খালেদা জিয়াকে বাড়িছাড়া করেছিলেন আর জনগণ আপনাকে (হাসিনা) দেশছাড়া করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পরিষদের উদ্যোগে সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক ছাত্রনেতা জাকির খানসহ সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘একটা রাজনৈতিক দল টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে গণঅভ্যুত্থানের কারণে সমস্ত সহযোগীদের নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়িছাড়া করেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে দেশছাড়া করেছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য আলাল বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীর নামে যে অজস্র মামলা রয়েছে, সে মামলাগুলো এখনো কেন তুলে নেওয়া হচ্ছে না কেন? যে মামলাগুলোতে আমাদেরকে সাজা দেওয়া হয়েছে, সে মামলাগুলোর তথ্য প্রমাণ কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি। মিথ্যা মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলাগুলো তুলে নেওয়ার জন্য আপনারা এখন দাবাড়ুদের মতো দাবার গুটি সাজিয়েছেন। এটা হলে ওইটা হবে, আর ওইটা হলে এটা হবে। এটাতো ন্যায়বিচার নয়। ন্যায় বিচার হলো জাস্টিস। আমরা এ সরকারের কাছে জাস্টিস চাই, ন্যায়বিচার চাই।’
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘গোটা বিচার বিভাগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে বিচারপতি খায়রুল হক ও ওবায়দুল হাসান। এদেরকে ব্যবহার করে মানুষের ন্যায্য অধিকার, ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এটা এই সরকারের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) প্রধানরাও স্বীকার করছেন।’
আলাল বলেন, ‘ন্যায় বিচারের দৃষ্টান্ত দেখাতে হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলাগুলো যেভাবে আইনের দৃষ্টিতে বাতিল হয়ে যাচ্ছে, একইভাবে আব্দুস সালাম পিন্টু, লুৎফর জামান বাবর ও জাকির খানের মামলাগুলো বাতিল হওয়া উচিত।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আজকে সংস্কার বা অন্য কোনো অজুহাত দেখিয়ে দিনের পর দিন মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার কোনো যুক্তি নেই। বাংলাদেশের মানুষের জীবন ধারণের জন্য সামান্য জিনিস কেনার ক্ষমতা কেন নেই। বাজার সিন্ডিকেট কেন ভাঙতে পারছেন না। কেন কালোবাজারি মজুতদারদেরকে ধরছেন না। কেন সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে পারছেন না। বাংলাদেশের মানুষের সাহস ও বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে যে রায় আপনাদের পক্ষে দেওয়া হয়েছে, সে রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন কেন করতে পারছেন না। কোথায় সমস্যা?’
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ বলেন, ‘এই সরকার জনগণের রক্ত-ঘামে প্রতিষ্ঠিত। সেই সরকারের কাছে এখনো আমাদেরকে দাবি জানাতে হয় এটা খুবই দুঃখজনক। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন ধ্বংস করার জন্য আওয়ামী লীগের দেওয়া মামলাগুলো এখন পর্যন্ত প্রত্যাহার হয়নি। যারা সাজা মাথায় নিয়ে আছেন তাদের সেই সাজা প্রত্যাহার করার দায়িত্ব এই সরকারের ছিল। কারণ দেশের জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করতে গিয়ে তারেক রহমানের নামে মামলা হয়েছে। গণতন্ত্রের পক্ষে থেকে আন্দোলন করেছে বলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে মামলা হয়েছে, জেল খাটতে হয়েছে। তাদের পক্ষে সরকার থাকা অবস্থায় এখনো তারা জেলে রয়েছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ কামাল আহমেদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর আমির হোসেন আমু, বাংলাদেশ চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবির, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পারভেজ মল্লিক, এল কে রনি, দেলোয়ার হোসেন খোকন প্রমুখ।
শফিকুল ইসলাম/সাদিয়া নাহার/