প্রতিবিপ্লবের ঝুঁকি এড়াতে এই মুহূর্তে জাতীয় সরকার গঠনের বিকল্প নেই এবং তা না করলে অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাসও টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর শাহজাদপুরে জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর গণঅধিকার পরিষদের এই আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, বিপ্লবের পরে প্রতি বিপ্লবের ঝুঁকি থাকে। বিপ্লব নস্যাৎ করতে অনেকে ষড়যন্ত্র করে। চার মাসেও দেশে স্থিতিশীলতা আসেনি। নির্বাচন নিয়ে সরকার, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন শুরু হয়ে গেছে। জাতীয় সরকার ছাড়া এ সরকার ছয় মাসও টিকবে না।’
এ সময় তিনি আওয়ামী লীগকে পুর্নবাসনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন।
গণঅভ্যুথত্থানে নিহতদের এক কোটি ও আহতদের ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে নুর বলেন, ‘বারবার আহত, নিহতদের সহযোগিতা ও ক্ষতিপূরণের কথা বললেও সরকারের কানে পানি যাচ্ছে না। ডিসেম্বরের মধ্যে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া না হলে জানুয়ারি মাসে গণঅধিকার পরিষদ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও করবে এবং উপদেষ্টাদের মন্ত্রণালয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’
আলোচনা সভায় গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী নিজেদের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ধারক-বাহক দাবি করে পতিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরদের সহযোগিতা নিয়ে কিংস পার্টি গঠনের পয়তারা করছে। সরকারের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে একটি পার্টি গঠন জনগণ গ্রহণ করবে না।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শরিক শক্তিগুলোকে সরকার এখন অস্বীকার করছে। উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের শুরুতেই ইনক্লুসিভ সমাজব্যবস্থা গঠনে হোঁচট খেয়েছে। আন্দোলন কি দু-একটি সংগঠন করেছে? বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলো, সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতা করে নাই? কিন্তু আজকে সবার অবদান অস্বীকার করা হচ্ছে।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একাত্তরের পরে ক্ষমতা যেভাবে বেদখল হয়ে স্বাধীনতা বেহাত হয়, ঠিক চব্বিশের পরে একপেশে সরকার গঠিত হওয়ায় বিপ্লবও বেহাত হওয়ার পথে।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে গণঅধিকার পরিষদ নেতা রাশেদ খাঁন বলেন, ‘দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক নাই, চাঁদাবাজি, মারামারি, খুনাখুনি চলছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাক চেয়ে আছেন। গত ১৫ বছরে বা বিপ্লবে তার অবদান কি? এমন লোক কীভাবে বিপ্লবী সরকারের উপদেষ্টা হয়?’
জয়ন্ত সাহা/সুমন/