নারায়ণগঞ্জে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। পাওয়া টাকা নিয়ে বিরোধ ও বন্ধক জমির দলির ফেরত দেওয়ার কথা বলে তরুণীকে ডেকে নেয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার গভীর রাতে ছয়জনকে আসামি করে ১৯ বছরের ওই তরুণী সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলার বিষয়টি প্রকাশ পায় রোববার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায়।
মামলার আসামিরা হলেন: শফিক (২৪), সাইদুল (৫৯), নাজমুল (২১), শামসু (২৮), ফয়সাল (২৪) ও রাশেদ (২২)। এদের মধ্যে প্রথম চারজন আপন ভাই। আসামিদের প্রত্যেকের বাড়ি বরিশাল জেলায়।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, মামলার আসামি ও ভুক্তভোগী তরুণী পূর্বপরিচিত। ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যেতে আসামি সাইদুরের কাছ থেকে চার লাখ টাকা ধার করেন ভুক্তভোগীর মা। ওই টাকা বিভিন্ন ধাপে ২০২২ সালেই পরিশোধ করা হয়। কিন্তু টাকা ধার নেয়ার সময় জমির দলিল বন্ধক হিসেবে রাখে। লিখিতভাবে নেওয়া হয় নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে। যা ফেরত দিচ্ছিলেন না সাইদুর।
মামলায় তরুণী উল্লেখ করেন, শুক্রবার দুপুরে স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়ার কথা বলে তাকে সাইনবোর্ড এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। পরে আসামিরা তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে জালকুড়ি দশপাইপ এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে মাইক্রোবাসের ভেতরেই এক আসামি তাকে ধর্ষণ করে। বাকিরা সহায়তা করে। ওই সময় তরুণী চিৎকার করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর জানান, তরুণীর পরিবারের সাথে মামলার আসামিদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। তারা কেউই এ জেলার বাসিন্দা না। ঘটনার সময় তরুনীকে মামলার প্রথম আসামি শফিক মাইক্রোবাসে তুলে ও দ্বিতীয় আসামি সাইদুল ধর্ষণ করে, অন্যরা সহযোগীতা করেছে বলে এজহারে উল্লেখ করেছেন তরুনী।
ধর্ষণের পর তরুণীকে আবার গাড়ি থেকে সাইনবোর্ড এলাকায় নিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়। আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
ওসি বলেন, তদন্তে মামলার আসামিরা চারজনই আপন ভাই বলে জানা গেছে। তাই যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি নিয়ে কাজ করছে পুলিশ।
তরুণীর মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পর তদন্তে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।
বিল্লাল হোসাইন/এসএন