অল্প সময়ের মধ্যে ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা এবং পশুবাহী পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন করার বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে কুমিল্লার শিল্পকলা একাডেমিতে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
তবে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে এবং তা করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘সড়কসংশ্লিষ্ট যতগুলো সেক্টর রয়েছে সবার সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। কিছু কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। তারপরও এত বিশাল পরিমাণ মানুষ এবং কোরবানির পশু পরিবহন একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র তিন দিনের মধ্যে আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানিযোগ্য পশুকে পরিবহন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের অবকাঠামো ও পরিবহন নিয়ে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। যে কারণে ঈদ যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক করা কষ্টকর হয়ে যায়। আমি মনে করি সবার সহযোগিতা থাকলে, জনগণ সচেতন থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে বলে নিশ্চিত করতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে হওয়া বাঞ্ছনীয়। সেই লক্ষ্যে কাজ হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাক প্রস্তুতিও চলছে। এটি অগ্রাধিকার পাবে কারণ এটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। মহাসড়ক বিভাগের মহাপরিকল্পনায় ২০৩১ সালের মধ্যে ৮ লেনে উন্নীত করার জন্য ৪০০ কিলোমিটার মহাসড়ক টার্গেট করা হয়েছে, ৬ লেনে উন্নীত করার জন্য রয়েছে ৬০০ কিলোমিটারের মতো রাস্তা, ৪ লেনে উন্নীত করার জন্য রয়েছে এক হাজার কিলোমিটার রাস্তা। আমরা আমাদের মেয়াদের মধ্যে যেগুলো শেষ হবে সেগুলো শেষ করতে চাই আর যেগুলো শেষ হবে না সেগুলো বড় প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করতে চাই।’
এর আগে, কুমিল্লা জেলা প্রশাসন এবং বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ রেলওয়ে কুমিল্লা জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ চেক বিতরণ করে। এর মধ্যে ৮৬ জন নিহতের পরিবার এবং ৩৩ জন আহতের পরিবার এই ক্ষতিপূরণের চেক পান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মো. জিয়াউল হক, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ সড়ক বিভাগ, রেলওয়ে, হাইওয়ে পুলিশ ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর গড়ে সাড়ে ৪ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। যার প্রধান দুটি কারণ চালকের অদক্ষতা ও আনফিট বাস। জনগণের অসচেতনতাও আছে। তবে আমাদের এসব কমিয়ে আনতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতদের পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার ভাববে। সে দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘আমরা আমাদের দায়িত্ব ঈমানের সঙ্গে পালনের চেষ্টা করছি। দুর্ঘটনার স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার পরিমাণ কমে আসছে।’
‘আর কত প্রাণ ঝরলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পরিকল্পিতভাবে নির্মিত হবে’- এই প্রশ্ন রেখে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী আমি জানতে চাই, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কত, ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কে কত খরচ হয়েছে? সবকিছুর দায়ভার কেন এই অঞ্চলের মানুষ নেবে? সরকার কত দ্রুত এই মহাসড়কটি পরিকল্পিতভাবে জনবান্ধব করে তৈরি করতে পারবে?’
অনুষ্ঠানের অতিথিরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
জহির শান্ত/সালমান/