জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে সর্বপ্রথম দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে। বাংলাদেশে সম্পদের কোনো অভাব নেই কিন্তু সমস্যা হলো দুর্নীতি ও সৎ নেতৃত্বের অভাব। ইতোপূর্বে যারা দেশ চালিয়েছেন তাদের অধিকাংশের মধ্যে সততা ছিলো না, তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলো।
মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) বিকেলে ফরিদপুর শহরের ঐতিহাসিক অম্বিকা মেমোরিয়াল হল মাঠে ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আয়োজনে গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমার দেশ গরিব নয়, গত ৫৪ বছর আমার দেশকে গরিব করে রাখা হয়েছে। সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা সুন্দর এই দেশকে। ৫৪ বছর পরেও বাংলাদেশকে বন্ধু ভাবতে পারেনি ভারত। তারা আমাদেরকে শোষণ করেছে। আমরা ভৌগলিক স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু রাজনীতি স্বাধীনতা আমাদের ছিল না। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র কায়েম করব, ইনশাআল্লাহ।
৫৪ বছর আগের বস্তা পঁচা কাহিনী এবং নতুন নাটক সাজিয়ে আমাদের নেতাদেরকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সময় আমাদের দলের দুজন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তারা একটি টাকাও আত্মসাৎ করেছে এমন প্রমাণ কেউ করতে পারিনি। আমরা সেই নেতাদের দল করি। আমরা যদি দায়িত্ব পাই তাহলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ কায়েম করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে চরিত্রবান নেতার অভাব। এ কারণে গত ১৫ বছরে দেশ থেকে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই টাকা বাংলাদেশের। বাংলাদেশে সম্পদের ঘাটতি নেই। এই অর্থ যদি দেশেই ব্যয় হতো, তবে বাংলাদেশ হয়তো সিঙ্গাপুরের চেয়েও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারত। আমাদের সেই সম্পদ যদি থাকতো তাহলে আমাদের ছেলেদেরকে বিদেশে চাকরি করতে যেতে হত না। বেকার সমস্যা সম্পূর্ণ দূর হয়ে যেত বরং বিদেশ থেকেই লোকরা আমার দেশে চাকরি করতে আসতো।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে আমরা এ দেশে যাকাতের আইন চালু করব। বাংলাদেশ ৯২ ভাগ মুসলিমদের দেশ আমরা ফজরের আজান শুনে ঘুম থেকে জেগে উঠি, এশার নামাজ পড়ে বিছানায় ঘুমাতে যাই। সেই আযানের দেশে, সেই মসজিদের দেশে আমরা কোরআনের শাসন চালু করতে পারিনি এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। আগামী দিনে যাকাত আইন চালু হলে প্রতিবছর পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা যাকাত আদায় সম্ভব হতে পারে। এই টাকা যদি আদায় করা যায় তাহলে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে যাকাত খাওয়ার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, আমাদেরকে বলা হয় দুটি কথা। একটি নারীদের নিয়ে যে তাদের স্বাধীনতা থাকবে না। এটা মিথ্যা কথা। আমরা যদি দায়িত্ব পাই তাহলে সমগ্র বাংলাদেশের নারীরা সবচাইতে বেশি নিরাপদ থাকবে। আরেকটি কথা বলা হয় আমরা ক্ষমতায় গেলে হিন্দুদের কচু কাটা করা হবে। আমি ব্যাখ্যা খুব একটা বেশি দেব না। আপনারা একটু মনে করে দেখেন যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ছিলো তখন দুর্গাপূজার সময় মন্দির ভাঙ্গা হত। আর দোষ চাপানো হতো আমাদের উপর। বাংলাদেশে ২০২৫ সালের দুর্গাপূজায় একটি জায়গাও হামলার ঘটনা ঘটেনি ও মূর্তি ভাঙ্গা হয়নি। এর আগে যারা এগুলো করেছে তারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে আপনারা সবচাইতে বেশি নিরাপদ থাকবেন। আমাদের আমির আমাদের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন মন্দিরগুলোকে পাহারা দেওয়ার জন্য। তারা রাত জেগে সারা দেশে মন্দির পাহারা দিয়েছিলেন। এজন্য জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে আপনারা দেশের সবাই নিরাপদ থাকবেন।
তিনি বলেন, দেশে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার উঠেছে। এ জোয়ারে ভীত হয়ে আমাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যুবকরা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। যারা আক্রমণ করতে আসবে তাদের যেমন দুই হাত আছে। আমাদেরও দুই হাত আছে। জনগণের ভোট কেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ বদরউদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ফরিদপুর অঞ্চলের সহকারী মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, ফরিদপুর অঞ্চলের টীম সদস্য শামসুল ইসলাম আল্ বরাটী, ফরিদপুর সদর ৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, ফরিদপুর ১ আসনের ড. মোঃ ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর ২ আসনের মাওলানা মো. সোহরাব হোসেন, ফরিদপুর ৪ আসনের মাওলানা মো. সরোয়ার হোসাইন, আলী আহমাদ মাবরুর, হাসান জামিলসহ জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ফরিদপুরের চারটি আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদেরকে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদেরকে বিজয়ী করতে কাজ করার নির্দেশ দেন।
এর আগে তিনি বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামে প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার কবর জিয়ারত ও দুপুরে শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে জামায়তের প্রয়াত সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদের কবর জিয়ারত করেন।
সঞ্জিব/রিফাত