চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন। দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে এই ইউনিয়নের অধিকাংশ নারী এক পীরের কথা মেনে ভোট দিতে যান না। মাঝেমধ্যে কিছু নারী ভোট দিলেও সেই সংখ্যা খুবই নগণ্য। তবে এবার এ অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইউনিয়নটির নারীদের কথা ভেবে প্রশাসন থেকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্রের সকল পর্যায়ে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলা নিয়ম ভাঙতে চলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সত্তরের দশকে জৈনপুরের এক পীরের অনুরোধ মেনে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি নির্বাচনে অল্পসংখ্যক নারী ভোট দিলেও তা ছিল নামমাত্র। তবে ভোট ছাড়া অন্য সামাজিক ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডে এই ইউনিয়নের নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।
এমন বাস্তবতার পরিবর্তন আনতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সরকার নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের পরিকল্পনা নেন। পর্দা বজায় রেখে নারীদের ভোটদান সহজ করতে ইউনিয়নের আটটি কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে নারী ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার ২৯৯।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের আটটি ভোটকেন্দ্রে নারীদের জন্য ২০টি পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এসব বুথে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ভোট গ্রহণের সব পর্যায়ের দায়িত্বে থাকবেন নারী কর্মকর্তারা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নারী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী আটজন প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নারী বুথগুলোতে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে চিঠি ও মৌখিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। এরই মধ্যে ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে নারীদের ভোটদানে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, নারীদের পর্দা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভোটদানের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে। আশা করছি, এবার রূপসা দক্ষিণের নারীরা দীর্ঘদিনের বাধা পেরিয়ে তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকেন্দ্রে যাবেন।