কুমিল্লার মুরাদনগরে সংখ্যালঘু এক নারীকে ধর্ষণ, মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।
বুধবার (২ জুলাই) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এর আগে, গত পহেলা জুলাই সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির (৬৭টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম) ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মুরাদনগরে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন- ব্লাস্ট, ব্র্যাক, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, কর্মজীবী নারী, উইক্যান, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিনিধিরা।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
প্রতিনিধি দলের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ‘এই ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা শুধু মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনারও প্রতিফলন।’
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার নারীর মামলাটি এখন একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। মামলা নেওয়ার পর তাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের নারীর জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করছে।’
সভায় সমাজকল্যাণ উপপরিষদ সম্পাদক হুমায়রা খাতুন বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এ পরিস্থিতিতে সমাজকে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।’
নিজেরা করি-এর প্রতিনিধি সারাবান তহুরা বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা কখনোই ক্ষমতা বা রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে পারে না। বরং এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীকেই দায়ী করা হয়, যা বন্ধ করতে হবে।’
ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ-এর মৌসুমী কীর্তনীয়া বলেন, ‘আজ দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। আইন প্রয়োগ করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সেলিনা পারভীন বলেন, ‘প্রতিনিধি দল মুরাদনগরে গিয়েও জেলা প্রশাসকের সাক্ষাৎ পায়নি। এ ঘটনায় প্রশাসনের নির্লিপ্ত অবস্থান অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং পরিচালক জনা গোস্বামী বলেন, ‘এই ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরকে দোষারোপ করাকে আমরা ঘৃণা করি। অপরাধীর কোনো দল নেই। বিচারের প্রশ্নে সবাইকে এক হতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘নারীর ওপর সহিংসতা, তার ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়া- প্রতিটি ঘটনাই অপরাধ। এসব অপরাধের বিচার করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতাকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুরাদনগরের ধর্ষিত নারী একা নন, তার সঙ্গে আমরা সবাই আক্রান্ত। নারী আন্দোলনের শেষ শক্তি দিয়ে হলেও আমরা অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনবো।’
এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন এমনভাবে প্রতিবেদন তৈরি করেন যাতে নির্যাতনের শিকার নারী দ্বিতীয়বার অপমানিত না হন।
মানববন্ধনে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতারা, কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
তিথি/সুমন/