ঢাকা ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভারতীয় ভিসা নিয়ে আশার কথা শুনালেন নতুন হাইকমিশনার ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ লাজ ফার্মায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আজই আবেদন করুন বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার টেবিলে ট্রাম্প-ইরান; বাতিল মার্কিন হামলা তুমি এলে বসন্তে একটা শুক্রবারের দিবাভাগ তোমাকে দেখার স্বাদ মিটবে না ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ লাবণ্য ধরে রাখো কীভাবে? খুব বেশি কিছু না 'সুবিধা হলে নিয়ম মানবে, না হলে নয়', মার্কিন নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ জয়শঙ্করের দায়বদ্ধ রেফারিদের মাথায় কী? হৃদয়ের ভাঙা নীলিমা সময় একটি সাধনাযোগ্য শিল্প জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল জুলাইয়ের পর ভারত-ইসরায়েল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিইউএফটি’তে দু’দিনব্যাপী কর্মসূচি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটি উল্টে প্রাণ গেল চালকের মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা কুষ্টিয়ার সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা সাতচল্লিশের অস্বাভাবিকতার মধ্যেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ২ কিশোর গ্রেপ্তার প্রাচ্য-প্রতিচ্যের দ্বন্দ্ব ও সমকালীন চিন্তার বহুমাত্রিক পাঠ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকারের বাজেট, সোনারগাঁয় আনন্দ মিছিল কারাগারে স্ত্রীকে গাঁজা পৌঁছে দিতে গিয়ে স্বামী আটক চুয়াডাঙ্গায় অপারেশনের মাঝপথে চলে যান চিকিৎসক সোনারগাঁয় অবৈধ গ্যাস সংযোগে চুন কারখানার মালিকের কারাদণ্ড মাদারগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৬
Nagad desktop

চট্টগ্রাম থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের দেহাবশেষ উত্তোলন ও প্রত্যাবর্তন

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৫ এএম
চট্টগ্রাম থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের দেহাবশেষ উত্তোলন ও প্রত্যাবর্তন
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম নগরে ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে নিহত ১৮ জন জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ উত্তোলন এবং জাপানে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে জাপান সরকারের মনোনীত ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল গত ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে অবস্থান করে দেহাবশেষ উত্তোলন কাজ শেষ করেন।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় সম্পূর্ণ কর্মকাণ্ডে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চল। সার্বিক কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান এবং খননকার্যে নেতৃত্ব দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খনন বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (অব.), বীরপ্রতীক।

দেহাবশেষ উত্তোলন শেষে গত ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল যথাযোগ্য সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং পরবর্তীতে দেহাবশেষসমূহ জাপানে পাঠানো হয়। 

এর আগে ২০২৪ সালে জাপান সরকারের অনুরোধে কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ২৩ জন জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ উত্তোলন ও প্রত্যাবাসন কার্য সম্পন্ন করা হয়েছিল।

মেহেদী/

ভারতীয় ভিসা নিয়ে আশার কথা শুনালেন নতুন হাইকমিশনার

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
ভারতীয় ভিসা নিয়ে আশার কথা শুনালেন নতুন হাইকমিশনার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে পৌঁছে ভিসা নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে ভিসা নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

পর্যটন ভিসা চালুর বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমাদের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর এখানের ২০ কোটি যোগ করলে হয় ১৬০ কোটি। সুতরাং যা হবে একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে আমি কিছু ভাবছি না।

দেখুন তো হেঁটে চলে এলাম। মনে হচ্ছে না যে আমি বাংলাদেশে আছি। সবসময় আমি বলি একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্র। তাহলে আমরা মিলেমিশে ভিসার বিষয়ে যা বললেন, সব আমার মাথায় আছে।

তিনি বলেন, আপনার বাংলাদেশের শক্তিশালী গণতন্ত্র, আমাদের শক্তিশালী গণতন্ত্র—দুই গণতন্ত্র মিলে গেলে একটা বিশ্ব শক্তি হয়ে যায়। একটা পুরো অর্থনৈতিক বিশ্ব শক্তি হয়ে যায়, কিন্তু এই মেলামেশাটা দরকার, আর এর জন্য আমার যা দায়িত্ব আছে আমি নিশ্চয় পালন করব। কিন্তু আপনার (মিডিয়ার) সাপোর্ট থাকা দরকার।

নাঈম/

বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০১:১২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এর সঙ্গে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সৌদি আরবের রিয়াদে দ্য পিলগ্রিমস এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী। তিনি ২০২৬ সালের হজের সার্বিক ব্যবস্হাপনায় সাফল্যে বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং ধর্মমন্ত্রীকে আন্তরিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সেবা প্রদানের  জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি ধর্মমন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী বাংলাদেশের এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও সুশৃঙ্খলতার ভূয়সী প্রশংসা করে আগামীতে সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাংলাদেশের সহায়তা কামনা করেন। এছাড়া, আগামী ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সৌদি সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

এদিকে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ সামগ্রিক হজ ব্যবস্থাপনার অভূতপূর্ব উন্নয়নের জন্য সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভিড় ব্যবস্থাপনা, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, মাশায়েরে হাজী সেবা প্রভৃতির মাধ্যমে হজ পালনের সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। আল্লাহর মেহমানদের সেবায় হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাংলাদেশ সৌদি সরকারের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন ধর্মমন্ত্রী।

এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৌদিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন ও কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলামসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকতারা । 

অন্তরা/

কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি কৌশলের ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, কৃষি খাত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, এসএমই শিল্প এবং রুগ্ণ ও বন্ধ কলকারখানার জন্য সহজ শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে ১০ হাজার কোটি টাকা, উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।  

গত এক দশকে কৃষি খাতে মোট মূল্য সংযোজনের অংশ কমলেও শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বেড়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সময়ে কৃষিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে, বিপরীতে শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার শিল্প, সেবা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক ফ্রিল্যান্সিং শিল্পে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শ্রমবাজারের চাহিদামাফিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে কর্মসংস্থানের কাঠামোগত ভারসাম্য আনা হবে।

এ ছাড়া, ক্রিয়েটিভ খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে একটি উচ্চ উৎপাদনশীল, দক্ষ এবং টেকসই কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, যা আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন বাজেটে।

বাজেট বক্তৃতায় ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এ খাতকেও কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাত হিসেবে তুলে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। আর্ট, সংগীত, থিয়েটার ইত্যাদি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে বিশেষায়িত জোন গড়ে তুলে এ খাতের শিল্পী-কলাকুশলীদের জীবনমান উন্নয়ন ও জনসাধারণের চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এ ছাড়া প্রযুক্তি খাতে প্রতি বছরে দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

বরাদ্দ কমিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে উচ্চাভিলাষ!

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বরাদ্দ কমিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে উচ্চাভিলাষ!
ছবি: খবরের কাগজ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো রেমিট্যান্সে চলে অর্থনীতির একটি বড় অংশ। প্রত্যেক সরকারই এই রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য মুখিয়ে থাকে।

ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি, দালালমুক্ত অভিবাসন, প্রবাসীদের সমস্যা নিরসনে মন্ত্রণালয়ে ডেস্ক চালু, প্রবাসী কার্ড চালুসহ নানা পদক্ষেপ নিতে। কিন্তু তার মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ চলতি বাজেটের তুলনায় আগামী বাজেট প্রস্তাবনায় ৫১ কোটি টাকা কমে যাওয়ায় মন্ত্রী হতাশ হয়েছেন। 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য ৮৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আর চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের বরাদ্দের চেয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ৫১ কোটি টাকা কম দেওয়া হয়েছে। 

শ্রমবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে এখন জেনেভায় অবস্থান করছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

গতকাল বৃহস্পতিবার ফোনে খবরের কাগজকে তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাড়ানো দরকার। সেখানে চলতি বাজেটের তুলনায় ৫১ কোটি টাকা কমিয়ে দেওয়ায় প্রস্তাবে অবাক হয়েছেন তিনি। দেশে ফিরে তিনি এ বিষয়টি দেখবেন এবং বাজেট অধিবেশনে সেটা বাড়ানোর প্রস্তাব করবেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, এটি প্রস্তাবিত বাজেট, তাই বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। 

এদিকে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাও সরকারের লক্ষ্য। নুর বলেছেন, এই সেক্টর নিয়ে বাজেট বক্তৃতায়ও নানা উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে আমাদের সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বিমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সঙ্গে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে আমরা রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া–এই দেশগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই অর্থাৎ গত মার্চে প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ।

রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সরকার প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে পেশাভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স এবং পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু করেছে। বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। অর্থ বিভাগের অধীনে ‘স্কিল ফর ইন্ডাস্ট্রি কমপিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম’-এর  আওতায় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার জনকে শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক মাঝারি হতে উচ্চতর দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। 

তিনি জানান, বাংলাদেশি শ্রমিকপ্রধান দেশের দূতাবাসগুলোতে বিদেশে বিপদগ্রস্ত কর্মীদের সুরক্ষায় ‘বাংলাদেশ সাপোর্ট সেন্টার’ স্থাপন করা হবে। এসব সেন্টার জেলে থাকা, নিগৃহীত বা প্রতারিত কর্মীদের উদ্ধার, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। এ ছাড়া দেশে ফেরত প্রবাসীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে নানামুখী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। বিদেশে মৃত্যুবরণকারী প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সহজতর করা হবে।

‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দক্ষ শ্রমিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যমান ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং আরও ৫০টি উপজেলায় নতুন ৫০টি টিটিসি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান  প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনকে দক্ষ ড্রাইভার হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে ইউরোপ, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের সহজ শর্তে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া অব্যাহত থাকবে এবং এ কার্যক্রমের আওতা আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

বাজেটে দুদকের বরাদ্দ বাড়েনি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৫ এএম
বাজেটে দুদকের বরাদ্দ বাড়েনি
ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত বাজেটে দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্য বরাদ্দ বাড়েনি। পরিচালন ব্যয় কিছুটা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও অন্তত তিন গুণ কমানো হয়েছে উন্নয়ন ব্যয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট পেশ করা হয়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে দুদকের জন্য মোট বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১৮৭ কোটি টাকা ও উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে (২০২৫-২৬) বাজেট প্রস্তাবে দুদকের বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১৭৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে দুদকের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২০৩ কোটি টাকা। চূড়ান্ত বরাদ্দে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে ১৬৯ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় কয়েক গুণ বাড়িয়ে ৩৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়।

উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানোর কারণ হিসেবে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছিল, দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই উন্নয়ন খাতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন বরাদ্দের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে বলা হয়েছিল, দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সব জেলায় ১৩ সদস্যবিশিষ্ট ‘মহানগর বা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি’ সব উপজেলায় ৯ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পুনর্গঠন ও পরিচালনা এবং ইউনিয়ন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম আগে থেকেই চলমান, তবে এবারই প্রথম ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সততা এ নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টি করা এবং গণসচেতনতা গড়ে তোলার কাজে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে স্ব স্ব কর্ম-এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেমন- স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহযোগী হিসেবে সততা সংঘ প্রতিষ্ঠা করা হবে। শিক্ষার্থীদের সততাচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সততা স্টোর’ নামে বিক্রেতাবিহীন স্টোর চালু করা হবে। সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সেবা নিশ্চিত করতে গণশুনানি কার্যক্রম চালু রাখা হবে। তথ্যপ্রযুক্তিগত উন্নয়নসহ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে। দুদকের খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। ওই সব কর্মকাণ্ডের ফলপ্রসূ বাস্তবায়ন নিয়ে নানা রকম বিতর্ক রয়েছে।  

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেটে দুদকের জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয় ১১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১১৯ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ছিল ১৫৩ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১৪৭ কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।