সিলেটের জকিগঞ্জের ৮ নম্বর কসকনকপুর ইউনিয়নে এক সপ্তাহ ধরে সড়কের ইট চুরি হচ্ছিল। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। প্রায় ১৫ লাখ টাকার ইট চুরির ঘটনায় গত বুধবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এরপর বুধবার রাতেই এলাকাবাসী এক হয়ে চুরি হওয়া ইট খুঁজতে থাকেন। তখন তারা দেখতে পান, চুরির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ করা জকিগঞ্জ উপজেলা যুব জামায়াতের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজের বাড়িতেই সবচেয়ে বেশি চুরির ইট জমা আছে। এলাকাবাসী তখন ঘটনার ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন।
এদিকে এ-সংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর মাহফুজসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ, বিজিবিসহ টাস্কফোর্স সরেজমিনে অভিযান চালায়। যার যার বাড়িতে এসব ইট পাওয়া যায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, কসকনকপুর ইউনিয়নের মুনশীবাজার মাদ্রাসা থেকে উত্তর আইয়র বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত সড়কটি আগে হেরিং বন্ড পদ্ধতিতে সংস্কার করা হয়েছিল। সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে ওই এলাকায় মাটি কাটার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা রাতের আঁধারে সড়কের ইট তুলে নিচ্ছিল। এ ছাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সংযোগ সড়কে সরকারি বরাদ্দে ইট সলিংয়ের কাজ চলমান। রাতের বেলায় ওই সড়ক থেকেও ধীরে ধীরে ইট সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ইট উধাও হয়ে গেছে বলে এক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর পক্ষে আবু ইউসুফ মোহাম্মদ তাজুল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ওই অভিযোগ দেন।
‘জিসান আহমদ’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে বুধবার রাত ২টার দিকে লাইভে দেখানো হয়, এলাকাবাসী রাস্তার চুরি হওয়া ইটের খোঁজ করছেন। এ সময় তারা দেখতে পান উপজেলা যুব জামায়াতের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ ও তারা চাচার বাড়িতে অসংখ্য ইট পড়ে আছে। ইটগুলোতে রাস্তার মাটি লেগে আছে।
তখন একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘মাহফুজ জামায়াত করে। সে মেম্বারের ভাইয়ের ছেলে। আমি একটি ইটও নিইনি। কিন্তু আমি জানি, ইট দেওয়ার জন্য মাহফুজ ফিতা হাতে নিয়ে মানুষকে রাস্তার অংশ ভাগ করে দিয়েছে। সে মাথায় ক্যামেরা লাগিয়ে হেঁটে হেঁটে দেখিয়ে দিয়েছে। আর তার গ্রামের মানুষজন ইট চুরি করে নিয়েছে।’
অন্যদিকে রাতেই মাইকে ঘোষণা দিয়ে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার মধ্যে চুরি করা ইট মসজিদের পাশে জমা রাখতে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না করা হয় তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জকিগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন মিয়া বলেন, ‘ইউএনওর নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়েছে। যার বাড়ির সামনে ইট পাওয়া গেছে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান চলমান। সবার নাম-পরিচয় পরে জানানো হবে।’