গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত কলেজ ছাত্র হৃদয় (২০) গুলিতে নিহত হন। সেই কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধারের জন্য গাজীপুরের কড্ডা ব্রিজ এলাকায় তুরাগ নদে অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উপস্থিতিতে তারা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
হৃদয় টাঙ্গাইলের গোপালপুরের আলমগর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। তিনি হেমনগর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়তেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি কোনাবাড়ী এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন তিনি।
এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মাসুদ পারভেজ। উদ্ধার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, ডুবুরি দলের উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
এর আগে, এ ঘটনায় পুলিশের এক কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম মো. আকরাম হোসেন (২২)।
তিনি গাজীপুর শিল্প পুলিশে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার কিশোরগঞ্জের পারাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জানা গেছে, ৫ আগস্ট হৃদয় কোনাবাড়ী সড়কে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি দেখে হৃদয় রাস্তার পাশে অবস্থান নেন। সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন শিল্প পুলিশে কিছু সদস্য। তারা হৃদয়কে রাস্তার পাশ থেকে ধরে নিয়ে চড়থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি করলে সেখানেই তিনি মারা যান।
এই ঘটনায় হৃদয়ের ফুফাতো ভাই মো. ইব্রাহীম বাদী হয়ে কোনাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে হুকুমের আসামি এবং অজ্ঞাত ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়।
পলাশ/মৌসুমী/পপি/