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এ ধরনের দৃষ্টান্ত ফ্যাসিস হাসিনার আমলে দেখা গেছে। এই সরকারের কাছ থেকে এই ধরনের দৃষ্টান্ত আশা করা যায় না।
খিলগাঁও ও ধলপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে- সেখানে সেবা প্রত্যাশীদের কেউ আসছেন জন্ম সনদের জন্য, কেউ আসছেন মৃত্যু সনদের জন্য, কেউ বা আসছেন ওয়ারিশ সনদের জন্য। তারা দ্রুত সময়ের মধ্য কাজ সেরে চলে যাচ্ছেন।
কথা হলে এক সেবাগ্রহণকারী বলেন, জন্ম নিবন্ধনের জন্য এসেছিলাম। কাজটি হয়ে গেছে। দ্রুতই হয়েছে। আগে এতো দ্রুত হতো না।
আরেক ব্যক্তি জানান, তিনি হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে এসেছিলেন।
সকাল থেকেই বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিসে কর্মরতদের কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মচাঞ্চল্য ফিরলেও নগর ভবনে খুব একটা ভিড় চোখে পড়েনি। যারা এসেছেন তারা খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ করে চলে যেতে পেরেছেন।
শুক্রবাদ থেকে আসা আয়েশা বেগম জানান, তিনি হোল্ডিং ট্যাক্স জমা দিতে এসেছিলেন। খুব দ্রুত তার কাজ হয়ে গেছে। এতো দ্রুত সময়ে সেবা পেয়ে তিনি খুব খুশি।
মিরপুরের আরিফ তরফদার বলেন, ‘ছেলেকে লাইসেন্স হস্তান্তরের জন্য এসেছিলাম। খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে দিয়েছে। আমরা খুশি।’
বাসাবো থেকে এসেছেন মানছুরা বেগম। তিনি বলেন, ‘নগর ভবনের কার্যক্রম টানা বন্ধ থাকায় বিপদে পড়ে গেছিলাম। বাবা অসুস্থ। একটা অনুদানের টাকা জমা হয়েছিল। আজকে আবার আবেদন জমা দিয়ে আসলাম। স্যারেরা বলল কয়েদিনের মধ্যে টাকাটা পেয়ে যাব। এখন কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।’
আরিফ সাওন/অমিয়/