বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করতে দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ে সপ্তাহব্যাপী বইমেলা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এই মেলা আয়োজনে সহযোগিতা করবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (৮ মে) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে বইমেলা শুরু করা যেতে পারে। উপজেলা ব্যাপারে বইমেলার আয়োজনের আমার মন্ত্রণালয় থেকে সহযোগিতা করা হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব খাতে ৫% টাকা শিক্ষা খাতে ধরা থাকে। মেলা আয়োজনে যদি চিঠি দেওয়া হয়, তবে আমরা উপজেলা পর্যায়ের অনুশাসন জারি করব যে, স্থানীয় প্রকাশক এবং বিক্রেতা সমিতির সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের যৌথভাবে সাত দিনব্যাপী একটি বইমেলার আয়োজন করবে; যেটির খরচ আমরা ওই খাত থেকে ব্যয় করব।’
প্রকাশনা শিল্পকে নীরব শিল্প উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘নীরবে পান্ডুলিপি লেখা চলছে, আবার নীরবে সম্পাদনা চলছে এবং নীরবে ছাপা হচ্ছে। বিক্রি যারা করেন, তাদের কাছেও নিরবে চলে যাচ্ছে; নীরব একটি শিল্পকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে হবে, কারণ আমরা বক্তৃতায় বলি শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড; কিন্তু এই মেরুদণ্ড দাঁড় করার ডাক্তার তো প্রকাশকরাই। যদি তাদের মূল্যায়ন না করি, তাহলে আমাদের মেরুনদণ্ড সোজা হবে কিভাবে?’
এসময় তিনি বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) নাম পরিবর্তনের জন্যও আহ্বান জানান। এছাড়া পরবর্তী বছরে অমর একুশে বইমেলায় বাংলা একাডেমি, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাপুস’সহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করা হবে, বলে উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বই ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পাশে থাকার আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আপনাদের সুখ-দুঃখ যেকোনো সমস্যা আপনারা যখনই আমার কাছে আসবেন বা আমাকে ডাকবেন আমি আপনাদের কাছে যাব এবং প্রয়োজন বোধে যেহেতু আমি একজন প্রতিমন্ত্রী, তাই আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যে পুস্তক এই সমিতি এবং এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী, শ্রমিক যারা রয়েছেন তাদের ওয়েলফেয়ার সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমি কাজ করে যাব।’
সভায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) ২০২৪-২০২৫ সেশনের দিনব্যাপী ওই বার্ষিক সাধারণ সভা সারাদেশ থেকে আগত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাপুসের কমিটির নেতৃবৃন্দরা এতে অংশ নেয়।
আরিফ জাওয়াদ/এসএন