পুরোনো নেতারাই বাগিয়ে নিতে চান চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ ও মহানগর যুবদলের শীর্ষ পদগুলো। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও নতুন করে একই পদ পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন। এই তিন সাংগঠনিক জেলায় কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পদপ্রত্যাশীদের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
চলছে ঢাকায় তদবির। নিজেরাও যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। যেসব জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতার অনুসারী হিসেবে পদপ্রত্যাশীরা রাজনীতি করেন, তাদেরও কাজে লাগানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিন সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করলেও উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের কমিটি এখনো বহাল আছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় যুবদল সূত্রে জানা গেছে, কমিটি গঠনের বিষয়ে তারা এবার বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছে। শুধু বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সুপারিশ কিংবা পদপ্রত্যাশীদের তদবিরের ওপর তারা নির্ভর করছেন না। নিজস্ব লোক দিয়ে মাঠপর্যায়েও খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এ ছাড়া ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটপাটে যাদের নাম এসেছে, পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে তা ‘মাইনাস পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের কমিটি হয় ২০১৭ সালে। ২০১ সদস্যবিশিষ্ট ৩ বছর মেয়াদি কমিটির সভাপতি রাউজানের হাসান জসিম এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন রাঙ্গুনিয়ার মুরাদ চৌধুরী। তারা দুজনেই চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। নতুন কমিটি ঘোষণার তোড়জোড় শুরু হওয়ার পর হাসান জসিমের তেমন তৎপরতা না থাকলেও মুরাদ চৌধুরীকে বেশ তৎপর দেখা হচ্ছে।
উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরীও সভাপতি পদপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে। উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল আফছার ভুঁইয়া জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক মইনুল আলম জনি, উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হুদা, সাংগঠনিক সম্পাদক আওরঙ্গজেব মোস্তাফা এবং সহসাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন নুরু সাধারণ সম্পাদকের পদপ্রত্যাশী বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরী খবরের কাগজকে জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সব উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটিগুলো সম্মেলনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পেরেছেন। সাংগঠনিক কাজ করতে গিয়ে জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। তিনি এবার উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতির পদ প্রত্যাশা করছেন। দল যদি দায়িত্ব দেয়, তিনি আন্তরিকভাবে তা পালন করবেন।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী উত্তর জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন নুরু খবরের কাগজকে জানান, গত সরকারের হাজারও বাধাকে উপেক্ষা করে প্রতিকূল পরিবেশে উত্তর চট্টগ্রামে যুবদল যে সাংগঠনিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা আরও বেগবান করতে তিনি সাধারণ সম্পাদকের পদ প্রত্যাশা করছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব আবারও পেতে চান চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ। যুবদলের একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি জানান তারা।
এ ছাড়া এসব পদের জন্য তৎপরতা দেখাচ্ছেন নগর বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য গাজী সিরাজ উল্লাহ, যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন, নগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির তৃতীয় সহসভাপতি সাহেদ আকবর। তিনি নগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ফজলুল হক সুমন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, সাবেক নগর বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মাইনুদ্দীন শহীদ, এনামুল হক রাজুসহ বেশ কয়েকজনের নাম প্রচার আছে।
মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাহেদ খবরের কাগজকে জানান, সারা দেশেই কমিটি দেবে। আমাদের ডেকে কেন্দ্র থেকে জানিয়ে দিয়েছে, কমিটি প্রক্রিয়াধীন। তাদের আমলে ১৫ থানা এবং ১৭টি ওয়ার্ডের কমিটি তারা গঠন করেছিলেন। বাকি ওয়ার্ডগুলো গঠন করতে না পারার জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতিকে দায়ী করেন তিনি। সভাপতির পদ পেলে নগর যুবদলকে আর সুন্দরভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আকবর খবরের কাগজকে বলেন, ‘যারা দল ও সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন, যারা দলের ইমেজ বাড়িয়েছেন, তাদেরই এবার মূল্যায়ন করা হবে। সেই হিসেবে তিনি নিজে গত সরকারের আমলে নির্যাতিত এবং জিয়ার সৈনিক।’ তিনি জানান, দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়, এমন কাজ করেননি। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করছেন। চরম দুঃসময়েও প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করেননি। বরং দলের দুঃসময়ে, আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন। সেসব বিবেচনায় দল মূল্যায়ন করলে দায়িত্ব পালনে নিজেকে উজাড় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করবেন।
দক্ষিণ জেলা
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের কমিটিতে স্থান পেতে চলছে একই ধরনের প্রচেষ্টা। জেলা যুবদল সভাপতি মো. আজগর, মোজাম্মেল হক, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. মহসিন, বাঁশখালী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু আহমেদ, জেলা যুবদলের সহসভাপিত মো. শাহাজাহান চৌধুরী ও সহসম্পাদক আব্বাস উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন পদ পেতে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে মো. আজগর খবরের কাগজকে জানান, তিন বছরের কমিটি এখন সাড়ে ৬ বছর হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফ্যাসিবাদী সরকারের মামলা-হামলা এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সামনে নতুন করে কমিটি ঘোষণা হবে। তিনি আবারও সভাপতি পদপ্রত্যাশী উল্লেখ করে বলেন, ‘সবকিছু কেন্দ্রের হাতে। কেন্দ্র যে দায়িত্ব দেবে বিগত সময়ের মতো আন্তরিকভাবে তা পালন করবেন।’
জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না জানান, চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক জেলা কমিটির বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে। দলের জন্য ত্যাগী এবং সুনামের সঙ্গে রাজনীতি করছেন তাদেরই বেছে নেওয়া হবে।