ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

আওয়ামী ভোটার নিয়ে টানাটানি

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪ এএম
আওয়ামী ভোটার নিয়ে টানাটানি
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী ও জটিল বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। দলটিকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে দলটি ভোটের মাঠে না থাকলেও তাদের বিশাল ভোটব্যাংক এখন আলোচনার কেন্দ্রে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভিন্ন ধারণা–এই নীরব আওয়ামী ভোটাররাই এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মূল নির্ধারক হয়ে উঠতে পারেন। তাই এই ভোটারদের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি এখন আলোচনার তুঙ্গে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ভোট দেবেন কি না এবং দিলে কোন দলকে দেবেন, তা এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এই অনিশ্চয়তাকে সঙ্গে করেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া বড় দলগুলো সেই ভোটারদের টার্গেট করে প্রকাশ্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটের দিকে এখন নজর রাখছে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ সব রাজনৈতিক দল। শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ভোটে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সমর্থন পেয়ে যেতে পারে বলে ভোটের মাঠে আওয়াজ আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু আওয়ামী লীগের মতো বড় দল এবারের নির্বাচনে নেই, তাই অন্তত তাদের ভোটারদের সরব উপস্থিতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে কাজে লাগবে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকলেও তাদের ভোটারদের সিদ্ধান্তই বলে দেবে ক্ষমতায় যাবে কারা। 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে তুলে ধরে আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও মনোনীত প্রার্থীরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আওয়ামী লীগপন্থি ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন। এসব বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে নিরাপত্তার আশ্বাস, মামলা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না করার প্রতিশ্রুতি এবং নির্বাচনের পর স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কথা। মাঠপর্যায়ে এমন দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে, যেখানে বিএনপির নেতারা সরাসরি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

গত বছরের ১৮ জুন ঢাকা মহানগর উত্তরে বিএনপির সদস্য নবায়ন এবং প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপি জনগণের অধিকার হরণ করে নয়; বরং বিনয়ী হয়ে ভোট চাইবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও একই কথা বলেছেন যে মানুষকে শাসিয়ে বা তাদের অধিকার হরণ করে ভোট পাওয়া যাবে না; বরং বিনয়ী হয়ে ভোট চাইতে হবে।’ সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ আসনেও তিনি একই ধরনের বক্তব্য দেন। 

এ ছাড়া বিএনপির তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য নেতা বলা হয় দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির এই প্রার্থী গত ৯ জানুয়ারি এক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগের নিরপরাধ নেতা-কর্মীদের হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা হলে জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে থানা ঘেরাও করা হবে। হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতীক নেই। ফলে আওয়ামী লীগের ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন, সেটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু কেউ যদি আওয়ামী লীগ করেন এই অজুহাতে তাকে হয়রানি করা হয় বা ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আওয়ামী লীগ করার অভিযোগ তুলে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। তাই আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা নেই, তাদের যেন কোনোভাবেই হয়রানি করা না হয়। তা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমি নিজেই থানা ঘেরাও করব।’ 

বিএনপির কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল পর্যায়ে অনেক প্রার্থী ও নেতা এমন কথা বলেছেন। 

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কখনো ‘ভাই’, কখনো ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে ভোট চাওয়ার ঘটনা ঘটছে। দল দুটির নেতারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সহানুভূতির ভাষা ব্যবহার করে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। জেলা পর্যায়ের গ্রেপ্তার বা মামলায় জড়ানো আওয়ামী লীগ নেতাদের ছাড়িয়ে আনতে বিএনপি ও জামায়াতঘনিষ্ঠদের তৎপরতা দেখা গেছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই জামায়াত কৌশলে এগিয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংশোধন ও ক্ষমার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তবে কোনো ভিকটিম বা ভিকটিমের পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নেয়, তাহলে আমরা তাদেরও সহযোগিতা করব।’ 

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের খবরের কাগজকে বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার। তারা জামায়াতের নীতি ও আদর্শ দেখে ভোট দেবে। আমরা আশা করি, এবার সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জামায়াতে ইসলামী বা ১০-দলীয় জোট বিজয়ী হবে।’

গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত রায়পুর উপজেলার এক পথসভায় ক্লিন ইমেজের আওয়ামী ভোটারদের প্রতি জামায়াতে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুসারে, ভোটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সরাসরি ভোটের লড়াই ছিল বাংলাদেশের নির্বাচনি রাজনীতির দীর্ঘদিনের চিত্র। তুলনামূলক বিবেচনায় ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচন ছিল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। তবে ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও একধরনের সন্তুষ্টি রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। এসব নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে ৩০ শতাংশের বেশি ভোট অর্জন করেছে। 

ইসি সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পায় ৩০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ দশমিক ১৩ শতাংশ ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৯ দশমিক শূন্য শতাংশ ভোট পায় দলটি। 

অন্যদিকে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ভোট পায় ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ, জামায়াত ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৩৩ দশমিক ৬১ শতাংশ, জামায়াত পায় ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৪০ দশমিক ৯৭ শতাংশ, জামায়াত পায় ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ভোট পায় ৩৩ দশমিক ২০ শতাংশ, ওই নির্বাচনে জামায়াত পায় ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি পায় ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ ভোট। ১৯৯৬ সালে পায় ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০০১-এ পায় ৭ দশমিক ২৫ ও ২০০৮-এ ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ভোট।

এদিকে আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানাটানি করার দুটি দিক দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুন আল মোস্তফা। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, প্রথমত আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোট না দিলে নির্বাচন অর্থবহ হবে না। গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। দেশে তো বটেই, বিদেশি পর্যবেক্ষদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। দ্বিতীয়ত, তারা প্রতিপক্ষকে ভোট দিলে নিজেরাই ‘একধরনের পরাজিত’ হবে। তাই ভোট নিজের পক্ষে টানার জন্য সব দলই সব রকমের চেষ্টা চালাবে। 

অধ্যাপক মামুন আরও বলেন, সাধারণ মানুষের অনেকের মধ্যে এখনো দলীয় আদর্শের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ও কর্মী অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ করেছেন। তাদের অনেকেই আজ অভিযুক্ত। তবে কোটি কোটি ভোটারের সবাই না। তাই আওয়ামী লীগের ভোটারদের দিকে সব দলের নজর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির প্রভাশালীরা হয় জেলে, না হয় বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন। তৃণমূল পর্যায়ে দলটির বহু নেতা-কর্মী হামলা, মামলা ও প্রতিশোধমূলক পরিস্থিতির মুখে নিজ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। অনেকেই এখন আত্মগোপনে বা এলাকা পরিবর্তন করে বসবাস করছেন। ফলে তাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সমর্থকরাই ভোটের মাঠে প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন। খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে দেখা যায়, আওয়ামী সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে এবং নিজেদের পক্ষে টানতে নানা কৌশল প্রয়োগ করছে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলো।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের নিজেদের পক্ষে টানতে চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত। প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো প্রতিশ্রুতি না এলেও গোপনে প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে আস্থা তৈরির চেষ্টা করছেন। 

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, জেলার চারটি আসনেই আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানতে সক্রিয় বিএনপি ও জামায়াত। 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, জেলার চারটি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানতে বিএনপি ও জামায়াত মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াত ভোটারদের কাছে টানার জন্য গোপনে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং মামলা, গ্রেপ্তার ও হামলা থেকে বাঁচানোর আশ্বাস দিচ্ছেন। 

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, সেখানকার দুই আসনে আওয়ামী ভোটারদের টানতে বিএনপি ও জামায়াত সক্রিয়। বিএনপি গোপনে মামলা প্রত্যাহার, পুনর্বাসন ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নলছিটিতে শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামী সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে আওয়ামীপন্থি হিন্দু ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিতে উৎসাহিত করছে। ঝালকাঠি সদরে শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বীর জামায়াতে যোগদানের খবর পাওয়া গেছে।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুর-১ আসনে সংখ্যালঘু ভোট বেশি। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট টানার চেষ্টা চলাচ্ছেন প্রার্থিরা। দিনাজপুর-২ আসনে ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগের সমর্থন থাকলেও অনেক নেতা ও ভোটার নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এ ছাড়া জামায়াতের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট কিছু অংশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের ভোট তিন ভাগের দুই ভাগ বিএনপির দিকে এবং এক ভাগ জামায়েতের দিকে যেতে পারে।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, জেলার চারটি আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর সরকার আওয়ামী লীগের ভোট নিজের ঝুলিতে নেওয়ার জন্য একসঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ১০০ জনকে দলে যোগদান করান। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কাছে তদবির করেন।    

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, জেলার দুটি আসনে আওয়ামী লীগের ভোটার টানতে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কৌশল সক্রিয়। 

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনা-১ ও ২ আসনে আওয়ামী ভোটারদের কাছে টানতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীরা।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, সেখানকার চারটি আসনে জামায়াত, বিএনপি ও এনসিপি একযোগে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিগত দুর্গাপূজা উৎসবের সময় জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন, আর্থিক অনুদান দিয়েছেন এবং তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রলীগের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী সদর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মিছিলের শুরুতে পুলিশ বাধা দিলেও একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বর্তমান সরকারের 'সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির' বিরুদ্ধে ওই মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। এতে সহস্ত্রাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার ছাত্রলীগ যুবলীগের হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থকরা মিছিলটি বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশে বাধা উপেক্ষা করেই নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন। এসময় পুলিশ সদস্যরা গা-ঢাকা দেন।

বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।

মিছিল শেষে সমাবেশে আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু বলেন, আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় এবং সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হব না এবং রাজপথ ছাড়ব না।

কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে জায়গা থেকেই আমরা প্রতিবাদ করেছি। পুলিশ প্রথমে আমাদেরকে বাধা দিলে আমাদের নেতাকর্মী ভয়ে এদিক সেদিক চলে যায়। পরে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আমরা প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিয়ে মিছিল করি এবং সমাবেশ করি। আমরা বিশ্বাস করি অতি দ্রুত আমাদের নেত্রী দেশে ফিরে দেশের দায়িত্ব নিবেন এবং আমাদের নেত্রী দেশে ফেরার সাথে সাথেই বর্তমান সময়ের সন্ত্রাস চাঁদাবাজরা দেশ ছেড়ে পালাবে। 

জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের দল সেখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে আমাদের কিছুই করার ছিল না । আমরা মিছিলে শুরুতে তাদের বাধা দিলেও পরবর্তীতে তাদের উপস্থিতি সংখ্যা বেড়ে গেলে আমাদের সদস্যরা সরে পড়েন।


ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন

সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। ছবি: খবরের কাগজ

দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সরকারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না জানানো হলে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবার (৫ জুন) বাদ জুমা ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে একটি মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওসমান হাদির সমাধিস্থলে আসে। সেখান থেকে হাদি হত্যার বিচারে সরকারকে আলটিমেটাম দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। 

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকার হাদি হত্যার বিচারের কোনো রূপরেখা দেয়নি। সরকার কতদিনের মধ্যে আসামিকে ফিরিয়ে আনবে এবং এ হত্যার বিচার করবে, সে বিষয়ে জানতে চায় ইনকিলাব মঞ্চ। যদি আগামী শুক্রবারের মধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্য, সময়সীমা না দিতে পারে; আমরা বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে শাহবাগে লাগাতার কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। এই কর্মসূচি কোথায় গিয়ে শেষ হবে, আমরা জানি না।’

গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। তিন দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র।

হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন?
ছবি: খবরের কাগজ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র প্রয়াত শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। 

শুক্রবার (৫ জুন) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনার সময়কার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে এবং কার অনুমতিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই হত্যা মামলার বাদী হলেন, তা অবিলম্বে পরিষ্কার করতে হবে।

পোস্টে মাসুমা হাদি লেখেন, ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে, যেসব বিষয়ে তিনি এখনো মুখ খোলেননি শুধু ভাইয়ের কথা ভেবে। তবে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে ‘নোংরামি’ চলছে, তার প্রেক্ষিতে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।

মাসুমা হাদি উল্লেখ করেন, ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়েই তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান এবং এক মুহূর্তের জন্যও ভাইয়ের পাশ থেকে সরেননি। তার প্রশ্ন ‘প্রশাসনের লোক এভারকেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে স্বাক্ষর (সাইন) নিলো কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের স্বাক্ষর দেবে কেন?’ এ বিষয়ে তাকে বোঝানো হয়েছিল যে, ওমর (ওসমান হাদির ভাই) এর কাছে পুলিশ গিয়েছিল এবং তিনি চিকিৎসার ব্যস্ততার কারণে পরে বিষয়টি দেখবেন বলেছিলেন। মাসুমা হাদি বলেন, ‘এ ধরনের ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে নেওয়া নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই, এবং পুলিশ চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়েও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতো।’

তৎকালীন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে মাসুমা হাদি লেখেন, একই রিকশায় দুই ভাই থাকায় ওসমান গণির (হাদি) রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত হয়ে পড়েছিলেন। বুলেট আরেকটু এদিকে লাগলে ওমরও সেদিন মারা যেতে পারতেন। ওসমান হাদিকে যেদিন সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়, সেদিন সকালে ওমর এভারকেয়ারে বসে গোসল করে নিজের পোশাক ও হাতের ঘড়ি থেকে ভাইয়ের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন।

এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাবের যদি আমাদের নলছিটির ছেলে না হতো, তাহলে কোনো প্রশ্নই থাকত না। কারণ ওসমান গণির সঙ্গে দীর্ঘদিন যারা চলাফেরা করেছেন, তারা জানেন তার জীবনে তার ছোট আপুর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেই ছোট আপুর সঙ্গে পরামর্শ না করে কার অনুমতিতে জাবের মামলার বাদী হলো এটি পরিষ্কার করতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমরের লাইফস্টাইল নিয়ে চলা ট্রলিংয়ের জবাবে মাসুমা হাদি জানান, ওমর যে ঘড়ি পরেন তা পাঁচ বছর আগে ১৭ হাজার টাকায় কেনা। এছাড়া ২০১৬ সালে তিনি ৩০ হাজার টাকার ব্লেজার এবং ৭০ হাজার টাকার মোবাইল ব্যবহার করতেন। কাউকে না জেনে অযথা ট্রল না করার অনুরোধ জানান তিনি।

চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে অনেকেই দায়িত্ব নিতে চাইলেও পরিবার সায় দেয়নি। সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে থাইল্যান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। পরে সরকার বিষয়টি জানার পর দায়িত্ব নেয় এবং দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে কাগজপত্র পাঠালে তা গ্রহণ করা হয়। এরপরই ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।’

রাজু/রিফাত/

রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে দেশের রাজনীতি এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য চারদিকে সুপরিকল্পিত ও গভীর চক্রান্ত চলছে।’

শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে এখনকার রাজনীতিতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন করে সমাজের কাছে, রাজনীতির কাছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের হীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি মূলত রাজনীতিকে ধ্বংস করার একটি চক্রান্ত এবং এটি সুস্থ রাজনীতির জন্য কোনো শুভ লক্ষণ নয়।’

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ব্যাখ্যা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকেই অনেক রকম চিন্তা করেন। কিন্তু বিএনপির মূল চরিত্র হচ্ছে এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘একটা বড় আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের পর আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আজ গণতন্ত্রকে বিপদে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সবকিছুকে ভেঙে ফেলা এবং মস্তহীন করার মধ্য দিয়ে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে একটি সরকার গঠন করতে পেরেছি। এখন এই সরকারের দায়িত্ব হবে দ্রুততার সঙ্গে এই চক্রান্তকে চিহ্নিত করে সঠিক খাতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা।’

স্মরণ সভায় প্রয়াত নেতাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাহবুবুল হক ও মাহবুবুল আলম তারা ভাইয়েরা এমন এক সময়ে রাজনীতি করেছেন যখন রাজনীতিতে এথিক্স, মোরালিটি ও মূল্যবোধ ছিল। তারা সবসময় জনগণের কল্যাণ, মানুষের সমস্যার সমাধান এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে গেছেন।’

রিফাত/

হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নোয়াখালীর হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়দেইল গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

অভিযোগ তোলা ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে।

সম্প্রতি তিনি ফেসবুক লাইভে এসে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর কাছে তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। আবদুল গাফফার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

ছাত্রদল নেতা আবদুল গাফফার বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হান্নান, রিফাত ও মাহিমকে সেফ হোমে রেখে আমি বাঁচিয়েছি। তখন তাদের ভিডিওবার্তা থেকে সব কাজ আমি করে দিতাম। হাতিয়ার রাজনীতিতে তাকে আমিই প্রতিষ্ঠিত করেছি। তার কারণে হান্নানের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার রাজনৈতিক গার্ডিয়ান হিসেবে ৫ আগস্টের পর দেড় মাস আমি তার সঙ্গে ছিলাম। যার কারণে তার অনেক কিছু আমি জানি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিন কোটি টাকা দাবি করেন। তখন আমি এতে বাধা দিই।’

গাফফার অভিযোগ করে বলেন, ‘হান্নানের তিন কোটি টাকা দাবির এ ঘটনা গত বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খানকে জানাই। পরে এ নিয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর আমি রাশেদ খানের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি আমার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করি। এ ঘটনার পর থেকে হান্নান মাসউদ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা আমাকে ফেসবুকে নানা ধরনের হুমকি ও গালাগাল দিতে থাকে। আমাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি হান্নান মাসউদকে জানাই। তিনি বলেন, ওই সব লোকজন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা তার কথা শোনে না। তারা যা করার করুক।’

ছাত্রদল নেতা গাফফারের দাবি, ‘চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁসের পর হান্নানের যোগসাজশে তার অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় হামলাকারীরা আমাদের ভবনের একটি জানালা ভাঙচুর করে এবং প্রধান ফটকে হামলা চালায়। পরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে চলে যায়। আমার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) একাই বাড়িতে থাকেন। তারা এখনও ভীতসন্ত্রস্ত। মা-বাবা বলছেন, আমি যেন আর কোনো বক্তব্য না দিই। আবারও তারা বাড়িতে হামলা করতে পারে।’

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তিন কোটি টাকা দাবির স্ট্যাটাস দেওয়ায় গত দুই দিন ধরে ছাত্রদল নেতা গাফফারকে প্রকাশ্যে হান্নান মাসউদের অনুসারী এনসিপির নেতা-কর্মীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। যারা হুমকি দিয়েছে, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল তিবরিজ বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা গাফফার দৃঢ়ভাবে বলছে, এটা এনসিপির নেতা-কর্মীরা করেছে। তাহলে আমরা ধরে নেব, তারা নিজেরাই ভাইরাল হওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয় এমপি মুঠোফোনে আমাকে বিষয়টি অবহিত করার পর আমি ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িতে হামলা হয়। আমি সেগুলোই সামাল দিতে পারি না, আরেকজনের বাড়িতে হামলা করব কেন? পুরো বিষয়টি একটি সাজানো নাটক, যাতে আমাকে হেয় করা যায়। চেষ্টা করে যাক, দেখা যাক তারা কী করতে পারে।’

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে একতলা ভবন। ওই ভবনের দক্ষিণ পাশে অন্ধকার। ওই দিক থেকে কেউ একজন ঢিল মেরেছে। ইটের টুকরা এসে পড়লে জানালার একটি অংশ ভেঙে যায়। কে মারছে, কাউকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মজনু/রিফাত/