পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বঙ্গোপসাগর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ এখন নিষ্ক্রিয় করিডোর হিসেবে থাকতে চায় না, বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই অঞ্চলে নেতৃত্ব দিতে চায়। তিনি ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৫’ উদ্বোধনী ভাষণে একথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ সক্রিয়, সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল ‘প্লেয়ার’ হিসেবে নিজেকে বেছে নিয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে জড়িত থাকব, প্রয়োজনে দৃঢ়ভাবে কথা বলব ও জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিকে নজর রেখে সর্বদা উৎপাদনশীল অংশীদার হব।”
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনের অধিকারের ওপর জোর দেয়। বাস্তবে এর অর্থ হলো, আমাদের অংশীদারত্বকে অবশ্যই বাস্তব সুবিধা দিতে হবে, কেবল প্রতীকী নয়। ক্ষমতার জ্যামিতিতে যারা থাকবেন, তারা বড় ও মধ্যবিত্ত শক্তির সঙ্গে সমানভাবে সম্পৃক্ত হবেন। তবে তাদের সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌম সমতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘স্থিতিশীলতা কেবল আঞ্চলিক উদ্বেগ নয়, এর অপরিহার্যতা বিশ্বজুড়ে রয়েছে। আমাদের অবশ্যই কার্যকর বহুপক্ষীয় এবং আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে, যা কেবল কথা নয়, এজেন্ডাকে কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত করবে।’ স্থিতিশীলতার বিভাজন সম্পর্কে তিনি বলেন, ইউক্রেন থেকে গাজা, সুদান থেকে মায়ানমার পর্যন্ত সংকট ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং অভাব দেখা গেছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ভঙ্গুরতার মূল্য জানে। আমরা মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আমাদের দরজা খুলে দিয়েছি। আমরা জাতিসংঘ শান্তি মিশনে অবদান রেখেছি এবং আমরা জানি মানবিক সংকট কত দ্রুত বাড়তে পারে।’
অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে এই প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এতে ইইউ সবচেয়ে বড় নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে। এ লক্ষ্যে অন্তবর্তী সরকারের সংস্কার কর্মকাণ্ডে ইইউর সব ধরনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও আমলারা দেশের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। দেশ ও জনগণের স্বার্থে দেশে যে সংস্কার কার্যক্রম চলছে তা ‘মিশন ইমপসিবল’। তিনি বলেন, সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং এতে জনগণের সম্পৃক্ততা থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বাংলাদেশ একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা হলো শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক চর্চার অভাব। একটি উন্নত দেশ ও জাতি গঠনের লক্ষ্যে এই চর্চার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক চর্চার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো প্রতিযোগিতার দরকার নেই, তবে সংস্কারের দরকার আছে।
বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান এবং সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী।