কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনায় নিজ এলাকায় সমাবেশ করে ধানের শীষ প্রতীক ফেরত চাইলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইটনা সদরে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ দাবি করেন।
এ সময় বিএনপির স্থগিত হওয়া সব পদ ফিরিয়ে দেওয়াসহ আগামী নির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী করার দাবিতে মিছিল করেন নেতা-কর্মীরা।
এর আগে বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে ইটনা জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন বিজয় কেতনের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
এ সময় ফজলুর রহমান তার দলীয় পদ স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, 'প্রথমে আমার বিশ্বাস হয়নি। যে দলের জন্য আমি সব করছি, সে দল আমাকে শোকজ করবে এটা বিশ্বাস হয়নি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়া, মুক্তিযুদ্ধের যে মুখটা, এই মুখটাতো গত এক বছর ধরে আমি রক্ষা করছি। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধার দল, শহিদ জিয়ার দল, এটা আমি রক্ষা করেছি। কেবল আমিই বলছি এ সব কথা। দল থেকে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলো আমি কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছি। আর ধর্মের বিরুদ্ধে বক্তৃতা করেছি। আমি উত্তর দিলাম কিন্তু মানা হলো না।'
ফজলুর রহমান তার বিরুদ্ধে সারা দেশের রাজাকার আলবদররা বড় চক্রান্ত করছে উল্লেখ করে বলেন, 'তারা ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে হলেও আমি যেন দল থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন না পাই সে চেষ্টা করবে। এখন কেবল আমি চাইলে হবে না, আপনাদের বলতে হবে এ লোককে আমরা চাই। আমরা আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিতে চাই।'
জামায়াত অপপ্রচার চালাচ্ছে উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, 'আমি ধর্ম মানি না - এটা জামাত ছাড়া আর কেউ বলে না। তারাই এ অপ্রচার চালাচ্ছে আমার বিরুদ্ধে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সুফিবাদে বিশ্বাস করি। যে তরিকার-এর মূল আউলিয়া হলেন, হযরত আব্দুল কাদির জিলানি, খাজা মাঈনুদ্দিন চিশতি, হযরত শাহজালাল, শাহ পরান। কিন্তু এই সুফিবাদে যারা বিশ্বাস করে জামায়াত তাদের হত্যা করতে চায়। তারা এ তরিকাপন্থিদের মরদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয়। যা দেশবাসী দেখেছে। সেই কারণে জামায়াত বলে আমি নাকি ধর্ম বিশ্বাস করি না। দল থেকে তিন মাসের জন্য আমার সব পদ স্থগিত করা হলো। আমি বুঝলাম না আমার অপরাধ কী। এর পরেও দলের সিদ্ধান্ত আমি মেনে নিয়েছি। আপনারাও মেনে নিয়েছেন। তিন মাস পর হয়ত স্থগিতাদেশ উঠে যাবে।'
আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে যুক্তি তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, আমার জীবন শেষ। আমার এখন ৭৮ বছর বয়স। যখন নির্বাচন হবে তখন হবে ৭৯ বছর। এর ৫ বছর পরে আমার বয়স হবে ৮৪ বা ৮৫ বছর। তখন আবার নির্বাচন করলে মানুষ সত্যিই আমাকে পাগল বলবে। কাজেই আগামী নির্বাচনই হবে আমার শেষ নির্বাচন। আমি আপনাদের সমর্থন নিয়ে জীবনের এ শেষ নির্বাচনটাই করতে চাই।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তার দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের বর্ণনা দিয়ের তিনি বলেন, 'হাসিনার পতনের পর আমি বর্তমান সরকারকে জান দিয়ে সমর্থন দিয়েছি। ছাত্র-জনতাকে মাথায় তুলে বক্তব্য দিয়েছি। কিন্তু কিছুদিন পর দেখলাম আন্দোলনের ভেতর থেকে এমন কিছু কথা উঠতে থাকল, যা আমি মেনে নিতে পারিনি। তারা বলতেছে, তারা গণতন্ত্র বা ভোটের জন্য আন্দোলন করেনি। তারা আন্দোলন করেছে সংস্কারের জন্য। তারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে সাতচল্লিশ ও চব্বিশকে বড় করে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করতে থাকল। যখন এ সব চলতে থাকল, দেশের সব মানুষ নীরব, সব মুক্তিযোদ্ধা ভয়ে তটস্থ। বিএনপির কোনো নেতা কথা বলে না- আমি তখন বললাম, এই রাজাকারের বাচ্চারা, এই আলবদরের বাচ্চারা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধারা এখন জীবিত আছে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই যারা বলছো, তোমরা পাকিস্তানে যাও। এরপর থেকেই মূলত জামায়াত ও তাদের অনুসারীরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে লিপ্ত হয়।'
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রওশন আলী রুশো।
এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা নীহারেন্দু দেবনাথ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নবী হোসেন তজু মিয়া, ফজলুর রহমানের সহধর্মিনী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা ও তার ছেলে ব্যারিস্টার অভীক রহমান প্রমুখ।
সমাবেশের আগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে ইটনা সদরে যান। শত শত নৌকার বহর থেকে ফজলুর রহমানের পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয়। নেতা-কর্মীরা ছাড়াও সাধারণ লোকজন মিছিলে যোগ দেন। মিছিলটি ইটনা জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হয়ে কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সে সময় মিছিলে ফজলুর রহমান নিজেও অংশ নেন।
মিতু/রিফাত/