গাইবান্ধায় সভা-সমাবেশ করে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও সাঘাটা উপজেলা সদস্যসচিব নয়ন মিয়া তার অনুসারীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এতে নির্বাচনের এক দিন আগে থেকে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও তা মানা হয়নি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাঘাটা উপজেলার ডাকবাংলা বাজার এলাকায় আয়োজিত এক সভায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপ।
প্রধান অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা-৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফারুক আলম সরকার।
উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল কবির রাঙ্গা, জেলা বিএনপির সদস্য জিল্লুর রহমান, কামরুজ্জামান সোহাগসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
আলোচনা শেষে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন বিএনপির নেতারা।
যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল নবি টিটুল বলেন, জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন আতা। বিএনপি চাইলে কেউ যখন তখন যোগ দিতে পারেন।
এদিকে নির্বাচনের একদিন আগে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও সভা-সমাবেশ হচ্ছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে বলে জানান অন্য প্রার্থীরা।
এই আসনের অন্য এমপি প্রার্থীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। তার পরও নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তারা যোগদান সভা করেছেন। প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে, সেটি দেখার পালা?
এ প্রসঙ্গে আতাউর রহমান সরকার আতা বলেন, আমি জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক চ্ছিন্ন করে বিএনপির সঙ্গে একত্রিত হয়েছি। আমার ভক্ত যারা, তারা এই বার্তা পাওয়ার পর সব বাধা অতিক্রম করে ধানের শীষে ভোট দেবেন।
এ বিষয়ে জেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি সরওয়ার হোসেন বলেন, সাঘাটা উপজেলা জাপার আহ্বায়ক আতাউর রহমান ও সদস্যসচিব নয়নকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ হলেও সভা-সমাবেশ হচ্ছে- জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাঠিয়ে সভার আলামত সংগ্রহ করে নির্বাচনি অনুসন্ধান টিমের কাছে পাঠানো হয়েছে। আইন অমান্য করে সভা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রফিক খন্দকার/অমিয়/