শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নদী ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে নদীগুলো ক্রমেই স্বাভাবিক রূপ হারাচ্ছে। দেশের নদীমাতৃক পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় জলজ পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য ও সামগ্রিক অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়ছে। ঢাকাসহ দেশের নদীগুলোতে দূষণের মাত্রা আজ বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, ট্যানারি ও ডাইং কারখানার রাসায়নিক পদার্থ, পলিথিন, গৃহস্থালি এবং হাসপাতালের বর্জ্য। নদীগুলোতে মাইক্রো-প্লাস্টিকের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। যেমন- টঙ্গী খালে প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি মাইক্রো-প্লাস্টিক কণিকা পাওয়া গেছে, যা বহু আন্তর্জাতিক নদীর তুলনায় অনেক বেশি। ঢাকার বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ের পানিতে গড়ে প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ৩৬ হাজার মাইক্রো-প্লাস্টিক কণিকা রয়েছে। ঢাকার আশপাশের নদীগুলো দূষণের সংখ্যাগরিষ্ঠ উৎস শিল্প waste outlets প্রায় ১০২৪টি পর্যন্ত বেড়েছে, যেখানে আগে ছিল ৬০৮টি। নদীনির্ভর মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হওয়ায় জেলেদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। কৃষিকাজে দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং খাদ্যচক্রে বিষাক্ত উপাদান প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন থাকলেও দুর্বল তদারকি ও প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে দূষণকারীরা প্রায়ই দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। নদী রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ করা জরুরি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ সংকট আরও গভীর হবে, যার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও থাকবে না।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইসলাম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]