দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা যশোরের ঝিকরগাছার নাভারণে আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সহায়তায় এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী কাশেম শিকদার ও কামাল হোসেনসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে এসে পূর্বের ন্যায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, ঝিকরগাছার ইসলামপুর গ্রামের বিএনপি নেতা কাশেম ও নাভারণ বাজার এলাকার বিএনপির এক শীর্ষ নেতার সহায়তায় এলাকায় অবস্থান করছে ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শীর্ষ সন্ত্রাসী কাশেম শিকদার, একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শীর্ষ সন্ত্রাসী কামাল হোসেনসহ অন্যান্য আরও কিছু আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। বিএনপি নেতাদের সহায়তায় সন্ত্রাসীরা এলাকায় ফিরে আসায় মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিগত সরকারের আমলে নির্যাতন-হামলা-মামলা ও চাঁদাবাজির শিকার স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ নেতা কাশেম শিকদার ও তার বড় ছেলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মী ইয়াসিন শিকদার ও তার ছোট ছেলে (নাশকতা মামলায় বর্তমানে জামিনে) যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান শিকদার ও তাদের সহযোগী একই গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আওয়ামী লীগ কর্মী আলাল উদ্দিন গ্রামে প্রায়ই এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন। ফলে এলাকার বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হারুনর রশিদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কামাল হোসেন ও হান্নু আমার কাছ থেকে মাছের ঘের কাটার ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছে। তারা এখন গ্রামের বিএনপি নেতাদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে এসেছে। আমার টাকা ফেরত না দিলে আমি কয়েকদিনের মধ্যেই কামাল ও হান্নুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করবো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিএনপি নেতা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শীর্ষ সন্ত্রাসী কাশেম শিকদার ও কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে সালিশ বাণিজ্য, জমি দখল, চাঁদাবাজি, বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়াসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ১৭ বছর বাড়িছাড়া, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়েছেন। বড় দুঃখ লাগে বিএনপির নেতাদের সহায়তায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কীভাবে এলাকায় ফিরে আসলো? মাঝে মাঝে মনে হয় রাজনীতি ছেড়ে ঘরে বসে থাকি।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জালাল বলেন, খুব শিগগিরই এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হবে। তিনি বলেন, ঝিকরগাছায় কোনো সন্ত্রাসীদের জায়গা হবে না।
নজরুল ইসলাম/নাঈম