ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে। এই দুটি মামলায় ১২৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৮৭৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে মামলা দুটির বিষয়ে নিশ্চিত করেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান।
তিনি বলেন, বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা দুটি হয়েছে। এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার নেই।
পুলিশ ও বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মামলার বাদী হয়েছেন মজিবুর রহমান। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর সমর্থক। তার মামলায় ১৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে।
অপর মামলার বাদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। তিনি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক। তার মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুকে (৬০)।
এই মামলার দুই নম্বর আসামি সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ মো. আবু জাফর (৮০)। তিন নম্বর আসামি সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু (৭৫)। তিনি বর্তমানে পলাতক। তাকে হুকুমদাতা হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত শুক্রবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এদিন ঝুনু মিয়ার কর্মসূচি ছিল সকালে। কিন্তু আমাদের বিকেলের কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। যার পেছনে উসকানি দিয়েছেন শাহ মো. আবু জাফর ও আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু। এই বাচ্চু সাহেবের ছেলের নেতৃত্বে খারদিয়া গ্রাম থেকে অস্ত্র নিয়ে লোকজন এসেছিলেন।’
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকেলে বোয়ালমারী উপজেলার ওয়াপদা মোড় এলাকায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি থেকে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয় কমপক্ষে ৩০ জন। ভাঙচুর করা হয় দোকানপাট। পুড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কিছু মোটরসাইকেল। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সঞ্জিব দাস/অমিয়/