ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা: বিজিবির নজরদারি জোরদার দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি নিহত কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব ও বুবলী হাম উপসর্গে একদিনে ৫ জনের মৃত্যু
Nagad desktop

কেনাবেচার রাজনীতিকদের সঙ্গে রাজনীতি করব না: জি এম কাদেরের

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৫, ০১:২৯ পিএম
কেনাবেচার রাজনীতিকদের সঙ্গে রাজনীতি করব না: জি এম কাদেরের
জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের (জি এম কাদের) নির্দেশনা অমান্য করে পার্টির দশম কাউন্সিল অধিবেশনের চেষ্টা করায় দলটির তিন শীর্ষ নেতার শাস্তির দাবি করেছেন তৃণমূলের নেতারা। জি এম কাদেরও বলেছেন, যারা বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পার্টিকে নিয়ে কেনাবেচার রাজনীতি করেছেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি আর রাজনীতি করতে চান না। 

বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন জি এম কাদের। 

এ সভায় তৃণমূলের নেতারা জি এম কাদেরের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেছেন। তৃণমূলের নেতারা এ সময় জি এম কাদেরকে বলেন, জাতীয় পার্টির মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আলমগীর সিকদার লোটন, ইমরান হোসেন মিয়া, লিয়াকত হোসেন খোকা, শেরীফা কাদের, মো. শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, ইকবাল হোসেন তাপসসহ অন্যরা। সভা পরিচালনা করেন জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম। 

জাপার শীর্ষ নেতা সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে সভায় তীব্র ক্ষোভ জানান দলের তৃণমূলের নেতারা। 

সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা অভিযোগ এনে বলেছেন, এই তিন নেতা গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে জাতীয় পার্টির সম্মানহানি করেছেন। আওয়ামী লীগের অধীনে বিগত তিন নির্বাচনে এই তিন নেতা নিজেদের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী বলে প্রচার চালান। জাপার চেয়ারম্যান ও দলীয় প্রতীকও অনেক পোস্টারে দেখা যায়নি। তিন নেতার এমন কাণ্ডে জাতীয় পার্টি ভোটের মাঠে নিজেদের অবস্থান হারিয়েছে। 

শুধু তাই নয়, প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেও তারা মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন। জাতীয় পার্টিকে যে ‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ তকমা দেওয়া হয়েছে, তার মূলে এই তিন নেতার দায় দেখছে তৃণমূল। 

সভায় জেলা পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, ‘এই তিন নেতা কেবল এমপি ও মন্ত্রী হতে আওয়ামী লীগের  ফ্যাসিবাদী নেতাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে গেছেন। দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের যতবার স্বকীয় অবস্থান বজায় রেখে স্বতন্ত্র জাতীয় পার্টি গড়তে চেয়েছেন, ততবারই তারা বাধা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকারের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে চেয়ারম্যান সমালোচনা করলে এই তিন নেতা উল্টো সুরে কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের পতনের পরে এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছেন, যদি পরের নির্বাচনে এমপি হওয়া যায় কোনোভাবে।’

সভায় আরেকজন নেতা বলেন, ‘দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রওশন এরশাদের সঙ্গে জি এম কাদেরের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন এই তিন নেতা। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জীবদ্দশাতেই দল ভেঙে দেওয়ার নানা চক্রান্ত তারা করেছেন। তবে সে তৎপরতা সফল হয়নি। চব্বিশের বিতর্কিত নির্বাচনে জাপার অধিকাংশ নেতা অংশ নিতে না চাইলেও এই তিন নেতা ষড়যন্ত্র করেন। তারা জি এম কাদেরকে বাধ্য করেন নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিতে। যার ফলে এখন জাপাকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে অন্য দলগুলো সমালোচনা করছে।’ 

এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘যারা জাতীয় পার্টি নিয়ে এতদিন বেচাকেনার রাজনীতি করেছেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে আর রাজনীতি করব না।’

গত ২০ মে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভায় জি এম কাদের জানিয়েছিলেন, ২৮ জুন দলের দশম জাতীয় সম্মেলন (কাউন্সিল অধিবেশন) আয়োজন করা হবে। সে লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র বরাদ্দ পেতে আবেদন করে। তারা হলও পেয়ে যায়। কিন্তু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি সভা থাকায় সেই আবেদন পরে বাতিল করা হয়। তখন উপযুক্ত ভেন্যু না পেয়ে জি এম কাদের কাউন্সিল অধিবেশনটি স্থগিত করেন কিছুদিনের জন্য। এ সিদ্ধান্তের কথা নির্বাচন কমিশনকেও চিঠি দিয়ে জানান তিনি।

দলের দপ্তর বিভাগ খবরের কাগজকে জানিয়েছে, জুলাই-আগস্টের মধ্যবর্তী কোনো একটি সময়ে জি এম কাদের দলের কাউন্সিল অধিবেশন আয়োজন করতে চান। 

তবে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও  মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু। । তারা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ২৮ জুন সকালেই পার্টির কাউন্সিল আয়োজন করতে চান। তারা রাজধানীর কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ওই কাউন্সিল অধিবেশন আয়োজন করতে চান। এ নিয়ে তারা নানা তোড়জোড় শুরু করলেও দলের নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে সাড়া পাচ্ছেন না। 

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারদের ভরসা এখন জাপার দলছুট ও বহিষ্কৃত নেতারা। জানা গেছে, দলের নিষ্ক্রিয় ও বহিষ্কৃত নেতাদের নিয়ে কাউন্সিল আয়োজন করে তারা দুজনে জাপার চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের পদে বসতে চান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন দলটির নেতারাও গা-ঢাকা দেন। জাপার শীর্ষ তিন নেতা কাউন্সিল আয়োজন করতে চাইলে তারা এখন সেই অংশের সঙ্গে ভিড়তে চান। 

দলের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দলে ভাঙনের প্রশ্ন যখন জোরদার হচ্ছে, তখন তৃণমূলের নেতারা ঢাকায় এসে জি এম কাদেরকে তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন জুগিয়েছেন। 

এখানেই শেষ নয়। গত ২০ মে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভায় দলের গঠনতন্ত্রের ২০ (ক) ধারা নিয়ে আপত্তি তোলেন ওই তিন শীর্ষ নেতা। তাদের সঙ্গে দু-একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য সুর মেলান। গঠনতন্ত্রের ওই ধারায় দলের চেয়ারম্যানকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে; যাতে দলের প্রয়োজনে তিনি যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। 

তিন শীর্ষ নেতার অভিযোগ,  জি এম কাদের এই ধারার অপব্যবহার করছেন। তিনি যখন-তখন যাকে খুশি তাকে দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করছেন। তারা এ ধারা রদ করতে চান।  

তবে জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা বলছেন, এ ধারা নিয়ে যতই সমালোচনা থাকুক, জি এম কাদের ধারাটির অপব্যবহার করছেন না। জি এম কাদেরকে বিতর্কিত করে তাকে চেয়ার‌ম্যানের পদ থেকে হটাতে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে।

জাপার তিন শীর্ষ নেতা দলছুট নেতাদের দলে পুনরায় ফেরাতে জি এম কাদেরকে চাপে রাখলেও তৃণমূল তাদের ফেরাতে নারাজ। তারা জি এম কাদেরকে বলেছেন, বিতর্কিত নেতাদের দলে ফেরানো যাবে না কোনোভাবেই। জি এম কাদের তৃণমূলকে আশ্বস্ত করেন। 

জি এম কাদেরের স্বেচ্ছাচারিতার অবসান চান সিনিয়র নেতারা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের স্বেচ্ছাচারিতামূলক কর্মকাণ্ডের অবসান চান দলটির সিনিয়র নেতারা। বুধবার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতা-কর্মীরা দলীয় অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানিয়ে এলেও মাননীয় চেয়ারম্যান সেই চাহিদা এড়িয়ে যাচ্ছেন।  এই একতরফা সিদ্ধান্তের পেছনে দুরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য আছে বলে আমরা মনে করি।’ 

তারা বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানাই, মাননীয় চেয়ারম্যান যেন অবিলম্বে একগুঁয়েমি ও স্বেচ্ছাচারিতার পথ থেকে সরে এসে পল্লি বন্ধুর আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, অনতিবিলম্বে জাতীয় কাউন্সিলের নতুন তারিখ ঘোষণা করেন। সেই কাউন্সিল প্রেসিডিয়ামের সভা আহ্বান করে পুনরায় সিদ্ধান্ত নিয়ে যথাসময়ে কাউন্সিল অধিবেশন আয়োজনে সহযোগিতা করবেন। জাতীয় পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী এবং গণতান্ত্রিক দল হিসেবে পুনর্গঠনের এটাই উপযুক্ত সময়।’ 

জি এম কাদেরকে উদ্দেশ করে তারা বলেন, ‘দয়া করে দলকে একক সিদ্ধান্ত, গোপনীয়তা এবং দায়বদ্ধতা বিবর্জিত নেতৃত্বের দিকে নয় বরং অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং যৌথ নেতৃত্বের মাধ্যমে ঐক্যের পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করুন।’

হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?
ছবি: খবরের কাগজ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র প্রয়াত শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। 

শুক্রবার (৫ জুন) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনার সময়কার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে এবং কার অনুমতিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই হত্যা মামলার বাদী হলেন, তা অবিলম্বে পরিষ্কার করতে হবে।

পোস্টে মাসুমা হাদি লেখেন, ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে, যেসব বিষয়ে তিনি এখনো মুখ খোলেননি শুধু ভাইয়ের কথা ভেবে। তবে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে ‘নোংরামি’ চলছে, তার প্রেক্ষিতে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

মাসুমা হাদি উল্লেখ করেন, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়েই তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান এবং এক মুহূর্তের জন্যও ভাইয়ের পাশ থেকে সরেননি। তার প্রশ্ন ‘প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে স্বাক্ষর (সাইন) নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের স্বাক্ষর দেবে কেন?’ এ বিষয়ে তাকে বোঝানো হয়েছিল যে, ওমর (ওসমান হাদির ভাই) এর কাছে পুলিশ গিয়েছিল এবং তিনি চিকিৎসার ব্যস্ততার কারণে পরে বিষয়টি দেখবেন বলেছিলেন। মাসুমা হাদি বলেন, ‘এ ধরনের ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে নেওয়া নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই, এবং পুলিশ চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়েও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতো।’

তৎকালীন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে মাসুমা হাদি লেখেন, একই রিকশায় দুই ভাই থাকায় ওসমান গণির (হাদি) রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত হয়ে পড়েছিলেন। বুলেট আরেকটু এদিকে লাগলে ওমরও সেদিন মারা যেতে পারতেন। ওসমান হাদিকে যেদিন সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়, সেদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে নিজের পোশাক ও হাতের ঘড়ি থেকে ভাইয়ের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন।

এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাবের যদি আমাদের নলছিটির ছেলে না হতো, তাহলে কোনো প্রশ্নই থাকত না। কারণ ওসমান গণির সঙ্গে দীর্ঘদিন যারা চলাফেরা করেছেন, তারা জানেন তার জীবনে তার ছোট আপুর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই ছোট আপুর সঙ্গে পরামর্শ না করে কার অনুমতিতে জাবের মামলার বাদী হলো এটি পরিষ্কার করতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমরের লাইফস্টাইল নিয়ে চলা ট্রলিংয়ের জবাবে মাসুমা হাদি জানান, ওমর যে ঘড়ি পরেন তা পাঁচ বছর আগে ১৭ হাজার টাকায় কেনা। এছাড়া ২০১৬ সালে তিনি ৩০ হাজার টাকার ব্লেজার এবং ৭০ হাজার টাকার মোবাইল ব্যবহার করতেন। কাউকে না জেনে অযথা ট্রল না করার অনুরোধ জানান তিনি।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে অনেকেই দায়িত্ব নিতে চাইলেও পরিবার সায় দেয়নি। সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে থাইল্যান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। পরে সরকার বিষয়টি জানার পর দায়িত্ব নেয় এবং দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে কাগজপত্র পাঠালে তা গ্রহণ করা হয়। এরপরই ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।’

রাজু/রিফাত/

রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে দেশের রাজনীতি এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য চারদিকে সুপরিকল্পিত ও গভীর চক্রান্ত চলছে।’

শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে এখনকার রাজনীতিতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন করে সমাজের কাছে, রাজনীতির কাছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের হীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি মূলত রাজনীতিকে ধ্বংস করার একটি চক্রান্ত এবং এটি সুস্থ রাজনীতির জন্য কোনো শুভ লক্ষণ নয়।’

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ব্যাখ্যা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকেই অনেক রকম চিন্তা করেন। কিন্তু বিএনপির মূল চরিত্র হচ্ছে এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘একটা বড় আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের পর আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আজ গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সবকিছুকে ভেঙে ফেলা এবং মস্তহীন করার মধ্য দিয়ে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে একটি সরকার গঠন করতে পেরেছি। এখন এই সরকারের দায়িত্ব হবে দ্রুততার সঙ্গে এই চক্রান্তকে চিহ্নিত করে সঠিক খাতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা।’

স্মরণ সভায় প্রয়াত নেতাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা ভাইয়েরা এমন এক সময়ে রাজনীতি করেছেন যখন রাজনীতিতে এথিক্স, মোরালিটি ও মূল্যবোধ ছিল। তারা সবসময় জনগণের কল্যাণ, মানুষের সমস্যার সমাধান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে গেছেন।’

রিফাত/

হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়দেইল গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে।

সম্প্রতি তিনি ফেসবুক লাইভে এসে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। আবদুল গাফফার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান, রিফাত ও মাহিমকে সেফ হোমে রেখে আমি বাঁচিয়েছি। তখন তাদের ভিডিওবার্তা থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করেছি। তার কারণে হান্নানের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সঙ্গে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন আমি এতে বাধা দিই।’

গাফফার অভিযোগ করে বলেন, ‘হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খানকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর আমি রাশেদ খানের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসউদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা ধরনের হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি হান্নান মাসউদকে জানাই। তিনি বলেন, ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শোনে না। তারা যা করার করুক।’

ছাত্রদল নেতা গাফফারের দাবি, ‘চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁসের পর হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে এবং প্রধান ফটকে হামলা চালায়। পরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা এখনও ভীতসন্ত্রস্ত। মা-বাবা বলছেন, আমি যেন আর কোনো বক্তব্য না দিই। আবারও তারা বাড়িতে হামলা করতে পারে।’

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তিন কোটি টাকা দাবির স্ট্যাটাস দেওয়ায় গত দুই দিন ধরে ছাত্রদল নেতা গাফফারকে প্রকাশ্যে হান্নান মাসউদের অনুসারী এনসিপির নেতা-কর্মীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। যারা হুমকি দিয়েছে, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল তিবরিজ বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে, এটা এনসিপির নেতা-কর্মীরা করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করার পর আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সেগুলোই সামাল দিতে পারি না, আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব কেন? পুরো বিষয়টি একটি সাজানো নাটক, যাতে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক তারা কী করতে পারে।’

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার। ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মেরেছে। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালার একটি অংশ ভেঙে যায়। কে মারছে, কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মজনু/রিফাত/

চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম মহানগরের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অনেককে মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়।

মিছিলটি বন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে শেখ মুজিব সড়ক হয়ে আগ্রাবাদ মোড়ের দিকে অগ্রসর হয় এবং পরে বিদ্যুৎ ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যানার বহন করেন। ব্যানারে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচার এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানানো হয়।

স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম নগরে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বেশ কয়েকটি ঝটিকা কর্মসূচির পর এটি আরও একটি আলোচিত রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও পর্যালোচনা করে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রিফাত/

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম
ছবি: খবরের কাগজ

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে দফায় দফায় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেইটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। 

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ বা সংসদীয় কমিটিতে কোনো আলোচনা ছাড়াই বাজেট ঘোষণার পূর্বে সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে একটি খারাপ নজির স্থাপন করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে জনদুর্ভোগ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশেরও বেশি। ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৬.৭ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য প্রায় ১ হাজার ৯০০ টাকায় পৌঁছানোয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাজারে মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং সরু চাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট ও ডালের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মাছ, মাংস, ডিম ও আলু ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজি এবং অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে কৃষিতে উৎপাদন খরচ এবং গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা সৃষ্টি করবে। এর প্রভাব হিসেবে চাল, ডাল, তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো না।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামাল খান প্রেস ক্লাবে এসে শেষ হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, নগর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান এলাহী, আমির হোসাইন, ড. আ ম ম মসরুর হোসাইন, সদরঘাট থানা আমীর এম এ গফুর, চকবাজার থানা আমীর আহমেদ খালেদুল আনোয়ার, পাঁচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ প্রমুখ। 

এসএন/