ঢাকা মহানগরীর ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন এলাকায় ২০২৫ সালের অক্টোবর শেষ থেকে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত পথবিড়ালের ওপর ধারাবাহিক এবং নিষ্ঠুর আঘাতের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মাত্র চার দিনের মধ্যে কমপক্ষে চারটি বিড়ালের চোখ ইচ্ছাকৃতভাবে উপড়ে ফেলা হয়েছে। উদ্ধারকারী এবং পশুচিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং মানুষের সুনির্দিষ্ট এবং স্যাডিস্টিক আক্রমণ। স্থানীয় গণমাধ্যমে অপরাধটিকে ‘অজানা সাইকো’ দ্বারা সংঘটিত হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা প্রায়শই পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার বা কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের লক্ষণ, যা ভবিষ্যতে মানব-ভিত্তিক সহিংসতার পূর্বাভাস দিতে পারে। উদ্ধারকৃত বিড়ালগুলো সাদা, কালো এবং কালো-কমলা রঙের; সবার চোখ ইচ্ছাকৃতভাবে উপড়ে ফেলা হয়েছে। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, ‘এটি কোনো অ্যাক্সিডেন্ট নয়। মানুষ এ কাজ করেছে।’ প্রাকৃতিক শিকার বা দুর্ঘটনার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, চারটি বিড়ালই বেঁচে ছিল, কিন্তু চোখ ছিল না। অপরাধীর লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা প্রদর্শন এবং অন্যের কষ্টে সন্তুষ্টি লাভ। মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে এটি ‘স্যাডিজম’ এবং কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের প্রকাশ। আইনগতভাবে, প্রাণীকল্যাণ আইন-২০১৯ অনুসারে চোখ উপড়ে ফেলা একটি ‘অঙ্গচ্ছেদ’, যার সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। তবে ধারাবাহিক স্যাডিজমের ক্ষেত্রে এ শাস্তি যথেষ্ট প্রতিরোধক নাও হতে পারে। সামাজিক প্রতিক্রিয়া দ্রুত এসেছে। মানববন্ধন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ এবং উদ্ধারকৃত বিড়ালদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃত বিড়ালগুলো বর্তমানে ফস্টার কেয়ারে রয়েছে এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে তারা ধীরে ধীরে মানবের প্রতি আস্থা ফিরে পাচ্ছে।
ইব্রাহীম খলিল
শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]