ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নতুনধারার ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর শিগগিরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা পাটগ্রাম সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা: বিজিবির নজরদারি জোরদার
Nagad desktop

এ কূল-ও কূল হারিয়ে দিশেহারা জাপার দলছুটরা

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
এ কূল-ও কূল হারিয়ে দিশেহারা জাপার দলছুটরা
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)

নেতৃত্বের টানাপোড়েনে দল ছেড়ে এসে প্রথমে বিতর্কিত কাউন্সিলের আয়োজন করেছিলেন জাপার দলছুট নেতা-কর্মীরা। পরে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মালিকানা পেতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। সেখানেই থেমে থাকেননি তারা। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করে নির্বাচনি হাঁকডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সব লড়াই থেমে গেছে। রাজনৈতিক কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়ে এখন কেবল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। 

চেয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার নেই দলছুটদের
গত বছরের জুলাই মাসে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের দলের তৎকালীন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুসহ প্রভাবশালী নেতাদের বহিষ্কার করেন। পদ-পদবি ধরে রাখতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন। কিন্তু আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হেরে যান তারা। 

পরে বহিষ্কৃত অংশের নেতা-কর্মীরা আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে চেয়ারম্যান করে আলাদা দল গঠনের উদ্যোগ নেন। তারা রাজধানীর গুলশানে একটি কাউন্সিল অধিবেশনের আয়োজন করেন নিজেদের ‘আসল জাতীয় পার্টির’ নেতা হিসেবে দাবি করে। ‘আসল জাতীয় পার্টি’ হয়ে উঠতে গেলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং রুহুল আমিন হাওলাদারকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের কর্তৃত্ব পেতে হবে। তাই উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন তারা। সে লড়াই এখনো চলছে।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদের আশা ছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই আইনি লড়াইয়ে জিতবেন তিনি, পাবেন লাঙ্গল প্রতীকের কর্তৃত্ব। তবে সে আশা পূরণ হয়নি। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে এনডিএফ গঠিত হয়েছিল ডিসেম্বরে। এই জোট ঘোষণার কিছু দিনের মধ্যেই এই জোট থেকে ১১৯টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে সংকটের শুরু।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, জাপা প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করার এখতিয়ার কেবল জি এম কাদের এবং জাপা মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর। কিন্তু নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে সেই আইন অগ্রাহ্য করেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। জাতীয় পার্টির দলছুট নেতা-কর্মীদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন তারা। পরে নির্বাচন কমিশন সবার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন, আপিলেও যা ফেরত পাননি তারা।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর জাপার দলছুটরা ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে পড়েন। এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই তাদের। 

এ নিয়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রতীক বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত শুনানির দিনক্ষণও নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি, নির্বাচন কমিশন আদালতকে অনুরোধ করেছেন ভোটের আগে যেন এই শুনানি না হয়। তাদের এই অনুরোধে আদালত লাঙ্গল প্রতীকের বরাদ্দ নিয়ে মামলার শুনানি আরও ছয় সপ্তাহ পিছিয়ে দিয়েছেন। কার্যত আমরা আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারছি না।’ 

তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনি লড়াই কিন্তু শেষ হয়নি। আমরা লাঙ্গল প্রতীকের আশা ছাড়ছি না। আপাতত আমরা রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যাব।’

এনডিএফ জোট নিয়ে অনেক প্রশ্ন
জুলাই অভ্যুত্থানের পর চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন হঠাৎ জনতা পার্টি বাংলাদেশ নামে রাজনৈতিক দলের জন্ম দেন। এই দল গঠনের নেপথ্যে ছিলেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ। বিভিন্ন দল ভেঙে আসা নেতারা এই দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু ছয় মাস পেরোতে না পেরোতেই রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার হন। এরপর দলটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এই দলের নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা গোলাম সারওয়ার মিলন তখন নতুন রাজনৈতিক মোর্চা গঠনের আভাস দেন। এরশাদ সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী মিলন জাপা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টিতেও (রওশন) যোগ দিয়েছিলেন। বারবার দল বদলানো এই নেতা রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় থাকতে ফের জাপা নেতাদের দ্বারস্থ হন। জাপার দলছুটরা ভরসা জোগান তাকে। গঠিত হয় এনডিএফ। পরে এই জোটে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপি, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটসহ তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) দলছুট নেতাদের যুক্ত করা হয়। এনডিএফ জোটে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দলের সাবেক এমপিদেরও দেখা গেছে। এনডিএফ জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বিভিন্ন দলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনীতির ময়দানে ক্রমেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া সাবেক এমপিরা জনবিচ্ছিন্নও হয়ে পড়েছেন। কেবল আলোচনায় থাকতে নতুন রাজনৈতিক মোর্চা গঠন করেছেন।

১৪ দলের শরিক জেপির অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি আওয়ামী লীগঘেঁষা জাপা নেতাদের নির্বাচনকেন্দ্রিক সক্রিয়তায় প্রশ্ন ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ১৪ দলের শরিক ও জাপা নেতারা যখন প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রয়েছেন, তখন এনডিএফ নেতারা রাজধানীর গুলশানে প্রকাশ্যেই সভা করছিলেন। তারা যখন নির্বিঘ্নে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন তখন কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসে কয়েক দফায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা, চলে ভাঙচুর ও লুটপাট। 

এ সময় গুঞ্জন ওঠে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ এনডিএফ নেতাদের সমর্থন জোগাচ্ছে। অনেকে অভিযোগ করেন, সরকারের সমালোচনায় মুখর জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল সরকারের এই অংশ। দলছুট ও বহিষ্কৃত নেতাদের জোটকে ‘আর্থিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার’ অভিযোগও আসে নানা মহল থেকে। সরকারের ওই অংশটি এনডিএফ নেতাদের ভোটের প্রচারণায় সহযোগিতা, এমপি হিসেবে জিতিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এনডিএফ নেতারা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে পারেননি। 

এনডিএফ জোটের ১৮টি দলের মধ্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি (জেপি) এবং আবু লায়েস মুন্নার সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট নিজস্ব প্রতীকে আলাদা আলাদাভাবে নির্বাচন করছে। জোটের অনিবন্ধিত কয়েকটি দলের নেতারা এ দুটি দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। 

শেষ পর্যন্ত এনডিএফ কী করবে, এ নিয়ে যখন অনেক শঙ্কা; তখন জোটের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘আমরা না হয় নির্বাচন করতে পারছি না। কিন্তু জোটের অন্য দলগুলো তো নির্বাচন করছে। তারাই আমাদের জোটের প্রতিনিধিত্ব করছে। আর এনডিএফ কি শুধু এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠন করা হয়েছে? এটি ভবিষ্যতের রাজনীতির কথা ভেবেই গঠন করেছি আমরা। নির্বাচনের পরে আমরা নানা কার্যক্রম নিয়ে সক্রিয় থাকব।’

অনেকে ফিরছেন মূল দলে
জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কারের পর সাবেক সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ ভিড়েছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদের দলে। তারা এখন নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে মূল দলে ফিরে আসছেন। জাপার আলোচিত নেতা জিয়াউল হক মৃধা ফিরে এসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জাপার মনোনয়ন পেয়েছেন। ফিরে এসে ময়মনসিংহ-৮ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন এই আসনের সাবেক এমপি ফখরুল ইমাম। কুড়িগ্রাম-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন পনির উদ্দিন আহমেদ। 

এ বিষয়ে জাপা মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘দল থেকে চলে যাওয়া কেউ যদি ফিরে আসেন, তবে তার অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করা হবে। দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাদের ফিরিয়ে নিতে বললে তা আমরা বিবেচনা করব। দল থেকে চলে যাওয়া নেতা-কর্মীরা বুঝতে পারছেন, জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতে হলে জি এম কাদেরের নেতৃত্ব তাদের মেনে নিতে হবে।’

সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। ছবি: খবরের কাগজ

দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সরকারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না জানানো হলে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবার (৫ জুন) বাদ জুমা ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে একটি মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওসমান হাদির সমাধিস্থলে আসে। সেখান থেকে হাদি হত্যার বিচারে সরকারকে আলটিমেটাম দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। 

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকার হাদি হত্যার বিচারের কোনো রূপরেখা দেয়নি। সরকার কতদিনের মধ্যে আসামিকে ফিরিয়ে আনবে এবং এ হত্যার বিচার করবে, সে বিষয়ে জানতে চায় ইনকিলাব মঞ্চ। যদি আগামী শুক্রবারের মধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্য, সময়সীমা না দিতে পারে; আমরা বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে শাহবাগে লাগাতার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। এই কর্মসূচি কোথায় গিয়ে শেষ হবে, আমরা জানি না।’

গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। তিন দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র।

হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?
ছবি: খবরের কাগজ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র প্রয়াত শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। 

শুক্রবার (৫ জুন) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনার সময়কার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে এবং কার অনুমতিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই হত্যা মামলার বাদী হলেন, তা অবিলম্বে পরিষ্কার করতে হবে।

পোস্টে মাসুমা হাদি লেখেন, ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে, যেসব বিষয়ে তিনি এখনো মুখ খোলেননি শুধু ভাইয়ের কথা ভেবে। তবে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে ‘নোংরামি’ চলছে, তার প্রেক্ষিতে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

মাসুমা হাদি উল্লেখ করেন, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়েই তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান এবং এক মুহূর্তের জন্যও ভাইয়ের পাশ থেকে সরেননি। তার প্রশ্ন ‘প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে স্বাক্ষর (সাইন) নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের স্বাক্ষর দেবে কেন?’ এ বিষয়ে তাকে বোঝানো হয়েছিল যে, ওমর (ওসমান হাদির ভাই) এর কাছে পুলিশ গিয়েছিল এবং তিনি চিকিৎসার ব্যস্ততার কারণে পরে বিষয়টি দেখবেন বলেছিলেন। মাসুমা হাদি বলেন, ‘এ ধরনের ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে নেওয়া নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই, এবং পুলিশ চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়েও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতো।’

তৎকালীন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে মাসুমা হাদি লেখেন, একই রিকশায় দুই ভাই থাকায় ওসমান গণির (হাদি) রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত হয়ে পড়েছিলেন। বুলেট আরেকটু এদিকে লাগলে ওমরও সেদিন মারা যেতে পারতেন। ওসমান হাদিকে যেদিন সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়, সেদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে নিজের পোশাক ও হাতের ঘড়ি থেকে ভাইয়ের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন।

এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাবের যদি আমাদের নলছিটির ছেলে না হতো, তাহলে কোনো প্রশ্নই থাকত না। কারণ ওসমান গণির সঙ্গে দীর্ঘদিন যারা চলাফেরা করেছেন, তারা জানেন তার জীবনে তার ছোট আপুর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই ছোট আপুর সঙ্গে পরামর্শ না করে কার অনুমতিতে জাবের মামলার বাদী হলো এটি পরিষ্কার করতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমরের লাইফস্টাইল নিয়ে চলা ট্রলিংয়ের জবাবে মাসুমা হাদি জানান, ওমর যে ঘড়ি পরেন তা পাঁচ বছর আগে ১৭ হাজার টাকায় কেনা। এছাড়া ২০১৬ সালে তিনি ৩০ হাজার টাকার ব্লেজার এবং ৭০ হাজার টাকার মোবাইল ব্যবহার করতেন। কাউকে না জেনে অযথা ট্রল না করার অনুরোধ জানান তিনি।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে অনেকেই দায়িত্ব নিতে চাইলেও পরিবার সায় দেয়নি। সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে থাইল্যান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। পরে সরকার বিষয়টি জানার পর দায়িত্ব নেয় এবং দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে কাগজপত্র পাঠালে তা গ্রহণ করা হয়। এরপরই ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।’

রাজু/রিফাত/

রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে দেশের রাজনীতি এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য চারদিকে সুপরিকল্পিত ও গভীর চক্রান্ত চলছে।’

শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে এখনকার রাজনীতিতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন করে সমাজের কাছে, রাজনীতির কাছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের হীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি মূলত রাজনীতিকে ধ্বংস করার একটি চক্রান্ত এবং এটি সুস্থ রাজনীতির জন্য কোনো শুভ লক্ষণ নয়।’

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ব্যাখ্যা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকেই অনেক রকম চিন্তা করেন। কিন্তু বিএনপির মূল চরিত্র হচ্ছে এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘একটা বড় আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের পর আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আজ গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সবকিছুকে ভেঙে ফেলা এবং মস্তহীন করার মধ্য দিয়ে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে একটি সরকার গঠন করতে পেরেছি। এখন এই সরকারের দায়িত্ব হবে দ্রুততার সঙ্গে এই চক্রান্তকে চিহ্নিত করে সঠিক খাতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা।’

স্মরণ সভায় প্রয়াত নেতাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা ভাইয়েরা এমন এক সময়ে রাজনীতি করেছেন যখন রাজনীতিতে এথিক্স, মোরালিটি ও মূল্যবোধ ছিল। তারা সবসময় জনগণের কল্যাণ, মানুষের সমস্যার সমাধান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে গেছেন।’

রিফাত/

হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়দেইল গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে।

সম্প্রতি তিনি ফেসবুক লাইভে এসে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। আবদুল গাফফার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান, রিফাত ও মাহিমকে সেফ হোমে রেখে আমি বাঁচিয়েছি। তখন তাদের ভিডিওবার্তা থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করেছি। তার কারণে হান্নানের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সঙ্গে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন আমি এতে বাধা দিই।’

গাফফার অভিযোগ করে বলেন, ‘হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খানকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর আমি রাশেদ খানের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসউদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা ধরনের হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি হান্নান মাসউদকে জানাই। তিনি বলেন, ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শোনে না। তারা যা করার করুক।’

ছাত্রদল নেতা গাফফারের দাবি, ‘চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁসের পর হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে এবং প্রধান ফটকে হামলা চালায়। পরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা এখনও ভীতসন্ত্রস্ত। মা-বাবা বলছেন, আমি যেন আর কোনো বক্তব্য না দিই। আবারও তারা বাড়িতে হামলা করতে পারে।’

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তিন কোটি টাকা দাবির স্ট্যাটাস দেওয়ায় গত দুই দিন ধরে ছাত্রদল নেতা গাফফারকে প্রকাশ্যে হান্নান মাসউদের অনুসারী এনসিপির নেতা-কর্মীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। যারা হুমকি দিয়েছে, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল তিবরিজ বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে, এটা এনসিপির নেতা-কর্মীরা করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করার পর আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সেগুলোই সামাল দিতে পারি না, আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব কেন? পুরো বিষয়টি একটি সাজানো নাটক, যাতে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক তারা কী করতে পারে।’

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার। ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মেরেছে। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালার একটি অংশ ভেঙে যায়। কে মারছে, কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মজনু/রিফাত/

চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম মহানগরের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অনেককে মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়।

মিছিলটি বন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে শেখ মুজিব সড়ক হয়ে আগ্রাবাদ মোড়ের দিকে অগ্রসর হয় এবং পরে বিদ্যুৎ ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যানার বহন করেন। ব্যানারে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচার এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানানো হয়।

স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম নগরে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বেশ কয়েকটি ঝটিকা কর্মসূচির পর এটি আরও একটি আলোচিত রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও পর্যালোচনা করে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রিফাত/