রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ ও তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
যা বললেন নাহিদ ইসলাম
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি-এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন, তাকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। তার আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার বা এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’
রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তার ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর কিছু কর্মকাণ্ড হাউসের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে তিনটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল-খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো বাতিল করা।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘তিনি (রাষ্ট্রপতি) ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত এবং জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা রয়েছে। এমন একজন ব্যক্তিকে এখনো রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাখা হয়েছে-এটা আমাদের দুর্ভাগ্য।’
সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’
একই আলোচনায় তিনি রাজনৈতিক বিভাজন নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনীতি করেছে। এখন অনেকে বলে-‘সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি।’ এই বিভাজন নিরসনের দায়িত্ব বড় দলগুলোর ছিল।”
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন থাকা কাম্য নয়। আমরা এখনো কেন এই সমাধান করতে পারিনি? এর দায়ভার কে নেবে-বিএনপি, নাকি যারা দীর্ঘদিন জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করেছে?’
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ফাউন্ডেশন, এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধের নামে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ কায়েমের বিষয়টিও ভোলা যাবে না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল মুক্তিযুদ্ধেরই নবায়ন।’
সবশেষে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে বিভাজন পরিহার করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এলিস/এসজি/