বর্তমানে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষার অনিয়ম একটি ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতি বছরই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে, যা শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশার সৃষ্টি করছে। প্রশ্নফাঁসের ফলে প্রকৃত মেধাবীরা তাদের ন্যায্য মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করেও তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের দেখা পাচ্ছে না, অন্যদিকে অযোগ্য শিক্ষার্থীরা অন্যায়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার প্রতি আস্থা হারিয়ে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রশ্নপত্র পরিবহন ও সংরক্ষণে দুর্বলতা, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলা, পরীক্ষার হলে নকলের সুযোগ, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার- সব মিলিয়ে আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতি ও শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, পরীক্ষার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ছে বা টাকার বিনিময়ে কিছু অসাধু মানুষ প্রশ্নফাঁস করছে। মেধার পরিবর্তে প্রতারণার ব্যবহার চলতে থাকলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়বে এবং জাতির ভবিষ্যৎ তৈরির ক্ষেত্রেও মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করবে। একসময় তা সমাজে অন্যায় ও দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করবে। পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, প্রশ্ন সংরক্ষণ ও পরিবহনে আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তির ব্যবহার, পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া নজরদারি জরুরি।
শিক্ষার্থী, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]