নির্বাচন নিয়ে ধানাইপানাই শোনার জন্য এতোদিন আন্দোলন সংগ্রাম করিনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক টিমের প্রধান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
তিনি বলেছেন, আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের একটাই লক্ষ্য উদ্দেশ্য ছিল, দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, এখনও সংগ্রামে আছি। একজন বলেন বছরের শেষে ইলেকশন দেবে, আরেকজন বলে সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট পাওয়া গেলে কথাবার্তার পরে একটা তারিখ দেবে, কিন্তু এতো ধানাইপানাই শোনার জন্য আমরা সংগ্রাম করিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রবিবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় বরিশালে সদর রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপি (দক্ষিণ) আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যতদিন পর্যন্ত এদেশের প্রতিটি মানুষের ভোটের অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, মৌলিক অধিকার অর্জিত না হয় ততোদিন পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে উল্লেখ করে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এগুলোর প্রারম্ভিক কাজ হলো নির্বাচন। নির্বাচন করতে হলে আগের সরকারকে বিতাড়িত করা জরুরি ছিল, আমাদের সংগ্রামের উদ্দেশ্যও তাই ছিল। সংগ্রামে প্রাথমিক বিজয় আমরা পেয়েছি কিন্তু আসল উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য এখনও আমাদের সামনে।
দেশবাসীর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা ১৮ বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করছি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যু পথযাত্রী হয়েও সংগ্রাম করেছেন শুধু গণতন্ত্র এবং মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য।
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য মিন্টু বলেন, নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে দলের ভেতর একতা সব থেকে বেশি দরকার। সব সময় নতুন নেতৃত্ব আসবে। নেতাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য ভবিষ্যতের জন্য নেতৃত্ব সৃষ্টি করা। মনে রাখবেন দল সবসময় থাকবে কিন্তু নেতৃত্ব ক্ষণস্থায়ী।
'স্বাধীনতার ঘোষক কে? এ বিষয়টি নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করার সুযোগ ভবিষ্যতে আর কেউ পাবে না' হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম যতবার মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে ততই তার অনুগামী ও অনুসারীদের হৃদয়ের স্পৃহা আরও বেড়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা, দেশের মহান রাষ্ট্রনায়কের নাম আমরা কোনো দিন মুছতে দেব না।
যতগুলো সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তিনি প্রত্যেকটি সাংবিধানিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে মিন্টু বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লিডারশিপের কারণেই তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে আমরা শস্য ভাণ্ডারে পরিণত হয়ে বিদেশেও চাল রপ্তানি করেছি। যে গণতন্ত্র আমাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তিনি সেই বহুদলীয় গণতন্ত্রও আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। আলোচনা শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া-মোনাজাত করা হয়। পরে অশ্বিনীকুমার হলে মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠানে যোগদান করেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
সবুজ/সিফাত/