মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে না পড়ে বিমান সচিবালয়ে পড়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে বিসিএস পরীক্ষাগুলোর অগ্রগতিবিষয়ক আলোচনায় অংশ নেন তিনি। সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সনাতনী ও পশ্চাৎপদ পদ্ধতিতে সচিবালয় চলছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘২০১ নম্বর রুম থেকে ২০২ নম্বর রুমে তারা (সচিবালয়ে কর্মকর্তারা) চিঠি পাঠান। ২০১ নম্বর রুম থেকে ধরেন একটা ময়লার ঝুড়ি কিনবে, সে জন্য ২০২ নম্বরে চিঠি পাঠাবে। ২০১ নম্বর থেকে চিঠি লেখার পর সেই চিঠি জিপিও ঘুরে ২০২ নম্বর রুমে পৌঁছাবে। আবার ২০২ নম্বর রুম থেকে যদি ২০১ নম্বর রুমে কোনো চিঠি পাঠানো হয়, তাও একইভাবে জিপিও ঘুরে ২০১ নম্বর রুমে পৌঁছায়। অথচ মন্ত্রণালয়ে তাদের একসঙ্গে চা খেতে দেখা যাচ্ছে। বাদাম-ফুচকা খেতে দেখা যাচ্ছে। নিয়মিত তাদের কথা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ হচ্ছে। একসঙ্গে ব্যবসা করছেন, একসঙ্গে কমিশন ভাগাভাগিও করছেন। সবই করছেন কিন্তু তাদের কাজ করার ক্ষেত্রে এই জিনিসগুলো হচ্ছে।’
প্রশাসনের খোলস পুরো পাল্টে ফেলতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, কয়েক দিন আগের খুবই দুঃখজনক ঘটনা, মাইলস্টোনে যে বিমানটা পড়ছিল, ওটা মাইলস্টোনে না পড়ে সচিবালয়ে পড়া উচিত ছিল।’
সচিবালয় থেকে যতদিন পর্যন্ত এসব পরিবর্তন না হবে, ততদিনে কোনো ভালো কিছু হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। সচিবালয়কে সবচেয়ে বড় স্বৈরতন্ত্র এবং গুন্ডামির স্থান বলেও উল্লেখ করে তিনি।
কিছু আমলার প্রশংসাও করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এটাও আশার বিষয়, সচিবালয়ে কিছু আমলা রয়েছেন, যারা অনেক বেশি স্মার্ট, আধুনিক। তারা চান পরিবর্তন আনতে। কিন্তু পশ্চাৎপদ কিছু অফিসার রয়েছেন, তাদের জন্য পারেন না। যুগের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে বিষয়গুলো সংশোধন করতে হবে।’
বিসিএসে রাজনৈতিক বিবেচনায় ভাইভা নেওয়ার সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন না হলে বিসিএস কখনোই স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত হবে না।’
চলমান বিসিএস পরীক্ষাগুলোর অগ্রগতি এবং ২৩-এর নন-ক্যাডার বিধিবিষয়ক আলোচনা করতে গতকাল বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) এনসিপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল যায়। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া। এনসিপির পক্ষ থেকে পিএসসিকে ১৫ দফার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।