বিগত দিনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ির এলাকা উন্নয়নবঞ্চিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, ‘সিলেট-৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ সুরমা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এলাকাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি হওয়ার কারণে গত ১৯ বছর এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, খেলার মাঠ, খাল-বিল সবখানেই চরম অবহেলার চিত্র দেখা গেছে।’
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলামে তারেক রহমানের শ্বশুর রিয়ার এডমিরাল মরহুম মাহবুব আলী খানের বাড়ি ও উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, এলাকায় ঘুরে অবকাঠামোগত দুরবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একসঙ্গে সব উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব নয়। তবে জরুরি ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো দ্রুত শুরু করা হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ সুরমাকে অবহেলার গ্লানি থেকে বের করে আনা এবং টেকসই উন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালিক, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বয়ক কামালউদ্দিন, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউস, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতারা।
এম এ মালিক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এর আগে সিলেট সফরকালে বিভিন্ন উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছেন এবং জেলার ১৮টি আসনে সমর্থনের মাধ্যমে জনগণ সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। তবে দক্ষিণ সুরমার বেশ কিছু এলাকা গত প্রায় ১৯ বছর ধরে অবহেলিত ছিল।’
এ সময় তিনি প্রতিমন্ত্রীর কাছে শিক্ষা, চিকিৎসা ও হাসপাতাল সুবিধা সম্প্রসারণ, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কালভার্ট, ব্রিজ ও ফেরিঘাট নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি তুলে ধরেন। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত ও ধন্যবাদ জানানো হয়। স্থানীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ সুরমাসহ সিলেট-৩ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন গতি পাবে।
এসজি/