ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কুইজ ও রিচার্জ অফার, থাকছে জামাল ভূঁইয়ার সাথে খেলা দেখার সুযোগ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিশেষ আয়োজন জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা যদি এই ছবিগুলো আপনি না দেখে থাকেন শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক? কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী, চকরিয়া-পেকুয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি কক্সবাজারের ‘পাতলী খাল’ পুনর্খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত যেভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হলেন মাস্ক এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ে সম্মত হয়েছে আরব আমিরাত! ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত শান্তিচুক্তির ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের, বিজয় দাবি তেহরানের কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী
Nagad desktop

অর্থসহ উম্মাহাতুল মুমিনীনদের নাম জেনে নিন

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৫, ০৮:৩০ এএম
আপডেট: ৩১ মে ২০২৫, ০৯:৫৪ এএম
অর্থসহ উম্মাহাতুল মুমিনীনদের নাম জেনে নিন
প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

ইসলামের ইতিহাসে উম্মাহাতুল মুমিনিন বা বিশ্বাসীদের মাতাগণ এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। তাঁরা কেবল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রীই ছিলেন না, বরং মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ, জ্ঞান ও অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন। তাঁদের জীবন ছিল ত্যাগ, ধৈর্য ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পবিত্র কোরআনে তাঁদের বিশেষ মর্যাদা ঘোষণা করা হয়েছে। উম্মাহাতুল মুমিনিনদের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো:

 

ক্রমিক নং

আরবি নাম ও উচ্চারণ

বাংলা অর্থ

পরিচিতি

১.

খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) (خديجة بنت خويلد)

সময়ের আগেই ভূমিষ্ঠ কন্যাশিশু

নবিজির (সা.) প্রথম স্ত্রী ও প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী নারী।

২.

সাওদা বিনতে যাময়া (রা.) (سودة بنت زمعة)

খেজুর বৃক্ষবহুল ভূমি, নয়নতারা

নবিজির (সা.) দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দানশীলা নারী।

৩.

আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.) (عائشة بنت أبي بكر)

সুখী নারী

নবিজি (সা.)-এর একমাত্র কুমারী স্ত্রী।

৪.

হাফসা বিনতে উমর (রা.) (حفصة بنت عمر)

সিংহশাবক

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কন্যা।

৫.

যায়নাব বিনতে খুযাইমা (রা.) (زينب بنت خزيمة)

সুদর্শন ও সুগন্ধময় একপ্রকার গাছ

নবিজি (সা.)-এর জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করা দ্বিতীয় স্ত্রী। নবিজি (সা.) নিজেই তাঁর জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন।

৬.

উম্মে সালামা হিন্দ বিনতে আবু উমাইয়া আল-মাখযুমি (রা.) (أم سلمة هند بنت أبي أمية المخزومي)

সমর্পণ, একজাতীয় গাছ (যা দিয়ে চামড়া শোধন করা হয়)

উম্মুল মুমিনিনদের মধ্যে তিনিই সর্বশেষ মৃত্যুবরণ করেন।

৭.

যায়নাব বিনতে জাহাশ (রা.) (زينب بنت جحش)

সুদর্শন ও সুগন্ধময় একপ্রকার গাছ

আল্লাহতায়ালার আদেশে নবিজি (সা.) তাঁকে বিয়ে করেন।

৮.

জুওয়াইরিয়া বিনতুল হারিস (রা.) (جويرية بنت الحارث)

তরুণী

তাঁর কারণেই তাঁর সম্প্রদায়ের ১০০ বন্দী পরিবার মুক্তি লাভ করেছিল।

৯.

উম্মে হাবিবা রমলা বিনতে আবু সুফিয়ান (রা.) (أم حبيبة رملة بنت أبي سفيان)

প্রিয়তমা

আবু সুফিয়ান (রা.)-এর কন্যা। হাবশা ও মদিনা উভয় জায়গায় হিজরতকারী নারী।

১০.

সফিয়্যা বিনতে হুয়াই ইবনে আখতাব (রা.) (صفية بنت حيي بن أخطب)

নির্ভেজাল

নবিজি (সা.)-এর দশম স্ত্রী।

১১.

মায়মুনা বিনতুল হারিস হিলালিয়্যা (রা.) (ميمونة بنت الحارث الهلالية)

সৌভাগ্যবতী

নবিজি (সা.)-এর শেষ স্ত্রী।

 

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

শামায়েল কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক?

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৩১ এএম
কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক?
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক ফ্যাশনের যুগে আমরা অনেকেই জানি না চুল রাখার ব্যাপারে নবিজি (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট সুন্নাহ ও এর বিবর্তন কেমন ছিল! রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র অবয়বের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তাঁর পরিপাটি কেশবিন্যাস। তিনি সর্বদা চুল পরিষ্কার ও সুবিন্যস্ত রাখতেন। সাহাবিদের বর্ণনা থেকে তাঁর চুলের দৈর্ঘ্য, ধরন এবং তা আঁচড়ানোর চমৎকার পদ্ধতি জানা যায়।

নবিজি (সা.)-এর চুল একদম সোজা বা অতিরিক্ত কোঁকড়ানো ছিল না। প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আনাস (রা.)-কে তাঁর চুল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি অত্যধিক কোঁকড়ানো কিংবা একেবারে সোজা কেশবিশিষ্ট ছিলেন না। তাঁর কেশ উভয় কানের লতি পর্যন্ত শোভা পেত।’ (সহিহ বুখারি: ৩৫৫১, সহিহ মুসলিম: ৬২১৩)

অবস্থাভেদে তাঁর চুল কখনো কাঁধের কাছাকাছি আবার কখনো কানের লতি পর্যন্ত দীর্ঘ হতো। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) একত্রে একই পাত্রের পানি দ্বারা গোসল করতাম। আর তাঁর চুল কানের লতি এবং মধ্যবর্তী স্থান বরাবর লম্বা ছিল।’ (মিশকাত: ৪৪৬০, শারহুস-সুন্নাহ: ৩১৩৭)

হজরত বারা ইবনে আজিব (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, নবিজি (সা.) ছিলেন মধ্যমাকৃতির দেহবিশিষ্ট এবং তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত, যেখানে কানের লতি পর্যন্ত ঝুলন্ত চুলগুলো এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করত। (সহিহ বুখারি: ৩৫৫১, সহিহ মুসলিম: ৬২১০)

নবিজি (সা.) কীভাবে চুল আঁচড়াতেন, তার মাঝেও একটি সুন্দর ইতিহাস রয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, মক্কার প্রাথমিক জীবনে রাসুল (সা.) তাঁর চুল সামনের দিকে ঝুলিয়ে রাখতেন, অর্থাৎ কোনো সিঁথি করতেন না। সে সময় মক্কার মুশরিকরা মাথায় সিঁথি করত, আর আহলে কিতাবরা (ইহুদি ও খ্রিষ্টান) চুল ঝুলিয়ে রাখত। ওহি না আসা পর্যন্ত রাসুল (সা.) আহলে কিতাবদের অনুসরণ পছন্দ করতেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি চুলে নিয়মিত সিঁথি করা শুরু করেন এবং এটিই তাঁর স্থায়ী সুন্নাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। (সহিহ বুখারি: ৩৫৫৮, নাসাঈ: ৫২৩৮)


নবিজি (সা.)-এর চুল রাখার আরেকটি বিশেষ রূপের কথা জানা যায় মক্কা বিজয়ের ঐতিহাসিক দিনে। হজরত উম্মে হানি বিনতে আবু তালিব (রা.) বলেন, ‘একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) চারটি চুলের বেণি নিয়ে মক্কায় আগমন করেছিলেন।’ (আবু দাউদ: ৪১৯৩, ইবনে মাজাহ: ৩৬৩১)

মুহাদ্দিসিনদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই বেণি বা ঝুঁটি নারীদের মতো ছিল না। দীর্ঘ সফরের ক্লান্তিতে চুল যেন ধুলোবালিতে এলোমেলো না হয়ে যায়, সেজন্য পুরুষালি গাম্ভীর্য বজায় রেখে চুলগুলোকে চারটি ভাগে সুন্দর ও পরিপাটি করে গুটিয়ে রাখা হয়েছিল। এটি পুরুষদের জন্য নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন নয়, বরং চুলের বিশেষ যত্নের একটি রূপ ছিল।রাসুল (সা.)-এর সুবিন্যস্ত চুলের এই বিবরণ আমাদের শেখায় যে, একজন মুমিনের বাহ্যিক অবয়ব সর্বদা পরিচ্ছন্ন, মার্জিত ও সুন্দর হওয়া কতটা জরুরি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আধুনিক বাজেট বনাম ইসলামের বায়তুল মাল

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৩ এএম
আধুনিক বাজেট বনাম ইসলামের বায়তুল মাল
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বাজেটের মূল চালিকাশক্তি হলো একটি নিখুঁত আয়-ব্যয়ের হিসাব। তাত্ত্বিকভাবে বাজেটের লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের সব নাগরিকের মৌলিক চাহিদার নিশ্চয়তা দেওয়া এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা।

তবে বর্তমান পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় বাজেট অনেক সময়ই সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত করের জালে আটকে ফেলে এবং গুটিকয়েক পুঁজিপতির স্বার্থরক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়।

ঠিক এই সংকটকালেই এক কালোত্তীর্ণ ও মানবিক সমাধান নিয়ে হাজির হয় ইসলামের অর্থনৈতিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ‘বায়তুল মাল’ (রাষ্ট্রীয় কোষাগার)। যার মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর প্রতি আমানতদারিতা এবং নিরেট মানবকল্যাণ। এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য ছিল—রাষ্ট্রীয় বাজেটে ঘাটতি থাকলেও সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষ কখনো অনাহারে থাকত না, কারণ তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ছিল সবসময় সুনিশ্চিত।

বর্তমান বিশ্বের কল্যাণকামী রাষ্ট্রগুলোর বাজেট সাধারণত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দেয়। তবে বাস্তব চিত্র হলো, এই প্রবৃদ্ধির সমান্তরালে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে।

সম্পদের এই কৃত্রিম ও অন্যায্য কেন্দ্রীকরণকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে সম্পদ তোমাদের মধ্যকার শুধু বিত্তবানদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।(সুরা হাশর, আয়াত: ৭)

ইসলামি অর্থনীতির এই কালজয়ী দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে বায়তুল মাল। আধুনিক ব্যবস্থার মতো সাধারণ মানুষের ওপর ভ্যাট বা পরোক্ষ করের বোঝা চাপানোর পরিবর্তে ইসলাম ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘জাকাত’ ও ‘উশর’ (ফসলের ওপর ধার্য অংশ) আদায়ের বিধান করেছে। এর ফলে সম্পদ সমাজের উচ্চস্তর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিম্নস্তরের দিকে প্রবাহিত হয়।

ইসলামি ইতিহাসের স্বর্ণযুগ, বিশেষ করে খুলাফায়ে রাশেদিনের শাসনামলে বায়তুল মাল একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও সুশৃঙ্খল রূপ লাভ করে। প্রখ্যাত ফকিহ ইমাম আবু ইউসুফ তাঁর বিখ্যাত ‘কিতাবুল খারাজ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, বায়তুল মালের মূল আয়ের উৎস ছিল—জাকাত, উশর, খুমুস (খনিজ ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ), খারাজ (ভূমি রাজস্ব) এবং জিজিয়া কর।

এখানে লক্ষণীয় যে, জাকাত থেকে অর্জিত অর্থ সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্ট খাতে ব্যয় হতো। এটি সাধারণ রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন বা প্রশাসনিক খরচে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ ছিল না।

আজকের দিনে রাষ্ট্রগুলোকে ‘বাজেট ঘাটতি’ মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা বাজারে মুদ্রাস্ফীতি ঘটায় এবং সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ায়। বিপরীতে, বায়তুল মাল ব্যবস্থায় জাকাত ও সদকা ফান্ড সবসময় সংরক্ষিত থাকত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষার জন্য। ফলে মূল বাজেটে ঘাটতি থাকলেও দরিদ্র মানুষ কখনো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতো না।

প্রখ্যাত ইসলামি অর্থনীতিবিদ ড. এম নেজাতুল্লাহ সিদ্দিকি তাঁর ‘রোল অব দ্য স্টেট ইন দ্য ইকোনমি: অ্যান ইসলামিক পারসপেক্টিভ’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে, ইসলামে জনগণের ওপর কর বা রাজস্ব চাপানো তখনই বৈধ, যখন তা সরাসরি জনকল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং বায়তুল মালের স্বাভাবিক উৎসগুলো অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ে। এর বাইরে জনগণের ওপর কোনো ধরনের জুলুমমূলক কর চাপানোর সুযোগ ইসলামে নেই।

রাষ্ট্রীয় অর্থ বণ্টন ও সুশাসনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) গৃহীত পদক্ষেপগুলো ছিল অত্যন্ত আধুনিক ও প্রগতিশীল। তিনিই প্রথম ইসলামি রাষ্ট্রে ‘দেওয়ান’ বা রাষ্ট্রীয় খাতা তৈরি করেন, যা ছিল মূলত একটি সুপরিকল্পিত বাজেট ও বণ্টন নীতিমালা।

এই ব্যবস্থার আওতায় মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি নবজাতক শিশুদের জন্যও বায়তুল মাল থেকে বিশেষ অনুদান বরাদ্দ ছিল (তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, ইবনে জারির তাবারি)।

খলিফা ওমরের (রা.) মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় প্রখ্যাত আলেম আবু উবায়েদ আল-কাসিম ইবনে সালামের গ্রন্থে। সিরিয়া সফরকালে এক বৃদ্ধ অমুসলিম (ইহুদি) নাগরিককে ভিক্ষা করতে দেখে খলিফা আফসোস করে বলেছিলেন, আমরা তোমার যৌবনে তোমার কাছ থেকে জিজিয়া নিলাম, আর এখন বৃদ্ধ বয়সে তোমাকে এভাবে ফেলে রাখলাম! এটা কখনোই হতে পারে না।

তিনি তৎক্ষণাৎ বায়তুল মালের কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন যেন সেই বৃদ্ধ এবং তাঁর মতো সমস্ত অক্ষম ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে স্থায়ী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়।

বর্তমান যুগে বাজেট পাস হওয়ার পর আমলাতান্ত্রিক বিলাসিতা, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প এবং তথাকথিত ‘ভিআইপি সংস্কৃতির’ পেছনে জনগণের ট্যাক্সের বিশাল অর্থ অপচয় হতে দেখা যায়। কিন্তু ইসলামি দর্শনে বায়তুল মালের প্রতিটি পয়সা হলো জনগণের পবিত্র আমানত, যার সুনিপুণ হিসাব শাসককে পরকালে আল্লাহর দরবারে দিতে হবে।

চতুর্থ খলিফা আলী (রা.) পারস্যের গভর্নর জিয়াদ ইবনে আবিহির কাছে লেখা এক চিঠিতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ খরচের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। ‘নাহজুল বালাগাহ’গ্রন্থে সংকলিত সেই চিঠিতে তিনি লেখেন, আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, আমি যদি জানতে পারি যে তুমি মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার (বায়তুল মাল) থেকে ছোট বা বড় কোনো অংশ নিজের স্বার্থে আত্মসাৎ করেছ, তবে তোমার বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেব যা তোমাকে নিঃস্ব, কলঙ্কিত এবং ভারী বোঝার নিচে পিষ্ট করে ছাড়বে।

ইসলামি অর্থনীতিবিদ ড. এম ওমর চাপরা তাঁর ‘ইসলাম অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ইসলামি রাষ্ট্রে বাজেট প্রণয়নের মূল ভিত্তিই হলো ‘আদল’ (ইনসাফ) ও ‘ইহসান’ (দয়া)। এখানে শাসক সম্পদের মালিক নন, বরং তিনি জনগণের পক্ষে একজন ট্রাস্টি বা জিম্মাদার মাত্র।

বর্তমান উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় আয়ের একটি বিশাল অংশ চলে যায় ঋণের সুদ পরিশোধ এবং অনুৎপাদনশীল খাতে। এই চক্রাকার সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে সামষ্টিক বাজেটের দর্শনে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

ইসলামের বায়তুল মাল ব্যবস্থা আমাদের দেখায় কীভাবে জাকাত এবং ওয়াক্ফ (জনকল্যাণে উৎসর্গীকৃত সম্পদ) ব্যবস্থাপনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে জাতীয় বাজেটের পরিপূরক শক্তি হিসেবে দাঁড় করানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি অর্থনীতিবিদ ড. এম কবির হাসান তাঁর ‘ইসলামিক ফাইন্যান্স: প্রিন্সিপালস অ্যান্ড প্র্যাকটিস’গ্রন্থে মত প্রকাশ করেছেন যে, উন্নয়নশীল দেশগুলো যদি তাদের মোট জিডিপির একটি নির্দিষ্ট অংশ জাকাত ও ওয়াক্‌ফ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি দারিদ্র্য বিমোচনে কাজে লাগাতে পারে, তবে সরকারের রাজস্ব বাজেটের ওপর থেকে সামাজিক নিরাপত্তার বিশাল চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

ইসলামের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও বায়তুল মাল ব্যবস্থা মূলত সুশাসন, মানবিকতা ও সামাজিক আস্থার এক অপূর্ব ভারসাম্যপূর্ণ পথ প্রদর্শন করে। বাজেট কখনো ধনীদের আরও ধনী করার আইনি দলিল হওয়া উচিত নয়। বরং একটি আদর্শ বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকারের পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া।

লেখক:  প্রিন্সিপাল, মাদরাসা ফাতেমাতুজ জাহরা (রা.), মুহাম্মদপুর, ঢাকা। 

১২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে। 

আজ ১২ জুন ২০২৬, শুক্রবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৩ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হাদিস যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে
ছবি: সংগৃহীত

একটুখানি চোখ বুজে কল্পনা করুন, আপনি কয়েকজন বন্ধু বা পরিবার নিয়ে এক কোনায় বসে আল্লাহর প্রশংসা করছেন, আর ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশ থেকে ডানা মেলে একদল ফেরেশতা এসে আপনাদের চারপাশে ঘিরে ধরলেন! শুধু কি তাই? তাদের ডানার বিস্তার ছড়াতে ছড়াতে একেবারে প্রথম আসমান পর্যন্ত পৌঁছে গেল এবং স্বয়ং মহাবিশ্বের মালিক আল্লাহর কাছে আপনাদের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হলো! এটি কোনো কাল্পনিক রূপকথা নয়, বরং আধ্যাত্মিক জগতের এক পরম বাস্তব। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের জিকিরের মজলিসের এমন এক অনন্য অদৃশ্যের খবর দিয়েছেন, যা শুনলে যেকোনো মানুষের হৃদয় ঈমানের আলোয় আন্দোলিত হয়ে উঠবে।

মহাবিশ্বে আল্লাহর এমন কিছু বিশেষ ফেরেশতা আছেন, যাদের একমাত্র দায়িত্বই হলো দুনিয়ার বুকে কোথায় আল্লাহর নাম নেওয়া হচ্ছে তা খুঁজে বের করা। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর অতিরিক্ত কিছু ভ্রাম্যমাণ ফেরেশতা আছেন, যারা ঘুরেফিরে জিকিরের মজলিস খুঁজতে থাকেন। যখন তারা এমন কোনো সম্প্রদায় বা মজলিস পেয়ে যান, তখন একে অপরকে ডেকে বলেন, ‘এসো, তোমাদের উদ্দেশ্যের দিকে।’ অতঃপর তারা নিজেদের ডানা দিয়ে তাদেরকে প্রথম আসমান পর্যন্ত ঢেকে ফেলেন। (বুখারি, ৬৪০৮; মুসলিম, ২৬৮৯)


যখন বান্দারা জিকির শেষ করে, তখন ফেরেশতারা আসমানে আরোহণ করেন। তখন আল্লাহতায়ালা সবকিছু জানা সত্ত্বেও ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করেন, ‘আমার বান্দারা কী বলছিল?’ ফেরেশতারা বলেন, ‘তারা আপনার তাসবিহ, তাকবির ও তাহমিদ (প্রশংসা) করছিল।’ তখন আল্লাহ ও ফেরেশতাদের মধ্যে এক চমৎকার প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে:

আল্লাহ: তারা কি আমাকে দেখেছে?

ফেরেশতা: না, হে প্রতিপালক! তারা আপনাকে দেখেনি।

আল্লাহ: কেমন হতো যদি তারা আমাকে দেখত?

ফেরেশতা: তারা আপনাকে দেখলে আরও বেশি ইবাদত ও তাসবিহ করত।

আল্লাহ: তারা কী চায়?

ফেরেশতা: তারা আপনার জান্নাত চায় এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ (আশ্রয়) চায়।

আল্লাহ: তারা কি জান্নাত বা জাহান্নাম দেখেছে?

ফেরেশতা: না, তারা দেখেনি।

আল্লাহ: কেমন হতো যদি তারা তা দেখত?

ফেরেশতা: দেখলে তারা জান্নাতের জন্য আরও বেশি ব্যাকুল হতো এবং জাহান্নামকে আরও বেশি ভয় করত।

তখন আল্লাহতায়ালা এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাদের সবাইকে মাফ করে দিলাম, তাদের চাওয়া পূরণ করলাম এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলাম। ( বুখারি, ৬৪০৮; তিরমিজি, ৩৬০০)

এই হাদিসের সবচেয়ে চমকপ্রদ এবং একদম নতুন যে দিকটি আমাদের চোখ খুলে দেয়, তা হলো আল্লাহর ক্ষমার এক পরম উদারতা। ফেরেশতারা তখন আল্লাহকে বলেন, ‘হে প্রতিপালক! ওই মজলিসে অমুক নামের একজন চরম পাপী লোক ছিল, সে আসলে জিকির করতে বসেনি, বরং নিজের একটা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এমনিই তাদের সাথে এসে বসেছিল। আল্লাহতায়ালা তখন উত্তর দেন, আমি তাকেও ক্ষমা করে দিলাম! কারণ তারা এমন এক দল, যাদের পাশে যে এসে বসে, সেও কখনো বঞ্চিত বা হতভাগা হয় না। (মুসলিম, ২৬৮৯; মুসনাদে আহমাদ, ৭৩৭৬)

এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে, ভালো মানুষের পাশে বসার মূল্য আল্লাহর কাছে কত বেশি। আপনি হয়তো নিজে অনেক বড় ইবাদতকারী নন, কিন্তু যারা আল্লাহকে ভালোবাসে, তাদের সান্নিধ্যে থাকলে আপনার অজান্তেই আপনার জীবনের পাপের খাতা শূন্য হয়ে যেতে পারে। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ঘৃণিত

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
যে তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ঘৃণিত
ছবি: সংগৃহীত

ধর্মের নামে নতুন কিছু যোগ করা কি সত্যিই পুণ্য, নাকি তা বিনাশের কারণ? ইসলামের মূল সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধতা রক্ষায় রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে চিরন্তন দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন, বর্তমান সমাজে তা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষের তৈরি মনগড়া রীতিনীতি কীভাবে দ্বীনের আলো থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, তারই এক প্রামাণ্য চিত্র উঠে এসেছে নির্ভরযোগ্য হাদিসসমূহে।

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে নতুন কোনো সংযোজনের সুযোগ নেই। উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০)।

অর্থাৎ, ইবাদত মনে করে দ্বীনের মাঝে নিজস্ব কোনো নিয়ম তৈরি করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। জাবের (রা.) বর্ণিত অন্য এক হাদিসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুতবায় বলতেন, শ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়াত মুহাম্মাদের হেদায়াত। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি (বিদ‘আত) এবং প্রত্যেক বিদ‘আতের পরিণতিই হলো পথভ্রষ্টতা ও জাহান্নাম (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১; নাসাঈ হা/১৫৭৮)।

ইসলামে প্রথার চেয়ে বিশ্বাসের শুদ্ধতা বড়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে জানা যায়, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি তিনজন:

১. হারামে নিষিদ্ধ কাজ বা সীমা লঙ্ঘনকারী।

২. ইসলামের ভেতরে এসেও জাহেলি যুগের রীতিনীতি বা কুসংস্কার চালু করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি।

৩. অন্যায়ভাবে কারও রক্তপাতকারী (বুখারি, মিশকাত হা/১৪২)।

ইসলামি আদর্শের বাইরে যেকোনো মনগড়া উৎসব বা অন্ধ অনুকরণই যে জাহেলিয়াত, তা এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী। একদা ফেরেশতারা তাঁর নিদ্রিতাবস্থায় (যার অন্তর জাগ্রত ছিল) একটি রূপক উদাহরণ দেন যেমন এক ব্যক্তি গৃহ নির্মাণ করে ভোজের আয়োজন করলেন এবং দূত পাঠালেন। যারা দূতের ডাকে সাড়া দিল, তারা ভোজ অংশ নিল।

এখানে গৃহটি হলো জান্নাত আর আহ্বানকারী স্বয়ং মুহাম্মাদ (বুখারি, মিশকাত হা/১৪৪)। সুতরাং, রাসুলের অবাধ্য হয়ে জান্নাতে প্রবেশের কোনো বিকল্প পথ নেই। ইরবায বিন সারিয়াহ (রা.) বর্ণনা করেন, একদা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক মর্মস্পর্শী বক্তব্য দিলেন যা শুনে সাহাবিদের চোখ অশ্রুসজল হলো। বিদায়ী এই উপদেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বহু মতভেদ প্রকাশ পাবে।

তখন তোমরা আমার সুন্নাতকে এবং সুপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে... মাড়ির দাঁতসমূহ দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। (আহমাদ, আবু দাঊদ, তিরমিজি, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৬৫)। ধর্মের নামে প্রচলিত সব কুসংস্কার ও বিদ‘আত বর্জন করে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের দেখানো খাঁটি সুন্নাহর পথ আঁকড়ে ধরাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক