২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় এক মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী অন্তত ১ হাজার ৮ জন শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
সম্প্রতি সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক ও সড়ক পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে শিশুদের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ৫৩৭ জন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী বা চালক-হেলপার হিসেবে এবং ৪৭১ জন পথচারী হিসেবে দুর্ঘটনার শিকার হয়। পথচারী শিশুদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে বাস ও পণ্যবাহী যান এবং থ্রি-হুইলার ও নসিমন-ভটভটির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাই বেশি দেখা গেছে।
সড়কের ধরন অনুযায়ী, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে শিশু মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি। মোট নিহতের প্রায় ৩৬ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে এবং প্রায় ২৯ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। সময়ের বিচারে, দুপুর ও বিকেলে দুর্ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরাই সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৪ শতাংশ।
সংস্থাটি বলছে, শিশুদের জন্য অনিরাপদ সড়কব্যবস্থা, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদক্ষ চালকের উপস্থিতি, সড়ক ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণের অভাব এবং দুর্ঘটনার পর পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকাই শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় ও বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলাধুলার সময় শিশুরা বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এটি জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
সংস্থাটি সড়ক পরিবহনব্যবস্থা শিশুদের জন্য নিরাপদ করা, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
জয়ন্ত/এসজি/