ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক
Nagad desktop

বোয়ালমারীতে বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১৩ পিএম
বোয়ালমারীতে বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে। এই দুটি মামলায় ১২৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৮৭৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

রবিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে মামলা দুটির বিষয়ে নিশ্চিত করেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান। 

তিনি বলেন, বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা দুটি হয়েছে। এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার নেই। 

পুলিশ ও বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মামলার বাদী হয়েছেন মজিবুর রহমান। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর সমর্থক। তার মামলায় ১৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে।

অপর মামলার বাদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। তিনি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক। তার মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুকে (৬০)। 

এই মামলার দুই নম্বর আসামি সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ মো. আবু জাফর (৮০)। তিন নম্বর আসামি সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু (৭৫)। তিনি বর্তমানে পলাতক। তাকে হুকুমদাতা হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত শুক্রবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এদিন ঝুনু মিয়ার কর্মসূচি ছিল সকালে। কিন্তু আমাদের বিকেলের কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। যার পেছনে উসকানি দিয়েছেন শাহ মো. আবু জাফর ও আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু। এই বাচ্চু সাহেবের ছেলের নেতৃত্বে খারদিয়া গ্রাম থেকে অস্ত্র নিয়ে লোকজন এসেছিলেন।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকেলে বোয়ালমারী উপজেলার ওয়াপদা মোড় এলাকায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি থেকে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয় কমপক্ষে ৩০ জন। ভাঙচুর করা হয় দোকানপাট। পুড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কিছু মোটরসাইকেল। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

সঞ্জিব দাস/অমিয়/

মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি
জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। ছবি: সংগৃহীত

দেশে আবারও মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।

তিনি বলেন, ‘মব-সন্ত্রাস ও বেফাঁস বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা করলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না।’ 

সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘চটুল কথাবার্তা বলে রাজনীতিতে দীর্ঘদিন টিকে থাকা যায় না। যারা মব সৃষ্টি বা উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে, তারা সফল হবে না। বাংলাদেশের জনগণ সচেতন ও বিচক্ষণ। তারা কখনোই সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে না।’

যুবদল সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে মবতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল, তা এখনো বিভিন্নভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আমরা চাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড রাজনৈতিকভাবেই পরিচালিত হোক।’

মব সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী যুবদল বিএনপির সবচেয়ে বড় অঙ্গসংগঠন। আমাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা সম্পর্কে সবার ধারণা আছে। রাজপথে সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমেই এসব অপতৎপরতা মোকাবিলা করা হবে।’

তিনি নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলার, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হওয়ার এবং বেফাঁস মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর
চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ছলচাতুরি, অপচয় ও অযৌক্তিক ব্যয়ের সুযোগ নেই। জনগণের কষ্টার্জিত করের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সোমবার (৮ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের আগামী অর্থবছরের বাজেট: আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী আন্দোলন এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, দেশে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা সীমিত হলেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় সব নাগরিকই কর প্রদান করেন। তাই বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও আমানতদারি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বাজেট বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারির ঘাটতি থাকায় অপচয়, অনিয়ম ও অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে শরিয়াহভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ, সাংবাদিক সোহরাব হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ, ক্যাবের কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার এম এ এম গোলাম কিবরিয়া, ইসলামিক চেম্বার অব কমার্সের সদস্যসচিব মাওলানা মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসের, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, মুজিবর রহমান শামীমসহ আরও অনেকে।

ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ। এ সময় মিছিলকারীরা সরকার ও মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সোমবার (৮ জুন) ভোরে শহরের পায়রা চত্বর থেকে ছাত্রলীগ মিছিলটি বের করে।

‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রহসনের ট্রাইব্যুনাল, বন্ধ কর’ এবং ‘আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চাই’ সংবলিত ব্যানারে ঝটিকা মিছিলটি বের হয়। মিছিলের সামনে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান স্লোগান দিয়ে নেতৃত্ব দেন।

পরে সকালে মিছিলের একটি ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, নেতা-কর্মীরা মিছিলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিতে থাকে।

এ ছাড়া ‘শেখ হাসিনা বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’ এবং ‘আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা মানি না, মানবো না’ এই স্লোগানও দেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

জানা গেছে, ভোর ৫টার দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র পায়রা চত্বরে ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী ছিল। এরপর স্থানীয় লোকজন মিছিলের শব্দ শুনে এগিয়ে এলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তবে এ বিষয়ে ছাত্রলীগ বা সংশ্লিষ্ট কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, সোমবার ভোরের দিকে শহরের পায়রা চত্বরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিল হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। মিছিলের একাধিক ভিডিও আমাদের কাছে রয়েছে। ভিডিও দেখে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে। দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহফুজুর রহমান/রিফাত/

গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক
সাব্বির আহমেদ শামীম। ছবি: খবরের কাগজ

গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের রুদ্রপুর এলাকায় চাঁদা দাবির অভিযোগে সাব্বির আহমেদ শামীম (৩০) নামে এক যুবদল নেতাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

সোমবার (৮ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

আটক সাব্বির আহমেদ শামীম রুদ্রপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাইলস ব্যবসায়ী নুরুদ্দিন খন্দকার খোকনের ক্রয়কৃত জমিতে বালু ভরাটের কাজ চলছিল। এ সময় সাব্বির আহমেদ শামীম সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় জমির মালিক নুরুদ্দিন খন্দকার খোকন (৪৬) জয়দেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি প্রায় ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ জমির বৈধ মালিক এবং দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি সেখানে উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবে বালু ভরাট শুরু করেন।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ জুন বিকেলে জমিতে বালু ভরাটের কাজ চলাকালে সাব্বির শামীম ও তার কয়েকজন সহযোগী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নুরুদ্দিন খন্দকারকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং টাকা না দিলে জমিতে কোনো ধরনের উন্নয়নকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ৮ জুন সকালে পুনরায় বালু ভরাটের কাজ শুরু হলে সাব্বির শামীম ও তার সহযোগীরা আবারও ঘটনাস্থলে এসে চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নুরুদ্দিন খন্দকারের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এতে তার হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

অভিযোগকারী দাবি করেন, হামলার একপর্যায়ে সাব্বির তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে উত্তেজিত জনতা সাব্বির শামীমকে আটক করে রাখলেও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ সাব্বির শামীমকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

তবে সাব্বির আহমেদ শামীম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বালু ভরাটের কাজ তাদের জমির ওপর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। সে কারণে তিনি বাধা দিয়েছেন। চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক নয়।’ 

ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

জয়দেবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন কুমার কর বলেন, ‘এ ঘটনায় নুরুদ্দিন খন্দকার নামে একজন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পরে সাব্বির শামীমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ 

পলাশ প্রধান/রিফাত/

বাউফলে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
বাউফলে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ
সাইফুল শরীফ। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফলে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) স্বাক্ষর নকল করে সরকারি খাসজমি নিজের নামে চাষাবাদের অনুমতির জাল কাগজ তৈরির অভিযোগে সাইফুল শরীফ (৪০) নামে এক জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতাকে প্রশাসন আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে। পরে পুলিশের বিরুদ্ধে তাকে মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সাইফুল শরীফ (৪০) উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব গ্রামের জামাল শরীফের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে তাকে বাউফল থানায় হস্তান্তর করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ মিলু। তবে প্রায় ৩০ মিনিটের ব্যবধানে তাকে মুক্তি দেয় পুলিশ।

জানা গেছে, সাইফুল শরীফকে থানায় হস্তান্তরের পর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুহুল রাঢ়ীর নেতৃত্বে বিএনপির কয়েকজন নেতা বাউফল থানায় প্রবেশ করেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের কথা বলে তারা থানায় মামলা না দিয়ে সাইফুল শরীফকে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, ‘স্বাক্ষর জালিয়াতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। রুহুল রাঢ়ী যদি জামায়াত নেতাকে ছাড়িয়ে নিয়ে থাকেন, তাহলে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তারও শাস্তি হওয়া উচিত।’

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু বলেন, ‘অভিযুক্ত সাইফুল শরীফ চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের আলমগীর নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি এবং সরকারি খাস খতিয়ানের মোট ৯০ একর জমি চাষাবাদের অনুমতি পেয়েছেন বলে দাবি করে স্থানীয়দের কাছে একটি অনুমতিপত্র প্রদর্শন করেন। গতকাল ওই অনুমতিপত্রের কপি আমার নজরে আসে। সেখানে আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে দেখা যায়। পরে আমার টিম তাকে আটক করে। আমি ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিধি অনুযায়ী তিনি দায় স্বীকার না করায় তাকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তদন্তসাপেক্ষে নিয়মিত মামলা গ্রহণের জন্য তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

এদিকে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং এ ধরনের কোনো আসামি তার থানায় নেই বলে দাবি করেন। এ কারণে তিনি কোনো মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানান।

মশিউর মিলন/রিফাত/