অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বৈশ্বিক তামাক কোম্পানি ফিলিপ মরিসকে নারায়ণগঞ্জে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনে কারখানা স্থাপনের যে অনুমোদন তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে নারী মৈত্রী। পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী অবিলম্বে পাস করার দাবি জানানো হয়।
বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি এসআরও জারির মাধ্যমে ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম সংশ্লিষ্ট সব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর মে মাসে দেশে ই-সিগারেট/ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের অনুমতি প্রদান না করার নির্দেশনা দেয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। সেই নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বৈশ্বিক ফিলিপ মরিসকে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনে কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।’
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, নিকোটিন পাউচ উৎপাদন বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বৈধ ব্যবসা। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় নিষেধাজ্ঞা জারির পরও কীভাবে এটি বৈধ ব্যবসা হয়, তার প্রশ্ন তোলেন সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বক্তারা।
নিকোটিন পাউচ অনুমোদন বাতিলের দাবি জানিয়ে নারী মৈত্রীর সভাপতি মাসুমা আলম বলেন, ‘বিশ্বের বহু দেশ জনস্বাস্থ্যের হুমকি বিবেচনায় নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করেছে। ঠিক এমন সময়ে বেজা বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ফিলিপ মরিসকে দেশে নিকোটিন পাউচ উৎপাদন কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। এটি দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই অনুমোদন বাতিল করতে হবে।’
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এফসিটিসি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী হলেও এখনো তামাক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী পাশ হলে এফসিটিসির মানদণ্ড অনুযায়ী আইনটি শক্তিশালী হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তা হবে এক বড় পদক্ষেপ। তাই আমি বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাশ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
উইমেন জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি ফাহমিদা আহমেদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় দেশে ই-সিগারেট/ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিষ্টেম যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের অনুমতি প্রদান না করার নির্দেশনা দেওয়ার পরও এই নিকোটিন পাউচ কারখানা স্থাপনের অনুমোদন সরকারের নীতি এবং সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের লঙ্ঘন। এটি দেশের তরুণ, নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।’
এমন সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে হেলথ রিপোটার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বী বলেন, ‘সমাজ বদলের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়ে নীতিনির্ধারকরা যখন নিকোটিন পাউচের মতো জীবনঘাতী পণ্য উৎপাদনের অনুমোদন দেয় তখন সেটা জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়। এই প্রতারণার দায় নিয়ে অবিলম্বে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।’
এতে অন্যান্যদের মধ্যে উইমেন জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লাবিন রহমান, ইয়ুথ ফোরামের সদস্য আশরাফিয়া জান্নাত, মাহমুদুল হাসান হামিম, মাদার্স ফোরামে কো-কনভেনার শাহনাজ বেগম পলিসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
প্রত্যেকেই তাদের বক্তব্যে নিকোটিন পাউচ অনুমোদন বাতিল এবং অবিলম্বে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী অবিলম্বে পাস করার দাবি জানান। এ ছাড়া নারী মৈত্রী টিচার্স ফোরাম এগেইনস্ট টোব্যাকো, নারী মৈত্রী মাদারস ফোরাম এগেইনস্ট টোব্যাকো ও নারী মৈত্রী ইয়ুথ ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকোর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, তামাকজাত দ্রব্যের মতো নিকোটিন পাউচও শরীরে নিকোটিন গ্রহণের একটি পদ্ধতি। এটি একটি নতুন ধরনের পণ্য যার মাধ্যমে ধূমপান বা তামাক চিবানো ছাড়াই নিকোটিন গ্রহণ করা যায়। বিভিন্ন সুগন্ধি এবং রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারজাত করা হয় পণ্যটি। বিশ্বের বহু দেশ জনস্বাস্থ্যের হুমকি বিবেচনায় নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করেছে।
আরিফ জাওয়াদ/সুমন/