‘সচিবালয় ভাতা’ চালুর দাবিতে গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে তার কার্যালয়ে ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। পরে এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সরকারি আদেশ (জিও) জারির আশ্বাস পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা।
গতকাল বেলা আড়াইটার পর থেকে কর্মচারীরা দল বেঁধে সচিবালয়ের ১১ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলায় অর্থ উপদেষ্টার দপ্তরের সামনে ৩০ শতাংশ ভাতার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের একাংশের সভাপতি বাদিউল কবিরের নেতৃত্বে কর্মচারীরা এই কর্মসূচি পালন করেন বলে আন্দোলনকারী কয়েকজন কর্মচারী জানিয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘ঝুঁকির মধ্যেও দায়িত্ব পালন করি আমরা। জাতীয় প্রেসক্লাব-সচিবালয় এলাকা দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক ও সরকারি/বেসরকারি পেশাজীবী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। ঘন ঘন সমাবেশ, মিছিল ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সচিবালয় কর্মীদের প্রতিদিনই বাড়তি ঝুঁকি ও চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়।’
তারা বলেন, ‘অতিরিক্ত সময় কাজ করি, কিন্তু কোনো ওভারটাইম নেই। বিকেল ৫টার পরও অনেক সময় রাত ৮-৯টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। কারণ জরুরি ফাইল, নীতিনির্ধারণ ও সমন্বয়মূলক কাজ থেমে থাকে না। কিন্তু এ অতিরিক্ত শ্রমের জন্য কোনো ওভারটাইম সুবিধা নেই, যা সচিবালয় ভাতার যৌক্তিকতা স্পষ্ট করে।’
রাষ্ট্রপতির/প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে টিপটপ ভাতা এবং অতিরিক্ত কাজের জন্য আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে কাজ করেন। উচ্চ দায়িত্ব, অতিরিক্ত সময়, গোপনীয়তা, ঝুঁকি, বিশেষ ব্যয় এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব–সবকিছু বিবেচনায় ‘সচিবালয় ভাতা’ চালু করা অত্যন্ত যৌক্তিক, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত বলেও জানিয়েছেন আন্দোলনকারী কর্মচারীরা।
বিকেলে অর্থ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে নিজ কক্ষে বৈঠক করেন উপদেষ্টা। তখনো বাইরে বিক্ষোভ চলতে থাকে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কয়েকশ নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী বিক্ষোভে অংশ নেন। অর্থ উপদেষ্টার দপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে হ্যান্ড মাইকে ভাতার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
সেখানে থাকা সচিবালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা রাতে জানান, প্রায় ছয় ঘণ্টা পর জিও জারির আশ্বাস পেয়ে তারা উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে গেছেন।