সাম্প্রতিক সময়ে বাজার ও হোটেলগুলোতে ভেজাল এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের আধিক্য জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের সংবাদপত্রের পাতায় তাকালে দেখা যায়, মুড়ি থেকে শুরু করে দুধ, মাছ এমনকি জীবন রক্ষাকারী ওষুধেও মিশছে ক্ষতিকর রাসায়নিক। বিশেষ করে রাস্তার পাশের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে পচা-বাসি খাবার পরিবেশন এবং নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন একটি নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। রান্নায় ব্যবহৃত সস্তা ইন্ডাস্ট্রিয়াল রং এবং নিম্নমানের তেলের কারণে সাধারণ মানুষ ক্যানসার, কিডনি বিকল হওয়া এবং লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
মুনাফালোভী একদল ব্যবসায়ীর অনৈতিক লালসার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে কোটি মানুষের জীবন। নিরাপদ খাদ্য আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ ও নিয়মিত তদারকির অভাবে পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। কেবল বিশেষ অভিযানে কয়েক হাজার টাকা জরিমানা করে এ ভয়াবহতা বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রতিটি জেলা ও উপজেলার বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আরও জোরদার করতে হবে এবং দোষীদের কেবল অর্থদণ্ড নয় বরং দৃষ্টান্তমূলক কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া আমদানিকৃত ও উৎপাদিত প্রতিটি খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিয়মিত ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ জীবন উপহার দিতে নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। আশা করি, কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বাজার ও হোটেলের খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
ওসমান গনি
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[email protected]