জুলাই অভ্যুত্থানের পর ইন্টেরিম সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। জনসাধারণ চায় একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ইতোমধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র। নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা শাসক ও প্রতিনিধি নির্বাচন, মতপ্রকাশের অধিকার লাভ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে নির্বাচন এলেই সহিংসতা, অস্থিরতা, খুন ও আতঙ্ক যেন অবধারিত হয়ে ওঠে। এ অস্থিরতা তৈরির পেছনে কাদের হাত রয়েছে? অন্তর্বর্তী সরকার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন। নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত না হয়েও তাদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। কর্মজীবী দিনমজুর মানুষজন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছেন না। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো নির্বাচনই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক হতে পারে না। এ নির্বাচন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর বিষয় নয়। এটি পুরো জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রক্রিয়া। তাই নির্বাচনকে ঘিরে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা এখন সময়ের জোরালো দাবি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে তুলতে। সহিংসতার রাজনীতি নয়- শান্তি, সংলাপ ও আইনের শাসনের পথেই এগিয়ে যাওয়া উচিত। এটিই জাতির প্রত্যাশা, এটিই গণতন্ত্রের দাবি।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইসলাম
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]